ঢাকা সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬
২৮ °সে

আইসিটি সাংবাদিকদের প্রতি তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর আহ্বান

৫জি প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে এগিয়ে আসুন

৫জি প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে এগিয়ে আসুন

ডাক,টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, প্রযুক্তির আধুনিক সংস্করণ ৫জি প্রযুক্তি আগামী দিনে আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আইওটি, বিগডাটা, ব্লকচেইন অথবা রোবটিক প্রযুক্তি আগামীর পৃথিবীকে পাল্টে দিবে। এর ফলে ডিজিটাল শিল্প বিপ্লব অথবা রিভ্যুলিউশন ফোর পয়েন্ট জিরো বা আইআর ফোর সারা দুনিয়াতে মাতমে পরিণত হয়েছে। এ সম্পর্কে যথাযথভাবে জনগণকে অবহিত করতে এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থ হলে আমরা পেছনে পড়ে যাব। ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সাংবাদিক সমাজ বিশেষ করে আইসিটি সাংবাদিকদের এ ব্যাপারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

মন্ত্রী রাজধানীর গুলশানে স্পেকটা কনভেনশন হলে গতরাতে বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম ( বিআইজেএফ) এর নব-নির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ আহ্বান জানান।

দেশে আইসিটি বিকাশে ট্রেডবডিসমূহ, ইন্ডাস্ট্রিজ এবং সাংবাদিকগণ অসাধারণ সহযোগিতা করে আসছে উল্লেখ করে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, ‘ প্রযুক্তির উত্কর্ষের ফলে প্রযুক্তির সঙ্গে সাধারণ মানুষের সেতুবন্ধন রচিত হয়েছে। তবে, প্রযুক্তিতে আমাদের সক্ষমতা সারা পৃথিবীকে সেইভাবে পৌঁছাতে পারছি না - এটা একটা বড় দুর্বলতা। সমালোচনার পাশাপাশি সফলতার গল্পটাও ক্ষুরধার লেখনিতে তুলে আনতে হবে।’

তথ্যপ্রযুক্তিখাতে মন্ত্রী হিসেবে গত ১৩ মাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার মতো একজন প্রধানমন্ত্রী যে দেশে আছে সে দেশ প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘গত দশ বছরে প্রযুক্তিতে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বাংলাদেশ সক্ষমতা অর্জন করেছে। ডিজিটাল বিপ্লবে বাংলাদেশ নেতৃত্বের জায়গায় পৌঁছতে সক্ষম হয়েছে।

মন্ত্রী আইসিটি সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার বিষয়গুলো তুলে ধরতে হবে। ‘বর্তমানে যে শিক্ষা ব্যবস্থাটা বিরাজ করে আমরা কী তার একটু আলোর পথ দেখাব না? আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সাংবাদিকগণ সেই দিকে নজর দিবেন। আমি আশা করব, আপনাদের রিপোর্টে আরো বেশি করে ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জের কথা, সম্ভাবনার কথা উঠে আসবে।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে যখন ড্রাইভারবিহীন গাড়ী চলবে তখন কোনো কোনো দেশের জন্য তা আনন্দের হলেও আমাদের জন্য বেকারত্বের জন্য বোঝা হতে পারে। রোবট যখন তৈরি পোশাক শিল্পে মানুষের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে, অন্যদের জন্য তা আনন্দের কিন্তু আমাদের জন্য এ খাতে ৫মিলিয়ন কর্মীর বেকারত্বের বোঝা বাড়ানোর জন্য উদ্বেগের, এটা আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ।’ সে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের তৈরি থাকতে হবে, উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে টেকওয়ার্ল্ডের সম্পাদক নাজনীন নাহার, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, ‘২০০২ সালে একদল তরুণের উদ্যোগে বিআইজেএফ গঠিত হয়। সতরো বছর পরে আজকে দেখে ভালো লাগে যে, দেশের প্রায় প্রতিটি গণমাধ্যমে প্রযুক্তি প্রতিবেদনে নিবেদিত সাংবাদিক নিয়োগ হচ্ছে।’

বিডিওএসএনের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান বলেন, ‘দেশের প্রযুক্তি সাংবাদিকতার সংগঠনটির সতরো বছরের সময়ে বেশ অনেক দূর এগিয়েছে।’ প্রযুক্তি সাংবাদিকদের এখন প্রযুক্তিপাতার পাশাপাশি মতামত পাতাও লেখার অনুরোধ জানান তিনি।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘আমি নিজেকে প্রযুক্তি সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতে পারলে সৌভাগ্যবান বলে মনে করতাম। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নতুন নেতৃত্ব পেয়েছে দেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদের একমাত্র নিবন্ধিত সংগঠন বিআইজেএফ।’

নবনির্বাচিত সভাপতি মোজাহেদুল ইসলাম অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘বিআইজেএফকে আরো শক্তিশালী এবং গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় সব কিছুই করব।’ এজন্য সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

সাধারণ সম্পাদক হাসান জাকির বলেন, ‘বিআইজেএফকে আইসিটি সাংবাদিকবান্ধব সংগঠন হিসেবে রূপান্তরে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই। যেন সাংবাদিকদের মধ্যে বিআইজেএফ উদাহরণ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি আইসিটি সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা প্রদানেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে বিআইজেএফ।’

অনুষ্ঠানে বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির, এসোসিও’র সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ এইচ কাফি, আইপে-এর সিইও জাকারিয়া স্বপন, কল সেন্টার অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ, আইএসপি’র সভাপতি আমিনুল হাকিম, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির পরিচালক সহিদুল মুনির , বেসিস -এর সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এম শোয়েব চৌধুরী, সহজ -এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালিহা কাদির, ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান সবুর খান, বিডিজবসের নির্বাহী প্রধান ফাহিম মাশরুর, ডেলের কান্ট্রি ম্যানেজার আতিকুর, পাঠাওয়ের বিপণন প্রধান সৈয়দা নাবিলা মাহবুব, শাওমির আঞ্চলিক বিপণন প্রধান জিয়াউদ্দিন চৌধুরী, নগদের পরিচালক মারুফুল ইসলাম ঝলক, প্রথম আলোর ডেপুটি ফিচার সম্পাদক পল্লব মোহাইমেনসহ দেশীয় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তৃব্য রাখেন। অভিষেক অনুষ্ঠানটি পৃষ্ঠপোষকতা করে- নগদ, সহজ, শাওমি ও পাঠাও। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করে ঢাকা লাইভ।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন