ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬
৩১ °সে


বিক্ষোভের মুখে আবরারের বাড়িতে ঢুকতে পারেননি বুয়েট উপাচার্য

পুলিশের লাঠিচার্জ আবরারের ভাই আহত
বিক্ষোভের মুখে আবরারের  বাড়িতে ঢুকতে পারেননি বুয়েট উপাচার্য
কুষ্টিয়া :পুলিশের লাঠিপেটায় আহত আবরারের ছোট ভাই ফাইয়াজকে উদ্ধার করে বাড়ি নেওয়া হচ্ছে —ইত্তেফাক

নিহত মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদের গ্রামে গিয়ে বুয়েট ভিসি ড. সাইফুল ইসলাম বিক্ষুব্ধ জনতার তোপের মুখে পড়েছেন। আবরারদের বাড়ির কাছাকাছি গেলেও তীব্র জনরোষের কারণে বাড়িতে ঢুকতে পারেননি তিনি। একপর্যায়ে পুলিশ ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। এতে আবরারের ছোটো ভাই আবরার ফায়াজ ও ফুফাত ভাইয়ের স্ত্রীসহ কয়েকজন আঘাত পান। পরে ভিসি সাইফুল ইসলাম ডিসির গাড়িতে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

গতকাল বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ভিসি সাইফুল ইসলাম কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে যান। পৌনে ৫টার দিকে তিনি প্রথমে আবরারের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় ফাহাদের দাদা আবুল কাশেম বিশ্বাস ভিসিকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ, ছোটো ভাই আবরার ফায়াজও ভিসির সঙ্গে কবর জিয়ারত করেন।

কবর জিয়ারত শেষে অদূরে আবরারের বাড়িতে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা ভিসিকে বিভিন্ন প্রশ্ন ছুড়তে থাকেন। তবে ভিসি সাংবাদিকদের প্রশ্নের সদুত্তর দিতে না পারায় উপস্থিত শত শত গ্রামবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ভিসিকে গ্রামবাসী অবরুদ্ধ করে রাখে। প্রশ্নবানে জর্জরিত ভিসির তখন হতবিহ্বল অবস্থা। আবরারের লাশ দেখতে না আসা, ঢাকায় আবরারের প্রথম জানাজায় ভিসির অনুপস্থিতি, হত্যাকাণ্ডের পর আবরারের পরিবারকে বুয়েট প্রশাসনের অসহযোগিতাসহ নানা প্রশ্ন উত্থাপন করেন গ্রামবাসী। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। পুরো রায়ডাঙ্গা গ্রাম উত্তাল হয়ে ওঠে। হত্যাকারীদের ফাঁসি ছাড়াও ভিসির পদত্যাগের দাবিতেও গ্রামবাসীরা স্লোগান দিতে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এ সময় চেষ্টা করেও জনতাকে নিবৃত্ত করতে পারেনি। একপর্যায়ে লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। অবস্থা বেগতিক দেখে ফাহাদের বাড়িতে প্রবেশ না করেই বাড়ির সামনে থেকে ভিসি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া প্রহরায় ডিসির গাড়ি করে রায়ডাঙ্গা গ্রাম ত্যাগ করেন। পরে ভিসি সাইফুল ইসলাম কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। তবে ঘটনার সময় রায়ডাঙ্গা গ্রামে নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান (ডিএসবি) এ ঘটনায় কেউ আহত হননি বলে দাবি করেন।

ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ কান্না জড়িত কষ্টে বলেন, ‘আমি কিছুই চাই না, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেন আমার ছেলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করেন। এটাই এখন আমার একমাত্র চাওয়া-পাওয়া।’ নিহতের ছোটো ভাই আবরার ফায়াজ সাংবাদিকদের জানান, আমার ভাইকে খুন করা হলো। আর এখন পুলিশ আমাকে আঘাত করেছে। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন জানান, বুয়েটের ভিসি ড. সাইফুল ইসলাম নিহত ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন