আজকের পত্রিকা
ঢাকা সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮এসএমই ফাউন্ডেশন ও ডিএসইর চুক্তি স্বাক্ষর
পুঁজিবাজার থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন এসএমই উদ্যোক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
পুঁজিবাজার থেকে ৫ কোটি টাকা থেকে ৩০ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করতে পারেন এসএমই উদ্যোক্তারা। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পুঁজিবাজার থেকে মূলধন আহরণের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর ক্ষিলখেতের ডিএসই টাওয়ারে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মো. মফিজুর রহমান এবং ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভূঁইয়া চুক্তি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন। ডিএসই চেয়ারম্যান মো. ইউনুসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান।
অনুষ্ঠানে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান বলেন, এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের এই সুযোগ নিঃসন্দেহে দেশের এসএমই খাতের জন্য একটি নতুন যুগের সূচনা করবে। তিনি আরো বলেন, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করাই যথেষ্ট নয়, একে সফল করতে হবে। তিনি এ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ডিএসই কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভূঁইয়া বলেন, বর্তমানে ৫ কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহের সুযোগ থাকলেও এসএমইর সংজ্ঞা পরিবর্তন হলে এর পরিমাণ আরো বাড়বে।
এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ভারতের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান ৬০ ভাগ, চীন ও জাপানে প্রায় ৭০ ভাগ হলেও বাংলাদেশে মাত্র ২৫ ভাগ। এই হার বাড়াতে উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে এসএমই ফাউন্ডেশন। তিনি আরো বলেন, দেশের এসএমই উদ্যোক্তাদের অন্যতম বড় সমস্যা পুঁজিসংকট। দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বছরে এ খাতে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হলেও প্রকৃত চাহিদা অন্তত তিন গুণ বা ৫ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার মতো। সেই সংকট সমাধানের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের সুযোগ করে দিতেই বিধিমালা তৈরি করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসি। তিনি এ সুযোগ গ্রহণ করতে উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
ডিএসই চেয়ারম্যান মো. ইউনুসুর রহমান বলেন, সরকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের দুই দফায় প্যাকেজ ঘোষণা করলেও নানা জটিলতায় বেশির ভাগ উদ্যোক্তা তার সুফল পাননি। সেক্ষেত্রে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে পারা তাদের জন্য একটা বড় সুযোগ। কারণ দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জায়গা হচ্ছে পুঁজিবাজার। তাই ব্যাংকে না গিয়ে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে তিনি এসএমই উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, বর্ণিত বিধি অনুসারে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পুঁজিবাজার থেকে মূলধন আহরণের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ৩০ এপ্রিল ২০১৯ থেকে ‘ডিএসই এসএমই’ প্ল্যাটফরম চালু করেছে। এই প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে এসএমই খাতভুক্ত কোম্পানিসমূহ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে পুঁজি সংগ্রহ করতে পারবে।

