ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬
২৬ °সে

রাজশাহীতে পদ্মার তীর ঘেঁষে বালু উত্তোলন

হুমকিতে হাইটেক পার্ক, শহররক্ষা বাঁধ
রাজশাহীতে পদ্মার তীর ঘেঁষে বালু উত্তোলন
রাজশাহীর পবায় ইজারা নিয়ে শর্ত ভেঙে অবৈধভাবে উত্তোলন করা হয় বালু —আজাহার উদ্দিন

ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা ও বন্ধের নির্দেশনার পরও পবা উপজেলার সোনাইকান্দি-বেড়পাড়ায় পদ্মার বামতীর সংলগ্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। এতে ‘সংস্কার করা রাজশাহী শহর বাঁধ’ ও সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণাধীন ‘বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক’ হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী। বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক রক্ষায় গত বছর ২৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বুলনপুর থেকে সোনাইকান্দি পর্যন্ত পদ্মার বামতীর রক্ষাবাঁধ সংস্কার করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ঐ বাঁধের নিচ থেকে নবগঙ্গা ও সোনাইকান্দির নিষিদ্ধ এলাকা থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু। মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রজব আলী ঐ বালুমহাল ইজারা নিয়েছেন। এ বিষয়ে মতামতের জন্য আনোয়ার হোসেনকে পাওয়া না গেলেও কাউন্সিলর রজব আলী বলেন, ইজারা নেওয়া বৈধ বালুমহাল থেকেই তারা বালু উত্তোলন করছেন। ইজারার শর্তানুযায়ী বালু উত্তোলন করতে তাদের ভারত থেকে বালু আনতে হবে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী জানান, গত ১৪ জানুয়ারি পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবুল হায়াত সোনাইকান্দি-বেড়পাড়া এলাকায় আনোয়ার হোসেন ও রজব আলীর বালুমহালে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেন। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ইজারাদারদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ঐ এলাকা থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশনা দেয় আদালত। কিন্তু পরদিন বুধবার বিকাল থেকেই আগের জায়গা হতে চারটি খননযন্ত্র দিয়ে আনোয়ার ও রজব আলীকে বালু তুলতে দেখেছেন এলাকাবাসী। শুধু তাই নয়, ঐ এলাকার পদ্মা নদীতে বাঁধ দিয়ে পানির প্রবাহ বন্ধ করে পদ্মার মাঝে জেগে ওঠা চর থেকে বালু এপারে আনছেন আনোয়ার ও রজব আলী। পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় জনগণের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে ঐ বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জেলা প্রশাসকের দপ্তর সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার হোসেন পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের মদনপুর, কসবা ও চরহরিপুর মৌজার বালুমহাল ইজারা নিয়েছেন। নিয়মানুযায়ী নদীর তীর থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে গিয়ে বালু উত্তোলনের শর্তে বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে। অথচ আনোয়ার নদী তীরের এক কিলোমিটারের ভেতর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবুল হায়াত বলেন, ইজারার শর্ত ভেঙে আবারও বালু উত্তোলনের কথা তিনিও শুনেছেন। পবায় কৃষি জমিতে পুকুর খনন বন্ধে অভিযান এবং প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ততার কারণে মঙ্গলবারের পর আর ঐ বালুমহালে তিনি যেতে পারেননি। তবে শর্ত ভাঙলে আবারও ঐ বালুমহালে অভিযান চালানো হবে বলে জানান তিনি।

ইতিপূর্বে নিয়ম ভেঙে সোনাইকান্দি-বেড়পাড়া এলাকায় বালু তোলায় পদ্মার বামতীর রক্ষাবাঁধের দুইটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই ঐ এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে চিঠিও দেয়। কিন্তু তারা সেখান থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখেন। হরিপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সাইদুর রহমান বাদল ও একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মাহফুজ আলী বলেন, এভাবে নদী তীরের এতো কাছে থেকে বালু তোলা হলে এলাকা ভাঙনের হুমকিতে পড়বে।

এদিকে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আবারও বালু উত্তোলনে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাজশাহী পরিবেশ আন্দোলন ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, শর্ত ভেঙে বালু তোলায় রাজশাহী শহর রক্ষাবাঁধ ও বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন