ঢাকা বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬
২৬ °সে


আইনি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বিনিয়োগে বড়ো বাধা

আইনি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা  বিনিয়োগে বড়ো বাধা

অ্যামচেমের সভায় উদ্যোক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

সরকার বিনিয়োগ আকর্ষণে নানামুখী উদ্যোগ নিলেও তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। এ কারণে দেশে বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় আসছে না। বিশেষত আইনি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এর পেছনে অন্যতম দায়ী বলে মনে করছেন তারা। বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তার আলোকে সমাধানের পথ খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত মধ্যাহ্ন ভোজসভায় তারা এসব কথা বলেন। অ্যামচেম প্রেসিডেন্ট মো. নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম। এ সময় স্থানীয় ও বহুজাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরার পাশাপাশি এ থেকে পরিত্রাণের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

বক্তারা বলেন, বিভিন্ন দপ্তরে ফাইল চালাচালিতে অনেক সময় চলে যায়। অগ্রগতির কথা বলা হলেও কিছু অগ্রগতি কেবল কাগজে-কলমে হয়েছে। বিনিয়োগ সংক্রান্ত সব কার্যক্রম এক জায়গায় আনা দরকার।

অ্যামচেম সভাপতি ব্যবসা সহজ করার সূচকে বাংলাদেশের তলানিতে অবস্থানের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে (১৮৯টি দেশের মধ্যে ১৭৬তম) বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে র্যাংকিংয়ে ১০০-র মধ্যে আসার লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু এজন্য অনেক কাজ করতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে অনেক কাজ করা হলেও তা এখনো প্রত্যাশিত নয়। বাংলাদেশ থেকে একে একে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কারণ অনুসন্ধানের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সানোফি চলে যাচ্ছে। আইনি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দেশি-বিদেশি—সবার জন্য সমান আইনি বিধান থাকা দরকার। অবকাঠামোগত সমস্যাও রয়েছে।

উত্তরা মোটর্সের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান বলেন, অটোমোবাইল খাতে বিনিয়োগে বিডার অনুমতির পর এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) একটি আদেশ জারি করেছে। ওই আদেশ অনুযায়ী বিনিয়োগ করা কার্যত অসম্ভব।

এনার্জিপ্যাকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ূন রশিদ জ্বালানি সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য ২৭ ধরনের লাইসেন্স নিতে হয় জানিয়ে বলেন, এতে অনেক সময় ব্যয় হয়। ব্যবসা সহজ করার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা প্রায় আগের মতোই রয়ে গেছে। এছাড়া কর সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও নিজের অসন্তোষের কথা জানান তিনি।

ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে শিল্পোদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম। তবে সবার ক্ষেত্রে সমস্যা একই রকম নয় উল্লেখ করে তিনি ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজ করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, বিদ্যুতের সংযোগ পাওয়া, ঋণ প্রাপ্তির সুযোগ ও নিবন্ধনসহ কিছু বিষয় সহজ করা হয়েছে। ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু হয়েছে। সব সেবাকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। এ লক্ষ্যে অ্যামচেম নেতাদের ভূমিকা নেওয়ার অনুরোধ জানান।

আলোচনায় স্থানীয় মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়টি উঠে আসে। বক্তারা বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়নে পিছিয়ে থাকায় বাংলাদেশ একদিকে প্রত্যাশিত প্রবাসী আয় পাচ্ছে না, অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে বিদেশিরা প্রচুর অর্থ নিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, বিদেশে ১ কোটির ওপরে প্রবাসী বাংলাদেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। আর ভারতে ১ কোটি ৭০ লাখ লোক বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে ৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের। আমরা দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে পারছি না। আবার দক্ষ হলেও তাদের সনদ নেই কিংবা আমাদের সনদ অন্য দেশ গ্রহণ করে না। ফলে অদক্ষ হিসেবেই তাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

অ্যামচেমের সাবেক সভাপতি আফতাব উল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে প্রচুর অননুমোদিত বিদেশি নাগরিক কাজ করলেও তাদের খুব সামান্য পরিমাণ তথ্যই বিডা’র কাছে রয়েছে। এসব অননুমোদিত বিদেশি নাগরিক কর ফাঁকি দিয়ে বছরের পর বছর কাজ করে যাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হচ্ছে।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যামচেমের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা প্রমুখ।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৩ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন