ঢাকা মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬
৩০ °সে


বিটিআরসির দাবির বিরুদ্ধে গ্রামীণফোন রবির মামলা

বিটিআরসির দাবির বিরুদ্ধে গ্রামীণফোন রবির মামলা

নিরীক্ষা আপত্তির ‘পাওনা’ টাকা আদায়ে বিটিআরসির দাবিকে ‘অযৌক্তিক ও ত্রুটিপূর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করে মীমাংসার জন্য আলাদাভাবে মামলা করেছে দেশের দুই শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবি। ঢাকার দেওয়ানি আদালতে গত ২৫ আগস্ট রবি এবং ২৬ আগস্ট গ্রামীণফোন মামলা দুটি দায়ের করে।

রবি আজিয়াটা লিমিটেডের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার শাহেদ আলম ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিটিআরসির নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উত্থাপিত প্রশ্নবিদ্ধ আপত্তিসমূহ আলাপ-আলোচনা এবং বিকল্প সালিশ নিষ্পত্তির (আরবিট্রেশন) মাধ্যমে সমাধানে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিটিআরসি আমাদের সেই প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ নিরীক্ষা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দাবিকৃত অর্থ আদায়ে আইনবহির্ভূত পদক্ষেপ নিয়েছে।’ এই পরিস্থিতিতে আদালতে যাওয়া ছাড়া রবির বিকল্প ছিল না মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন এবং এ বিষয়ে এই মুহূর্তে অন্য কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয়।

মামলার বিষয়ে গ্রামীণফোনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যে অডিটের ভিত্তিতে বিটিআরসি অযৌক্তিক অর্থ দাবি করছে, সেটার প্রক্রিয়া, কার্যপ্রণালি ও ফলাফল নিয়ে আমরা বরাবরই আপত্তি জানিয়ে এসেছি। ত্রুটিপূর্ণ ঐ অডিট ঘিরে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে আমরা বারবার সালিশি প্রক্রিয়াসহ স্বচ্ছ ও গঠনমূলক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু তাতে সাড়া না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করে গ্রামীণফোন বলেছে, দুঃখজনকভাবে আমাদের সব প্রচেষ্টা বিটিআরসি অগ্রাহ্য করেছে এবং এই অযৌক্তিক অডিট দাবি আদায়ে অন্যায্যভাবে বল প্রয়োগ করেই যাচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তারা মামলা দায়ের করতে বাধ্য হয়েছে। বিষয়টি এখন আদালতে বিবেচনাধীন।’

মামলার বিষয়ে বিটিআরসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) জাকির হোসেন খান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তারা ‘অবগত’।

বিটিআরসির দাবি, গ্রামীণফোনের কাছে নিরীক্ষা আপত্তি দাবির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে তাদের। টাকা পরিশোধে বিলম্বের মাশুল ও সুদ ধরা হয়েছে এর মধ্যে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১-এর ৪৬(২) ধারা অনুযায়ী মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির টুজি ও থ্রিজি সেবার লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তা জানাতে বলা হয় নোটিশে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নোটিশের জবাব না দিলে বা পাওনা টাকা পরিশোধ না করলে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে এ দুই অপারেটরে প্রশাসক নিয়োগের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও বিটিআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন