ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২১ °সে


ব্রেক্সিট নিয়ে ইইউ ব্রিটেন সমঝোতা

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে অনুমোদন নিয়ে সংশয়
ব্রেক্সিট নিয়ে ইইউ ব্রিটেন সমঝোতা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ব্রিটেনের বিচ্ছেদ (যা ব্রেক্সিট নামে পরিচিতি পেয়েছে) কার্যকরে নতুন একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ। গতকাল বৃহস্পতিবার ইইউ সম্মেলন শুরুর আগে এ সমঝোতার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে বরিস জনসনের সরকার। তবে চুক্তিটি তার দেশের পার্লামেন্ট অনুমোদন করবে কি না সে আশঙ্কা রয়ে গেছে। অনুমোদন না পেলে এতদিনের চেষ্টা-তদবির ফের বাধার মুখে পড়বে। বরিস সরকারের কোয়ালিশন পার্টনার নর্দান আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি) চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই চুক্তিতে সমর্থন দেবে না। দলটি এ অবস্থানে অনড় থাকলে সেটা বরিসের সরকারের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

জানা গেছে, ব্রেক্সিট নিয়ে বিবাদের জের ধরে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের ২০ জন আইনপ্রণেতাকে দল থেকে বহিষ্কারের কারণে পার্লামেন্টে সরকারের কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতার ধারেকাছেও নেই ক্ষমতাসীনেরা। যদিও প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সব পক্ষকে উত্সাহ দেওয়ার জন্য বলেছেন, ‘আমরা একটি চমত্কার চুক্তি পেয়েছি। এটি আমাদের দেশের নিয়ন্ত্রণ আমাদের কাছে ফিরিয়ে আনবে।’

অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ ক্লদ জাঙ্কার এটিকে ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি বলে মন্তব্য করেন। চুক্তিটি অনুমোদনে ইইউর সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটাই বিচ্ছেদপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চূড়ান্ত সময়। যত দ্রুত সম্ভব আমাদের উচিত যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ইইউর ভবিষ্যত্ বাণিজ্য সম্পর্ক নির্ধারণের কাজ শুরু করা।’ সমঝোতার পর উভয় পক্ষের আইনজীবীরা এখন চুক্তিটি স্বাক্ষরের জন্য এর লিখিত রূপ চূড়ান্ত করছেন।

ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এর আগে একটি চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন। কিন্তু দেশটির পার্লামেন্ট তা তিন দফায় প্রত্যাখ্যান করে। যে কারণে বিচ্ছেদের দিনক্ষণ গত ২৯ মার্চ থেকে দুই বার পিছিয়ে ৩১ অক্টোবর করা হয়। আর ব্রেক্সিট কার্যকর করতে না পারায় প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন থেরেসা মে।

১৯ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট চুক্তি চূড়ান্ত করতে না পারলে বিচ্ছেদের দিনক্ষণ পেছাতে সরকারকে বাধ্য করতে আইন পাশ করে রেখেছে পার্লামেন্ট। কিন্তু বরিস জনসনের সরকার বিচ্ছেদের দিনক্ষণ আর পেছাতে মোটেই রাজি নয়। যে কারণে বেশ তড়িঘড়ি করেই ইইউর সঙ্গে এই সমঝোতা করা হয়। পার্লামেন্টের অনুমোদনের জন্য আগামী শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, পার্লামেন্টে অনুমোদন লাভের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারলে তবেই চুক্তিটি ভোটে দেবেন প্রধানমন্ত্রী। চুক্তি অনুমোদনে পার্লামেন্টকে বাধ্য করার কৌশল হিসেবে বিচ্ছেদ পেছানোর দাবি নাকচ করার অনুরোধ জানিয়ে ইইউ নেতাদের কাছে চিঠিও দেবেন তিনি। খবর বিবিসি ও সিএনএন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন