ঢাকা সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬
২৭ °সে

কৃষিঋণে শুভংকরের ফাঁকি!

ব্যাংক থেকে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে এনজিওগুলো আদায় করছে ২৪ শতাংশ সুদ
কৃষিঋণে শুভংকরের  ফাঁকি!

কৃষকদের স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়ার জন্য নীতিমালা রয়েছে। মাত্র ৯ শতাংশ সুদে কৃষকদের ঋণ পাওয়ার কথা। অথচ তাদেরকে ২০ থেকে ২৪ শতাংশ সুদ গুনতে হচ্ছে। কারণ, কৃষিঋণের প্রায় পুরোটাই এনজিওর মাধ্যমে বিতরণ হচ্ছে। মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) নিয়মের কারণেই কৃষককে বাড়তি সুদ গুনতে হচ্ছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলো বলছে, গ্রামাঞ্চলে তাদের শাখা এবং জনবল না থাকার কারণেই তারা সরাসরি কৃষকদের ঋণ দিতে পারছে না। ফলে এনজিও লিংকেজের মাধ্যমে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। আর ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ ব্যাংকও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে বলছে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথভাবে কৃষকদের ঋণ দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছর যশোরের ২৭টি ব্যাংক প্রায় ২৫০ কোটি টাকা কৃষিঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। গত তিন মাসে প্রায় ৭ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ হয়েছে। এসব ঋণের সুদের হার মাত্র ৯ শতাংশ। আর ৪ শতাংশ রেয়াতি হার সুদে এক টাকাও বিতরণ হয়নি। অথচ এনজিও লিংকেজ ঋণে এরই মধ্যে বিতরণ হয়েছে ৩৩ কোটি ৫০ কোটি টাকা। আরো কোটি কোটি টাকা এনজিও লিংকেজ মাধ্যমে বিতরণের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে এনজিওগুলো মাত্র ৯ শতাংশ সুদে ঋণ নিলেও কৃষকদের কাছ থেকে আদায় করছে ২০ থেকে ২৪ শতাংশ সুদ।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের যশোর শাখার ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, মাঠ পর্যায়ে সুপারভিশনের লোক নেই বলে সরাসরি কৃষকদের ঋণ দিতে পারি না। তবে এনজিও লিংকেজে কৃষকদের জন্য আমরা ঋণ দিয়ে থাকি। এক্সিম ব্যাংকের যশোর শাখার কৃষিঋণ বিভাগের ইনচার্জ আনোয়ার কাদের বলেন, আমাদের কৃষিঋণের পুরোটাই এনজিও লিংকেজ। তাদের ব্যাংকে এনজিওদের বড়ো অ্যামাউন্টের এফডিআর আছে। তার ভিত্তিতেই ঋণ দেওয়া হয়। আর ঋণ দেওয়ার জন্য তেমন কৃষকও খুঁজে পাই না। তাই তাদের ঋণও দিতে পারি না।

এছাড়া প্রায় একই ধরনের কথা বলেছেন এবি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মো. এমদাদুল হক এবং ওয়ান ব্যাংকের জোনাল ম্যানেজার আবু সাঈদ মো. আব্দুল মান্নাফ।

শিশু নিলয় ফউন্ডেশনের মাইক্রো ফিন্যান্স বিভাগের পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জানান, তারা ইউসিবিএল, স্টান্ডার্ড, সাউথ ইস্ট ব্যাংক থেকে ১৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। এসব ঋণ তারা যশোর ছাড়াও ছয়টি জেলায় তাদের ৪৩টি শাখার মাধ্যমে বিতরণ করেন। এসব টাকার মধ্যে অতি দরিদ্র হলে ২০ শতাংশ এবং সাধারণ কৃষকদের ২৫ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হয়। এই সুদ হার নেওয়ার ক্ষেত্রে এমআরএর অনুমোদন রয়েছে।

জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের পরিচালক (মাইক্রো ফিন্যান্স) মো. আজিজুল হক বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এসব ঋণের জন্য সঞ্চয়ের একটি অংশ ব্যাংকগুলোতে তারা এফডিআর রাখে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক (কৃষিঋণ) মো. হাবিবুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, আগে বেসরকারি ব্যাংক কৃষিঋণ দিতই না। এখন লক্ষ্যমাত্রার ৩০ ভাগ কৃষকদের দিতেই হবে। বাকি ৭০ ভাগ এনজিও লিংকেজে দিতে পারবে। ৯ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে ২০-২৪ শতাংশ সুদে এনজিওদের কৃষিঋণ বিতরণ কৃষকদের সরকারি সহায়তার উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিয়ম মেনেই কৃষিঋণ বিতরণ করা হচ্ছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন