ঢাকা বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬
২৭ °সে


বাজেটে কর্পোরেট কর কমানোসহ আইন সহজ করার প্রস্তাব

বাজেটে কর্পোরেট কর কমানোসহ  আইন সহজ করার প্রস্তাব

ইত্তেফাক রিপোর্ট

আসছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে কর্পোরেট কর কমানোসহ আইনের প্রয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছে দ্য ইন্সটিটিউট অব চার্টার্ড একাউনটেন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)। সেইসঙ্গে বাজেটে আইনের বৈপরীত্য পরিহার ও ফাঁক-ফোকর হ্রাসকরণ, বিনিয়োগ কার্যক্রমকে অধিকতর উত্সাহ ও দেশ থেকে মূলধন পাচার নিরুত্সাহিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল আইসিএবি ভবনে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি জানানো হয়। ট্যাক্সেশন ও কর্পোরেট ল’জ কমিটির চেয়ারম্যান ও আইসিএবি’র কাউন্সিল মেম্বার মো. হুমায়ুন কবীর সংবাদ সম্মেলনে মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন। বক্তব্য রাখেন আইসিএবি’র প্রেসিডেন্ট এ এফ নেছারউদ্দিন। এসময় জানানো হয়, আইসিএবি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর সংক্রান্ত মতামতগুলো প্রেরণ করেছে।

বিভিন্ন সেক্টরে কর্পোরেট কর ২ শতাংশ হ্রাস করার প্রস্তাবনায় বলা হয়, বাংলাদেশে কর্পোরেট কর পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। আইসিএবি মনে করে ২ শতাংশ কর হ্রাস করা হলে রাজস্ব আহরণ ও নতুন কর্মসংস্থান বাড়বে। বিদ্যমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ না চাপিয়ে করযোগ্য ব্যক্তিদের কর নেটে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ব্যক্তি শ্রেণির জন্য বিদ্যমান কর স্তর দ্বিতীয় ধাপ ৫ শতাংশ থেকে শুরু করা এবং সর্বোচ্চ কর হার ২৫ শতাংশে সীমিত রাখার জন্য আইসিএবি প্রস্তাব করছে। এনবিআর কর প্রদান সহজীকরণে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কর গণনা ও রিটার্ন ফর্ম ততটা সহজ নয়। আয়ের ২৫ শতাংশের ওপর সরাসরি ১৫ শতাংশ কর রেয়াত প্রদান করলে জটিলতা এড়ানো যেতে পারে।

দেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অবদান অনেক বেশি। এজন্য তাদের আয়কে ৩৬ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত রাখার আহ্বান জানানো হয়। মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইন অনুযায়ী চার্টার্ড একউনট্যান্টসরা করদাতার অনুমোদিত প্রতিনিধি হিসেবে শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে পারে কিন্তু এ বিধান ২০১২ সালের মূসক আইনের ১৩০ ধারায় সন্নিবেশিত হয়নি। আইসিএবি এ ধারায় চার্টার্ড একাউনট্যান্টদের সংযোজন করতে জোর দাবি জানায়। ১৯৯১ সালের আইন অনুযায়ী যে কোনো পর্যায়ে মাত্র ১০ শতাংশ অর্থ জমার মাধ্যমে আপিল করার বিধান ছিল এবং সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের নিকট আপিল করার জন্য কোনো প্রকার অর্থ জমা করার বিধান নেই। কিন্তু ২০১২ সালের মূসক আইন মোতাবেক প্রতিটি আপিল পর্যায়ে হাইকোর্টে ১০ শতাংশ অর্থ জমার বিধান রয়েছে যা অযৌক্তিক। আইসিএবি এক্ষেত্রে ১৯৯১ সালের বিধান বলবত্ করার প্রস্তাব করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি এন কে এ মুবিন এবং মো. মনিরুজ্জামান, সাবেক সভাপতি ড. আবু সাঈদ খান এবং মো. নাছির উদ্দিন আহমেদ, কাউন্সিল সদস্য মোহাম্মদ ফুরকান উদ্দিন এবং মারিয়া হাওলাদার, আইসিএবি’র ট্যাক্সেশন ও কর্পোরেট ল’জ কমিটির সদস্য স্নেহাশীশ বড়ুয়া এবং রাকেশ সাহা প্রমুখ।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৭ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন