ঢাকা সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬
৩৫ °সে

পেশাদার প্রকাশকদের অগ্রাধিকারের দাবি আদায় করা হবে

পেশাদার প্রকাশকদের অগ্রাধিকারের দাবি আদায় করা হবে

‘মুক্তিযুদ্ধ আর মুক্তিচেতনা, দুয়ের প্রত্যয় আমাদের প্রকাশনা’— এই অঙ্গীকার নিয়ে আগামী প্রকাশনীর যাত্রা শুরু ১৯৮৬ সালে। আমার প্রথম প্রকাশিত বইয়ের নাম ‘এগিয়ে চলার বছর পঁচিশ’। লেখক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ। প্রকাশকাল ১৯৭৬। যদিও আমি তখন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশনা ব্যবসা শুরু করিনি। গড়ে তুলিনি কোনো প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানও। তবে চিন্তা করছি কী করব। আমি তখন শিশু-কিশোর সংগঠন কেন্দ্রীয় খেলাঘরের কর্মী।

আমি ১৯৬৭ সালে হাতিরদিয়া সাদাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। তখন থেকেই শিশু সংগঠন খেলাঘর এবং মফস্বল সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। তরুণ বয়সে স্বপ্ন ছিলো সাংবাদিকতা করব। কিন্তু আমার তখন ধারণা হলো, সাংবাদিকরাও কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্বাধীন নন, তখন স্বাধীন প্রকাশনা ব্যবসা করার চিন্তা করলাম। ১৯৭৮ সালে যৌথ মালিকানায় প্রকাশনা শুরু করি। ১৯৮৬ সালে একক মালিকানায় আগামী প্রকাশনীর যাত্রা শুরু। এবারের বইমেলায় আগামী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে ১১৫টি বই। তার মধ্যে অর্ধশতাধিক বই বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক। আমাদের প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ২৫১০। আগামী প্রকাশনী বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সর্বাধিক বইয়ের প্রকাশক।

অমর একুশে গ্রন্থমেলার শুরু থেকেই বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির প্রতিনিধি হিসেবে আমি যুক্ত ছিলাম। পরে প্রতিনিধিত্ব করেছি, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির কর্মকর্তা হিসেবে। তখন স্টল বরাদ্দের ক্ষেত্রে পেশাদার প্রকাশকদের গুরুত্ব দিয়ে, তাদের স্টল বরাদ্দের লটারী আগে করা হতো। এখন পেশাদার প্রকাশক/ মৌসুমী/সৌখিন/ভূইফোড়/ড্রয়িংরুম প্রকাশক- সকলের লটারী একসাথে করা হয়।

অমর একুশে গ্রন্থমেলা বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে, সমৃদ্ধ করছে। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গন থেকে পেশাদার প্রকাশকরা এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। মেলার পরিসর বাড়তে বাড়তে এবার ৮ লক্ষ বর্গফুট জায়গা দখল করেছে। ৬০০-এর অধিক প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশগ্রহণ করেছে। আশ্চর্য হওয়ার মত বিষয়। এত প্রকাশক কোথা থেকে এলো? দুই সমিতির সৃজনশীল প্রকাশকের সংখ্যা ৩০০-এর বেশি হবে না। এবারের বইমেলায় বিন্যাশ নান্দনিক হলেও মৌসুমী/সৌখিন/ভূইফোড়/ড্রয়িংরুম প্রকাশকদের ভিড়ে পেশাদার প্রকাশকরা ক্ষতিগ্রন্থ হয়েছে, হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। পেশাদার প্রকাশকদের জন্য প্রথমে স্টল বরাদ্দ করে, প্রয়োজনে অন্যদের আলাদা জোনে স্টল বরাদ্দ করতে হবে। এটা শুধু দাবি নয়, এটা পেশাদার প্রকাশকদের অধিকার। আগামী বইমেলায় এই অধিকার আমরা প্রতিষ্ঠা করবো। —লেখক: প্রধান নির্বাহী, আগামী প্রকাশনী

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
৩০ মার্চ, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন