ঢাকা সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৪ °সে


দুর্নীতি থাকলেই সব অকেজো হয়ে যায় না

বিবিসিকে সাক্ষাত্কারে অভিজিত্ ব্যানার্জি
দুর্নীতি থাকলেই  সব অকেজো  হয়ে যায় না

সদ্য নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অভিজিত্ বিনায়ক ব্যানার্জি মনে করেন, একটি দেশে দুর্নীতি থাকলেই সবকিছু অচল হয়ে যায় না। কোনো একটি বিষয় দারিদ্র্য বিমোচন আটকে রাখে না। এর সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত। দুর্নীতি থাকলেই সবকিছু অকেজো হয়ে যাবে তা নয়। দুর্নীতির ভেতরেও অনেক কিছু হয়, পরিবর্তন হয়। দারিদ্র্য বিমোচনে অনেক সমাধান লাগবে। গতকাল বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এসব কথা বলেন। এমন সময় তিনি এই সাক্ষাত্কার দিলেন যখন (গতকাল বৃহস্পতিবার) বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বিমোচন দিবস পালিত হয়েছে।

টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাত্কারে অভিজিত্ ব্যানার্জি বলেন, যারা দুর্নীতিতে জড়িয়ে থাকে, তাদের ভোটে জেতার আশা থাকে। ইন্দোনেশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট সুহার্তোর উদাহরণ টেনে বলেন, তিনি ‘বিখ্যাত দুর্নীতিগ্রস্ত প্রেসিডেন্ট’ ছিলেন বলে নানা লোকে বলে। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ায় সবার জন্য স্কুল এবং অপুষ্টি দূর করার ওপর জোর দিয়েছিলেন তিনি।

দারিদ্র্য বিমোচন ও মধ্যবিত্তদের মার খাওয়া

অভিজিত্ ব্যানার্জির সঙ্গে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন তার ফরাসি স্ত্রী এসথার ডুফলো এবং মার্কিন অর্থনীতিবিদ মাইকেল ক্রেমার। পুরস্কার পাওয়ার পরে ডুফলো বলেন, গত ৩০ বছরে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে অতি ধনী এবং অতি দরিদ্র গ্রুপ লাভবান হয়েছেন। এর অর্থ কী মধ্যবিত্তরা মার খাচ্ছে? অভিজিত্ বলেন, হ্যাঁ, তারা মার খেয়েছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবিত্তরা মার খেয়েছে এবং দরিদ্ররাও মার খেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে যারা দরিদ্র, তারাও পৃথিবীতে মধ্যবিত্ত। তবে দরিদ্র দেশের দরিদ্র লোকেরা মার খায়নি। ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং চীন—এসব দেশের দরিদ্রদের উন্নতি হয়েছে। পৃথিবীর নতুন ধন-সম্পদ সব ধনীদের কাছে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখান থেকে দুই-চার ফোঁটা যেগুলো ছিটকে যাচ্ছে সেগুলোও যদি গরিবরা পায় তাতেই তারা এগিয়েছে। কারণ তারা এতোটাই দরিদ্র যে সে দুই-চার ফোঁটাও তাদের কাজে লাগছে।

দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ব্র্যাকের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে দারিদ্র্য একটি সমস্যা নয়, এটা বহুমাত্রিক সমস্যা। ব্র্যাক অনেক আলাদা ধরনের প্রোগ্রাম করে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য-শিক্ষাও রয়েছে। তাদের ধারণা আমাদের মতোই। নানা সমস্যার নানা সমাধান আছে।

অভিজিত্ ব্যানার্জিকে নিয়ে ভারতে বিতর্ক

নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির পরে অভিজিত্ ব্যানার্জিকে নিয়ে ভারতে বেশ বিতর্ক হচ্ছে। বলা হচ্ছে, তিনি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর উপদেষ্টা ছিলেন। এ বিষয়ে অভিজিত্ জানান, তিনি এই বিতর্কে জড়াতে চান না। তাছাড়া তিনি কখনো রাহুল গান্ধীর উপদেষ্টা ছিলেন না। তিনি বলেন, আবুদল লতিফ জামিল ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি গুজরাটে মোদি সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জির সঙ্গেও কাজ করেছেন। অভিজিত্ ব্যানার্জির চিন্তা হচ্ছে, দরিদ্রদের উন্নয়নের জন্য অর্থ যাতে ঠিক মতো খরচ করা হয় সেদিকে নজর দেওয়া। কোনো রাজনৈতিক দল সেটি করছে তা মুখ্য বিষয় নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কলকাতা নিয়ে দুঃখ

ভারতের কলকাতা শহর অনেকের কাছে ‘নোবেল নগরী’ হিসেবে পরিচিত। এই শহরের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অমর্ত্য সেন এবং মাদার টেরিজার মতো নোবেল বিজয়ীর তালিকায় যুক্ত হলেন অভিজিত্ও। তিনি বলেন, কলকাতা একসময় ভারতবর্ষের সবচেয়ে বড়ো ও এগিয়ে থাকা শহর ছিল। সেই দিনটা এখন চলে গেছে কলকাতার। সেটাই দুঃখের কথা। অনেকে কলকাতায় বসে রিসার্চ করেছিল। রবীন্দ্রনাথ কলকাতায় বসে তার কাজ করেছিলেন। সেটা কলকাতায় যে হচ্ছে না সেটাই দুঃখজনক।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন