ঢাকা বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
৩০ °সে


সাহিত্যের আশ্রয়ে চিন্তার স্বাধীনতার উত্সব

তিন দিনের নবম ঢাকা লিট ফেস্ট শুরু
সাহিত্যের আশ্রয়ে চিন্তার স্বাধীনতার উত্সব
গতকাল বাংলা একাডেমিতে ফিতা কেটে ঢাকা লিট ফেস্টের নবম আসরের উদ্বোধন করেন আয়োজক ও অতিথিবৃন্দ —ইত্তেফাক

দেশে দেশে অস্থিরতা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, বাক্স্বাধীনতা আক্রান্ত, জঙ্গিবাদের উত্থান—এসব বাধা মোকাবিলা করেই মুক্তচিন্তার ধারকদের সামনে এগিয়ে যেতে হয়। যুগে যুগে কালে কালে লেখকদের এ বাধা অতিক্রম করেই সত্য ও সুন্দরের কথা বলে যেতে হয়েছে। লেখকরা নানা দেশের হলেও তাদের লক্ষ্য এক আর তা হচ্ছে মানুষের মুক্তি। এসব কথাই উঠে এলো আন্তর্জাতিক সাহিত্য উত্সবে (ঢাকা লিট ফেস্ট) অংশ নেওয়া দেশি-বিদেশি কবি সাহিত্যিকদের আলোচনায়।

বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বসাহিত্যের আঙিনায় পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে শুরু হলো ঢাকা লিট ফেস্টের নবম আসর। মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার শক্তি জোগায় যে বই সেই বইকে কেন্দ্র করেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লেখক পাঠকের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে এই সাহিত্য উত্সব। ৯ বছর আগে যে ‘হে উত্সব’ আয়োজনের মধ্য দিয়ে যার সূত্রপাত তা বিশ্বে বাংলা সাহিত্যের জানালা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক মনিকা আলীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা আন্তর্জাতিক সাহিত্য উত্সব ২০১৯ (ঢাকা লিট ফেস্ট) এর উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী, ঢাকা লিস্ট ফেস্টের উত্সব পরিচালক সাদাফ সায, পরিচালক আহসান আকবর ও কাজী আনিস আহমেদ।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক মনিকা আলী বলেন, আমার স্মৃতিতে বাংলাদেশ খুব একটা নেই। ১৯৭১ সালে মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সে আমি বাংলাদেশ ছেড়েছি। কিন্তু তারপর আর আসা হয়নি। এখন ঠিক করে বাংলা ভাষাটাও বলতে পারি না। এজন্য অবশ্য দুঃখ হয়। তবুও বাংলা ভাষা, রবীন্দ্রনাথ আমার অস্তিত্বে মিশে রয়েছে। আমার সাহিত্য রচনার প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশে ঢাকা লিট ফেস্টের এ মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমি গর্বিত।

এর আগে, সকালে বাংলা একাডেমি লন চত্বরে লালনের সুরে শুরু হয় ঢাকা লিট ফেস্টের সকাল। বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউজের সামনে লন চত্বরে লালনের সুরের বাণী তুলে ধরেন স্নিগ্ধ সাধু সঙ্গ। দোতারা, তবলায় মুখর হয়ে উঠে চারিপাশ।

গতকাল দেওয়া হয় স্বনামধন্য জেমকন সাহিত্য পুরস্কার। এছাড়া, প্রথম দিনে ছিল ২৫টি সেশন। বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তন, কবি শামসুর রাহমান সেমিনার রুম, ভাস্কর নভেরা এক্সিবিশন হল, কসমিক টেন্ট ও নজরুল মঞ্চে এগুলো অনুষ্ঠিত হয়। সাহিত্যিক আলোচনার পাশাপাশি ছিল কবিতা পাঠের আসর ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’, মাইজভাণ্ডারি মরমী গোষ্ঠীর গানের আসর, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা পাঠের আসর প্রভৃতি। সাহিত্যিক আলোচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ‘গল্পের নশ্বরতা’, ‘ভাঙা বাংলা : ত্রস্ত নীলিমায়’, ‘ভাষার বন্ধন ভেঙে ভাষ্যের সন্ধান’ প্রভৃতি।

জেমকন সাহিত্য পুরস্কার ঘোষণা

আবদুল করিম সাহিত্য মিলনায়তনে দেওয়া হয় জেমকন তরুণ সাহিত্য পুরস্কার। অভিষেক সরকারের ছোটোগল্প ‘নিষিদ্ধ’ এবং রফিকুজ্জামান রনির ‘ধোঁয়াশার তামাটে রঙ’ কবিতার পাণ্ডুলিপির জন্য তাদের পুরস্কৃত করা হয়। জেমকন গ্রুপের পরিচালক কাজী আনিস আহমেদ তাদের হাতে পুরস্কার হিসেবে ১ লাখ টাকা ও ক্রেস্ট তুলে দেন। এদিকে, বিকালে গীতিকার ও বাংলা ট্রিবিউনের সম্পাদক জুলফিকার রাসেলের গীতিকবিতা বইয়ের প্রথম খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

‘প্ল্যানারি ফিকশন : রেজিস্ট্যানস অর রিফিউজ’

ছোটো ছোটো জিনিসকে আবেগ ও কাব্যিকতার ছোঁয়ায় বড়ো পরিসরে ধরাই হলো ফিকশন—এমনটাই বললেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখিকা মনিকা আলী। গতকাল শুরু হওয়া ঢাকা লিট ফেস্টের প্রথম দিনের প্রথম সেশন ‘প্ল্যানারি ফিকশন : রেজিস্ট্যানস অর রিফিউজ’ বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে শুরু হয় উদ্বোধনের পরেই। এতে উপস্থিত ছিলেন মনিকা আলীসহ পাঁচ দেশের পাঁচজন নারী লেখক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভারতীয় লেখক সুমনা রায়। বাকিরা হলেন ব্রাজিলীয় লেখক মারিয়া ফিলোমেনা বইসো লেপেসকি, ফিনল্যান্ডের মিন্না লিন্ডগ্রেন, ব্রিটিশ-ব্রাজিলীয় জারা রদ্রিগেজ ফাউলার।

ফিকশন কী? এর জবাবে মনিকা আলী বলেন, ‘ফিকশন হলো ছোটো ছোটো জিনিসকে আবেগ ও কাব্যিকতার ছোঁয়ায় বড়ো পরিসরে ধরা।’ তার মতে, সাহিত্যিক পরিচর্যায় যেকোনো ক্ষুদ্র জিনিস বড়ো পরিসরে তুলে ধরা যায়।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন