ঢাকা শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬
২১ °সে

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার হাজতে আসামির মৃত্যু

পুলিশের দাবি আত্মহত্যা
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার হাজতে আসামির মৃত্যু

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার হাজতে আবু বক্কর সিদ্দিক বাবু (৩৫) নামে এক আসামি মারা গেছেন। গতকাল রবিবার ভোরে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ বলছে, ঐ আসামি হাজতের গ্রিলের সঙ্গে চাদর পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে গ্রিলের সঙ্গে চাদর পেঁচিয়ে আত্মহত্যার বিষয়টি মানতে রাজি নন নিহত বাবুর সহকর্মীরা।

বাবু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ফ্লোর ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একজন নারী ডিজিটাল নিরাপত্তা ও নারী নির্যাতন আইনে মামলা করেছিলেন। ঐ মামলাতেই গত শনিবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। রাতে অন্য আসামিদের সঙ্গে থানাহাজতেই ছিলেন বাবু।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী হোসেন খান জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট মামলায় আবু বক্কর সিদ্দিক বাবুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। রাতে তাকে থানাহাজতে রাখা হয়। গভীর রাতের দিকে তিনি হাজতখানার গ্রিলের সঙ্গে চাদর দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বিষয়টি দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গতকাল ভোর ৪টার দিকে চিকিত্সক ঐ আসামিকে মৃত ঘোষণা করেন।

গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে বাবুর লাশ শনাক্ত করেন তার সাবেক স্ত্রী আলেয়া ফেরদৌসী। তিনি বলেন, শনিবার রাতে রাস্তা থেকে পুলিশ বাবুকে আটক করে বলে জানতে পেরেছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা থাকার বিষয়টি জানা নেই। তিনি দাবি করেন, বাবু আত্মহত্যা করতে পারে বলে মনে হয় না। তাকে পুলিশ নির্যাতন করেছিল কি না, তা তদন্তের দাবি তোলেন তিনি। একই দাবি জানিয়েছেন, বাবুর সহকর্মীরাও। তার সহকর্মী ক্যামেরাম্যান জি এম সাঈদ বলেন, বাবু আত্মহত্যা করার মতো মানুষ না। থানায় সে কীভাবে আত্মহত্যা করবে। হাজতে তো আসামির চাদর নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। পাশাপাশি হাজতখানায় তো অন্য আসামিরাও ছিল। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি। অবশ্য থানার ওসি আলী হোসেন খান বলছেন, আসামি বাবু যে আত্মহত্যা করেছেন, তা সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে। ঘটনার পর সেই ফুটেজে তার আত্মহত্যার চেষ্টার বিষয়টি স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, মামলার বাদী নারীর সঙ্গে বাবুর পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে তার স্ত্রী তাকে তালাক দিয়ে চলে যান। এরপর বাবু ঐ নারীকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। তাতে রাজি না হওয়ায় তার কাছে থাকা ঘনিষ্ঠ মেলামেশার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেন। এরপর নারীকে হুমকিও দেন। ঐ ঘটনায় তার বিরুদ্ধ মামলা হয়। নিহত বাবুর বাড়ি নোয়াখালী জেলার সেনবাগের বালিয়াকান্দি এলাকায়।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন