ঢাকা সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬
৩৫ °সে

শেষ দিনে জ্বলে ওঠার অপেক্ষা

বইমেলায় প্রধানমন্ত্রীর বই
শেষ দিনে জ্বলে  ওঠার অপেক্ষা

শেষ বেলায় লিস্ট ধরে ধরে বই কিনছেন সবাই। বিশেষ করে বিভিন্ন স্কুল ও প্রতিষ্ঠানের বই সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে অনেককেই। রাজধানীর নর্থ সার্কুলার রোডের মেহেরুন্নেসা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক সুমন কুমার সরকার ঘুরে ঘুরে বই কিনছিলেন। তিনি জানান, বাংলা একাডেমি, অবসর, তাম্রলিপি—এসব স্টল থেকে বই কিনেছেন তিনি। প্রতি বছর মেলা শেষে লিস্ট ধরে কলেজের লাইব্রেরির জন্য বই কেনেন বলে জানালেন তিনি।

বইমেলা শেষ হবে আজ। আজ শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন। সকাল থেকে রাত অবধি খোলা থাকবে মেলা। তাই শেষবারের মতো ঢুঁ মারার সুযোগ পাবেন বইপ্রেমীরা। পাবেন অমর একুশে গ্রন্থমেলা চত্বর ঘুরে ঘুরে বই কেনার সেই আনন্দময় অনুভূতির দেখা। আজ মেলা খুলে যাবে বেলা ১১টায়। এরপর একটানা চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

গতকাল শুক্রবারও সকাল থেকেই মানুষের ঢল নেমেছিল বইমেলায়। ছিল শিশুপ্রহরও। সবার হাতে হাতে বই। স্টলে বইপ্রেমীদের ভিড়। বই কিনে সবাই হাসিমুখে বাড়ি ফিরেছেন। ভিড় ঠেলে, স্টলের সামনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে বই সংগ্রহ করেছেন সবাই। মা-বাবা ছেলেমেয়েদের নিয়ে ঘুরে ঘুরে কিনেছেন বই। কেউ কেউ ছবি তুলেছেন মেলায় আসা প্রিয় লেখকের সঙ্গে, নিয়েছেন অটোগ্রাফ। ছবি তুলেছেন ভাষাশহিদদের প্রতিকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে। বন্ধুদের নিয়ে সারা দিন ধরে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে আড্ডা দিয়ে কাটালেন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রকাশকেরাও শেষবারের মতো নতুন প্রকাশনা আর শেষ হয়ে যাওয়া বইয়ের নতুন মুদ্রণ নিয়ে দৌড়-ঝাঁপ দিচ্ছেন।

বইমেলায় প্রধানমন্ত্রীর বই

মাওলা বাদ্রার্স শেষ সময়ে এনেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংকলিত গ্রন্থ ‘রেকর্ড অব প্রসিডিংস :দ্য আগরতলা কন্সপিরেসি কেস’ শিরোনামের চার খণ্ডের বই। দাম ৪ হাজার টাকা। শেখ হাসিনা সংকলিত বইটিতে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বইটির মুখবন্ধ লিখেছেন শেখ হাসিনা। ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফা পেশ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দাবিটি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ায় মে মাসেই গ্রেফতার করা হয় বঙ্গন্ধুকে। পরবর্তীকালে ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুসহ ৩৫ জনকে আসামি করে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা করা হয়। সেই মামলাই সাধারণের কাছে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হিসেবে পরিচিতি পায়। তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৯৬৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয় সামরিক সরকার। ঐ বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনীর একটি জিপে করে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িটিতে বঙ্গবন্ধুকে নামিয়ে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে অন্যান্য আসামিও মুক্তি পায়। সেই অসমাপ্ত মামলার সব তথ্য মিলবে এই গ্রন্থে।

নতুন বই

বাংলা একাডেমির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার মেলায় নতুন বই এসেছে ৩৪১টি। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করেছে আবুল কাসেম রচিত বঙ্গবন্ধুবিষয়ক বই ‘বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক উন্নয়ন দর্শন জাতীয়করণনীতি এবং প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা’, ভাষাচিত্র প্রকাশ করেছে মাসুদ সেজানের কবিতার বই ‘দাঁড়াও সভ্যতা’, দ্যু প্রকাশন এনেছে মনি হায়দারের উপন্যাস ‘চলুন, মানুষের কারখানায়’, পুথিলিয়ন এনেছে বিপ্রদাশ বড়ুয়ার শিশুতোষ বই ‘জাদুর বাঁশি’, হরিত্পত্র এনেছে সেলিনা হোসেনের গল্পগ্রন্থ ‘খোল করতাল’, চন্দ্রবিন্দু এনেছে মাহবুব ময়ূখ রিশাদের উপন্যাস ‘আরিমাতানো’, একই প্রকাশনা থেকে এসেছে হরিশংকর জলদাসের গল্পগ্রন্থ ‘আহব ইদানীং’, ক্রিয়েটিভ ঢাকা প্রকাশ করেছে তানভীর মোকাম্মেলের ‘নদীর নাম মধুমতি’, ভাষাচিত্র থেকে প্রকাশিত হয়েছে কমল কর্নেলের দুটি উপন্যাস ‘স্বপ্ন ছোঁয়া ভালোবাসা’ ও ‘স্বপ্নের মায়াজাল’।

মেলামঞ্চে অনুষ্ঠান

গতকাল মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আবুল কাসেম রচিত বঙ্গবন্ধুর ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নদর্শন :জাতীয়করণনীতি এবং প্রথম পঞ্চমবার্ষিক পরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ পাঠ করেন অসীম সাহা। আলোচনায় অংশ নেন কাজী রোজী, এম এম আকাশ ও নাসিমা আনিস। লেখকের বক্তব্য প্রদান করেন আবুল কাসেম। সভাপতিত্ব করেন আতিউর রহমান।

‘কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ’ করেন কবি রুবী রহমান, কামাল চৌধুরী, নূহ-উল-আলম লেনিন ও হারিসুল হক। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফরিদা পারভীন, সাইদুর রহমান বয়াতি, লীনা তাপসী খান, অদিতি মহসিন ও সেলিম চৌধুরী। গতকাল ‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কামরুল হাসান, জাহীদ রেজা নূর, অদিতি ফাল্গুনী ও মাসুদ পথিক।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
৩০ মার্চ, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন