ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬
২৮ °সে

মাদারীপুর কারাগার লকডাউন নতুন বন্দিদের আলাদা সেল

বাগেরহাট কারাগারে তিন চীনা নাগরিক কোয়ারেন্টাইনে
মাদারীপুর কারাগার লকডাউন নতুন বন্দিদের আলাদা সেল

দেশের ৬৮টি কারাগারের মধ্যে মাদারীপুর কারাগার লকডাউন করা হয়েছে। মাদারীপুরে অধিকসংখ্যক বিদেশফেরত প্রবাসীদের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারা অধিদপ্তর। দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে প্রতিটি কারাগারে নতুন বন্দিদের জন্য আলাদা সেল খোলা হয়েছে। ‘নতুন আমদানি সেল’ নামে এই সেলে বন্দি আনার আগেই তাদের পরীক্ষা ও তল্লাশি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন বন্দিদের কারাগারে প্রবেশ করার আগে তাদের হাত ও পা জীবাণুনাশক তরল দিয়ে ধুতে হবে। তাদেরকে থার্মাল স্ক্যান দিয়ে পরীক্ষা করতে হবে। এরই মধ্যে বাগেরহাট কারাগারে নতুন বন্দি তিন চাইনিজ নাগরিককে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ও উচ্চ আদালতের নির্দেশে আমরা নতুন বন্দিদের ক্ষেত্রে আলাদা সেল প্রতিটি কারাগারে তৈরি করেছি। বন্দিদের বিভিন্ন মামলায় যেন আদালতে হাজির করা না হয়—সে ব্যাপারেও আমরা আইন মন্ত্রণালয় ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছি। কারাগারে কর্মরত কর্মকর্তা ও কারারক্ষীরা সার্বক্ষণিক হ্যান্ড সেনিটাইজার ও মাস্ক ব্যবহার করছেন। ৬৮টি কারাগারে বন্দিদের ফোনে আলাপের বিষয়ে সীমাবদ্ধতা আনা হয়েছে।

সূত্র জানায়, নতুন আসামি যেন কারাগারে না পাঠানো হয়—এমন অনুরোধ জানিয়ে কারা অধিদপ্তর আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়। এর প্রেক্ষিতে সীমিত পরিসরে বন্দিদের পাঠানোর কথা জানায় আইন মন্ত্রণালয়। পাঠানো বন্দিদের নতুন সেলে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কারা অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে ৮ হাজার বন্দি রয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ সারা দেশের ৬৮টি কারাগারে বর্তমানে ৭০ হাজারের মতো বন্দি রয়েছে। কারাগারগুলোতে বন্দিদের সঙ্গে তাদের স্বজনদের দেখা-সাক্ষাত্ নিরুত্সাহিত করা হচ্ছে। যত দিন করোনার প্রভাব থাকবে, তত দিন যেন তাদের স্বজনরা আর দেখা করতে না আসে, সেটি বন্দিরাই স্বজনদের জানিয়ে দিচ্ছে। দুই জন ছাড়া বন্দির স্বজনরা কারাগারে সাক্ষাত্ করতে পারবেন না। এছাড়া বিদেশফেরত কোনো সাক্ষাত্প্রার্থী কারাগারে বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে পারবে না বলে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বন্দিদের দেখভালের কাজে যেসব কারা কর্মকর্তা ও কারারক্ষী দায়িত্ব পালন করেন, তারাও যেন করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত না হন সে জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেককে ঘণ্টায় ঘণ্টায় সাবান অথবা জীবাণুনাশক তরল দিয়ে হাত ধোয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সবাইকে মাস্ক পরে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। কারাগারের চার পাশ ও ভেতরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারাগারে ডিউটি অফিসার ও বন্দিদের ওয়ার্ডগুলো প্রতিদিন ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ধোয়া হচ্ছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
০৭ এপ্রিল, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন