ঢাকা মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬
২৯ °সে


বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি

ডুবন্ত অবস্থা থেকে শীর্ষে সোনালী

ডুবন্ত অবস্থা থেকে শীর্ষে সোনালী

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর সম্পাদিত বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সবার শীর্ষে রয়েছে সোনালী ব্যাংক। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যাংকটি ১০০ নম্বরের মধ্যে প্রায় সারে ৯৪ নম্বর পেয়ে রেকর্ড স্কোর করেছে। নির্ণায়ক মানে এই অর্জনকে ‘অতি উত্তম’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের বার্ষিক কর্ম সম্পাদন ব্যবস্থাপনা (এপিএ) বিষয়ক সভার কার্যপত্র থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। কার্যপত্রে বলা হয়েছে, সরকারের ঘোষিত নীতি ও কর্মসূচির যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন এবং সরকারি কর্মকাণ্ডে দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে সরকারি কর্ম সম্পাদন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করা হয়। কার্যপত্রে সংযুক্ত ব্যাংকগুলোর মূল্যায়নের সারসংক্ষেপ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ১১টি ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর সোনালী ব্যাংকের। ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত চুক্তির বিপরীতে ব্যাংকটির প্রাপ্ত স্কোর ৯৪ দশমিক ৪৫; যার মাধ্যে কৌশলগত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে প্রাপ্ত স্কোর ৬৯ দশমিক ৭০ এবং আবশ্যিক কৌশলগত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের প্রাপ্ত স্কোর ২৪ দশমিক ৭৫। ঐ সময়ে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন রূপালী ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ। চুক্তি অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৩০ কোটি টাকা। তবে ব্যাংকটি বিতরণ করেছে ৮৬০ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ১০৪ শতাংশ। এসএমই ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকটি বিতরণ করেছে ১ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৯০ শতাংশ।

অন্যান্য বিনিয়োগের লক্ষ্যামাত্রা ছিল ১৩ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা। তবে ব্যাংকটি বিনিয়োগ করেছে ১৮ হাজার ৮২০ কোটি টাকা। অন্যান্য বিনিয়োগের ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ১৪০ শতাংশ। শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ হ্রাস করার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২ হাজার ৫০০ কেটি টাকা। শ্রেণীকৃত ঋণ কমেছে ১২ হাজার ১০৩ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার উল্লেখ করা হয়েছে ১০৩ শতাংশ। সোনালী ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণ থেকে নগদ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯০০ কোটি টাকা। কিন্তু নগদ আদায় হয়েছে ১ হাজার ১৪ কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ইতিহাসে রেকর্ড। এক্ষেত্রে অর্জনের হার ১১৩ শতাংশ। ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। তবে ঐ বছরে সোনালী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা। মুনাফায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ১২৭ শতাংশ।

এছাড়া লোকসানি শাখার সংখ্যা হ্রাসে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জনের হার ৩২৮ শতাংশ, অবলোপনকৃত ঋণ থেকে আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ৪৮ শতাংশ, স্বল্প ব্যয়ী আমানতের হার বৃদ্ধিতে অর্জন ১০৮ শতাংশ, অসমন্বিত ভুক্তি সমন্বয়করণে অর্জনের হার ১০৩ শতাংশ, মূলধন সংরক্ষণের হারে অর্জন ১০০ শতাংশ, প্রভিশন সংরক্ষণের হারে অর্জন ১০০ শতাংশ, রিট মামলা নিষ্পত্তিতে অর্জন ৮২ শতাংশ, অর্থঋণ ও অন্যান্য মামলা নিষ্পত্তিতে অর্জন ৬৯ শতাংশ এবং বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তিতে অর্জন ১৪৭ শতাংশ। এদিকে সোনালী ব্যাংকের গত তিন বছরের ব্যালান্সশিট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংকটি সরকারকে মুনাফা দিয়েছে ৪ হাজার ১০১ কোটি টাকা।

২০১৮ সালে মুনাফা করেছিল ২ হাজার ২৬ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে ১ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল সোনালী এবং ২০১৬ সালের শেষ ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) পরিচালন মুনাফা হয়েছিল ৪২৫ কোটি টাকা। অথচ ঐ বছরের প্রথম ছয় মাসে লোকসান হয়েছিল ৩৪৬ কোটি টাকা।

প্রায় ডুবতে থাকা ব্যাংকটি ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত ৬ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা শ্রেণীকৃত ঋণ আদায় করেছে। কোনো এমডির মেয়াদে সোনালী ব্যাংকের ইতিহাসে এটা সর্বোচ্চ আদায় বলে জানা গেছে। তিন বছরে সোনালীর আমানত বেড়েছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। ঋণ ও অগ্রিম বেড়েছে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন