৩৯ শতাংশ রপ্তানিকারক উত্পাদন ব্যয়ের নিচে ক্রয়াদেশ নিচ্ছে

পোশাকের দর নির্ধারণ বিষয়ে ফেয়ার ওয়্যার ফাউন্ডেশনের সেমিনারের তথ্য

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ইত্তেফাক রিপোর্ট

গার্মেন্টস খাতে মজুরি বাড়ার পরও বেশির ভাগ বিদেশি ক্রেতা দর বাড়াচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে মালিকপক্ষের। গতকাল ইউরোপভিত্তিক সংস্থা ফেয়ার ওয়্যার ফাউন্ডেশনের এক সেমিনারেও এমন তথ্য জানানো হয়েছে। একটি গবেষণার বরাত দিয়ে এতে বলা হয়, মজুরি বাড়ার পর মাত্র ১৩ শতাংশ ক্রেতা পোশাকের দর বাড়িয়েছেন। বাদবাকি ৮৭ শতাংশ ক্রেতা দর বাড়াননি। রপ্তানিকারকদের মধ্যে একটি বড়ো অংশ তাদের উত্পাদন খরচের নিচে পোশাক বিক্রি করছেন। এ সময় বলা হয়, ৩৯ শতাংশ রপ্তানিকারক তাদের উত্পাদন ব্যয়ের নিচে ক্রয়াদেশ নিচ্ছেন। দীর্ঘমেয়াদে এটি চলতে থাকলে শ্রমিকের মজুরি দেওয়ার সমস্যা এমনকি কারখানা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। উত্পাদন খরচের হিসাব নির্ধারণ এবং ক্রেতার সঙ্গে দর নির্ধারণ ইস্যু নিয়ে আয়োজিত ঐ সেমিনারে গার্মেন্টস বায়িং হাউজ, কারখানার উত্পাদন খরচের সঙ্গে যুক্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। এসময় কারখানার কর্মকর্তারা উত্পাদন ব্যয় এবং ক্রেতার কাছ থেকে দর পাওয়ার  বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

সেমিনারে পোশাকের আন্তর্জাতিক দর এবং বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নিয়ে একটি নিবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, মূলত চার কারণে উত্পাদন খরচের চেয়েও কম দরে ক্রয়াদেশ নেওয়া হয়। এর মধ্যে অন্যতম কারণ হলো হিসাবের ভুল। এছাড়া প্রতিযোগীদের ওপরে নিজের অবস্থান ধরে রাখা, ক্রেতার হুমকি এবং ভবিষ্যতের জন্য ক্রয়াদেশ ঠিক রাখা। তবে এর ফলে ৩৩ শতাংশ গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া ২৯ শতাংশ গার্মেন্টসের ক্ষেত্রে শ্রমিকের মজুরি প্রদানে সমস্যা হতে পারে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে কারখানার প্রতিনিধিরা জানান, অনেক সময় লোকসান কমানোর জন্য উত্পাদন ব্যয়ের নিচেও ক্রয়াদেশ নিতে হয়। অন্যদিকে উত্পাদন ব্যয় বাড়লেও ক্রেতারা বাড়তি মূল্য দিতে চান না। বরং দর কমিয়ে দিয়ে ভালো মানের পণ্য চান। এ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দীর্ঘমেয়াদে কারখানাগুলোর পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হবে বলেও জানান তারা। অবশ্য বিশ্বব্যাপী ক্রেতারা পোশাকের পেছনে কম ব্যয় করতে চাচ্ছেন বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একই কথা বলেছেন ঢাকায় ফেয়ার ওয়্যার ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ম্যানেজার কোয়েন উস্টারম। সেমিনারের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইউরোপের ক্রেতারা পোশাকের পেছনে ব্যয় কমিয়ে দিয়েছেন; কিন্তু ইলেক্ট্রনিক্স আইটেমে ব্যয় বাড়িয়েছেন। এর অর্থ এই নয় যে, তারা পোশাক কম কিনছেন। আসলে তারা কম দর দিয়ে পোশাক কিনছেন।

প্রতিবেদনেও এ বিষয়টি উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সালে ইউরোপে আমদানিকৃত বাংলাদেশের পোশাকের দর কমেছে ৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। একই সময়ে এ খাতে বাংলাদেশের উত্পাদন ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ।

সেমিনারে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সহসভাপতি ফজলে শামীম এহসান, ফেয়ার ওয়্যার ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশের প্রতিনিধি বাবলুর রহমান প্রমুখ।