আজকের পত্রিকা
ঢাকা রোববার, মে ১৬, ২০২১, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮মির্জাপুরে শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রবাসীর স্ত্রীর লাশ উদ্ধার!
বাবার অভিযোগ হত্যাকাণ্ড
মির্জাপুরে শ্বশুরবাড়ি থেকে সোমবার রাতে সাদিয়া আক্তার নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার পেছনের দুই হাত বাঁধা ও ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনার পর থেকে বাড়ির লোকজন পলাতক। মির্জাপুর উপজেলার ১৩ নম্বর বাঁশতৈল ইউনিয়নের জুড়ান মার্কেট (জুড়ানবাজার) এলাকায় এ খুনের ঘটনা ঘটেছে।
সাদিয়ার বাবা অভিযোগ করেন, যৌতুক হিসেবে ৩ লাখ টাকার জন্য বেশ কিছুদিন ধরে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন চাপ দিচ্ছিল। এছাড়া তার ননদের স্বামী তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এসব নানা বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাদিয়ার শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে অত্যাচার করতেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
জানা যায়, সাদিয়া বাঁশতৈল খলিলুর রহমান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। সাদিয়ার পিতার নাম সেলিম মিয়া, গ্রামের বাড়ি আজগানা ইউনিয়নের বেলতৈল গ্রামে। তার স্বামী মো. ওয়াজেদ মিয়া দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী। ওয়াজেদ আলীর পিতার নাম রফিক মিয়া।
সাদিয়ার পিতা জানান, আড়াই বছর আগে ওয়াজেদ আলীর সঙ্গে সাদিয়ার বিয়ে হয়। জামাই বিদেশে থাকলেও বাড়ির লোকজনদের দেখাশোনার জন্য সাদিয়া শ্বশুরবাড়িতেই বেশি সময় থাকত। সাদিয়ার শ্বশুরবাড়ির লোকজন কিছুদিন ধরে সাউথ আফ্রিকায় ওয়াজেদ আলীর ব্যবসার (দোকান কেনার) জন্য ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিল। যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় সাদিয়ার ওপর নানা ভাবে নির্যাতন করে আসছিল তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
অপর দিকে স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগে তার ননদ রোজিনার স্বামী জুয়েল সাদিয়াকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এ নিয়ে পারিবারিক অশান্তির মধ্যে ছিল সাদিয়া। পারিবারিক অশান্তি দূর করার জন্য এ নিয়ে সাদিয়ার শ্বশুরবাড়িতে একাধিকবার সালিশও হয়েছে। এই খুনের পেছনে তার হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাদিয়ার বাবা। মেয়ের খুনের সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক মো. আজিম উদ্দিন বলেন, দুই হাত ওড়না দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় গৃহবধূ সাদিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ধারণা এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সাদিয়ার বাবা সেলিম বাদী হয়ে থানায় সাধারণ ডায়ারি করেছেন।

