ঢাকা শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ৬ বৈশাখ ১৪২৬
৩৪ °সে

এলএনজি এলেও গ্যাস সংকট কাটেনি

চট্টগ্রামে অনেক শিল্প-কারখানায় উত্পাদন ব্যাহত, আবাসিকে ভোগান্তি, শিকলবাহায় একটি বিদ্যুত্ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ
এলএনজি এলেও গ্যাস সংকট কাটেনি

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহের পরও চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট কাটেনি। আগের চেয়ে বর্তমানে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্পে নতুন করে আবার গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক শিল্প-কারখানায় উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। শিল্পে যারা নতুন সংযোগ নিয়েছেন, তারাও সমস্যায় পড়েছেন। সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিকলবাহায় ২২৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুত্ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ গত সপ্তাহ থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, গত কয়েকদিন যাবত্ চট্টগ্রামে গ্যাস নিয়ে কিছুটা দুর্ভোগ বেড়েছে। আবাসিক গ্রাহকদের দিনের বেলায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। রান্নার চুলা জ্বলছে মিটমিট করে। সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও শিল্প কারখানায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। শীতে এমনিতে আবাসিকে গ্যাসের ব্যবহার স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেড়ে যায়। ফলে সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাস ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপক (কাস্টমার অ্যান্ড মেনটেইনেন্স) প্রকৌশলী অনুপম দত্ত ইত্তেফাককে বলেন, ‘এলএনজি সরবরাহ কম দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে দৈনিক ৩১৫/৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের দৈনিক চাহিদা দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি। ফলে গত সপ্তাহে শিকলবাহায় একটি বিদ্যুত্ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

জানা গেছে, আবাসিকে গ্যাসের নতুন সংযোগ প্রদান বন্ধ থাকলেও শিল্প-কারখানায় নতুন সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে গ্যাসের চাহিদা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চাহিদা অনুপাতে সরবরাহ না বাড়ায় সংকট কাটছে না। কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে সরবরাহকৃত গ্যাসের অধিকাংশ কাফকো ও সিইউএফএল সার কারখানায় বরাদ্দ দেওয়া হয়। বর্তমানে কাফকো ও সিইউএফএলে দৈনিক ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। রাউজান বিদ্যুত্ কেন্দ্রের একটি ইউনিটে দৈনিক ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট দেওয়া হচ্ছে। বরাদ্দ পাওয়া বাকি গ্যাস শিল্প-কারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও আবাসিকে সরবরাহ করা হচ্ছে।

গত ১৮ আগস্ট থেকে চট্টগ্রামে এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে তিন জাহাজ এলএনজি আনা হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে চতুর্থ জাহাজ এলএনজি আসার কথা রয়েছে। তখন সরবরাহ বাড়ানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। মহেশখালীতে স্থাপিত এলএনজি টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু দৈনিক ৩০০ থেকে ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি সরবরাহ করা হয়নি। পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহের সক্ষমতা ছিল না এমন নয়। চট্টগ্রামের চাহিদা অনুপাতে সরবরাহ দেওয়া হয়েছে। সামনে চাহিদা অনুপাতে সরবরাহ বাড়ানো হবে বলে তিনি জানান।

চট্টগ্রামে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে শিকলবাহায় অবস্থিত ২২৫, ১৫০ ও ৬০ মেগাওয়াটের ৩টি ইউনিট এবং রাউজানে অবস্থিত ৪২০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট রয়েছে। বর্তমানে গ্যাস দিয়ে রাউজানের একটি ইউনিট চালু রয়েছে। তার মধ্যে ২২৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুত্ কেন্দ্রে ডুয়েল-ফুয়েলের ব্যবস্থা রয়েছে।

শিল্পে গ্যাস সংযোগ চালু হওয়ার পর চট্টগ্রামে ৬৭৬টি শিল্প কারখানায় গ্যাস সংযোগ প্রদানের জন্য গঠিত কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে অনেকেই সংযোগের জন্য চাহিদাপত্রের ফি পরিশোধ করেছে। যারা ফি পরিশোধ করেছে তাদের অনেকেই গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছেন।

জানতে চাইলে কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী খায়েজ আহমেদ মজুমদার ইত্তেফাককে বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের নেটওয়ার্কের সক্ষমতা কম। দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি চাহিদা রয়েছে। গ্যাস নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে কাজ শেষ হবে। এর পর আমাদের গ্রাহকদের চাহিদা অনুপাতে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া যাবে।’

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন