আজকের পত্রিকা
ঢাকা বুধবার, মে ০৫, ২০২১, ২২ বৈশাখ ১৪২৮সাগরে মাছ মিলছে না, খালি ট্রলার ফিরছে তীরে
সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার
সাগরে মাছ মিলছে না। লাখ টাকা খরচ করে জেলেরা সাগরে গেলেও জালে ধরা পড়ছে না কাঙ্ক্ষিত মাছ। এখানে সেখানে সপ্তাহখানেক জাল ফেলেও মাছের দেখা না পেয়ে খালি ট্রলার নিয়ে তীরে ফিরছেন অনেকে। রমজানের কারণে মাছের বাড়তি চাহিদা রয়েছে, কিন্তু বাজারে মাছের দেখা নেই। যে সামান্য মাছ মিলছে তার দামও বেশ চড়া।
জেলেরা জানান, গত কয়েক মাস ধরে সাগরে মাছের আকাল চলছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মাছের সংকটের কারণে ক্রেতাদের কাছে বাড়তি দাম চাওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজার মত্স্য অবতরণ কেন্দ্র এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সাগরে যাওয়া ট্রলারগুলো বাঁকখালী নদীর তীরে ফিরছে। কিছু কিছু ট্রলারে মাছ নামলেও পরিমাণ একেবারেই কম। আবার অনেকে ফিরেছেন খালি ট্রলার নিয়েই।
জেলেরা বলছেন, সাগরে মাছের আকাল চলছে। জাল ফেলেও মিলছে না মাছের দেখা। ফলে ট্রলারে খাবার শেষ হয়ে যাওয়ায় যা পেয়েছেন তা নিয়ে বা খালি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন ঘাটে।
এফবি আল্লাহর দান ট্রলারের মাঝি ইমরান বলেন, গত বছর এই সময় সাগরে মাছ শিকারে গিয়ে ৫ হাজার ইলিশ পেয়েছিলাম। কিন্তু গত ১২ দিন সাগরে মাছ শিকার করে পেয়েছি মাত্র ৩০০টি ইলিশ। ওদিকে ট্রলারে জেলেদের খাবার শেষ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে ফিরতে হয়েছে ফিশারি ঘাটে।
মো. নয়ন নামে আরেক জেলে বলেন, ট্রলার মালিক ২ লাখ টাকার রসদে ১৫ জন জেলে দিয়ে সাগরে মাছ শিকারে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু ১৫ দিন সাগরে জাল ফেলে আশানুরূপ মাছ ভাগ্যে জুুুুটল না। অল্প পরিমাণ মাছ পেয়েছিলাম, যা মত্স্য অবতরণ কেন্দ্রে এনে বিক্রি করে মাত্র ৪০ হাজার টাকা পেয়েছি। এতে ট্রলার মালিকের লোকসান হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এখন আর ট্রলার মালিক সাগরে পাঠাচ্ছেন না। মত্স্য ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন হাজারী বলেন, ট্রলারগুলো যেভাবে খালি ফিরে আসছে তাতে মনে হচ্ছে সাগরে মাছের লকডাউন চলছে। লোকসান গুনছেন ট্রলার মালিক এবং আগাম দাদন দেওয়া ব্যবসায়ীরা। আয় বন্ধ হওয়ায় কষ্টে আছেন শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টরা।
ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, এক কেজি ইলিশের দাম পড়ছে এক হাজার টাকা, রিটা (গুইজ্জা মাছ) বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা, সুরমা সাড়ে ৫০০ টাকা, চাপা ৩০০ টাকা ও টুনা ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সব ধরনের মাছে ৫০ থেকে ১০০-১৫০ টাকা দাম বাড়তি।
মত্স্য অবতরণ কেন্দ্রের মার্কেটিং কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, সাগরে মাছের আকাল চলায় জেলেদের মাছ শিকারে পাঠাচ্ছেন না অনেক ট্রলার মালিক। ফলে রাজস্ব আদায় কম হচ্ছে। গত বছর কক্সবাজার মত্স্য অবতরণ কেন্দ্রে ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত অবতরণ হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন সামুদ্রিক মাছ। সরকারি রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ২৪ লাখ টাকা। কিন্তু এ বছর গত রবিবার পর্যন্ত মাছ অবতরণ হয়েছে ১ হাজার ৬০১ মেট্রিক টন। আর রাজস্ব আয় হয়েছে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা।

