ঢাকা সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬
২৪ °সে

সুখী হওয়ার পাঁচ উপায়

সুখী হওয়ার পাঁচ উপায়

আজ বুধবার আন্তর্জাতিক সুখ দিবস পালন করা হবে বিশ্বের অনেক দেশে। আপনি যদি সেই অনুভূতি পুরোপুরি না পেয়ে থাকেন, চিন্তার কিছু নেই, আপনি জেনে নিতে পারেন কিভাবে একজন সুখী হওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিদ্যার একজন অধ্যাপক লুরি স্যান্তোস বলেন, ‘সুখী হওয়াটা এমন একটা ব্যাপার নয় যে, এটা এমনি এমনি ঘটে গেল। আপনাকে এজন্য অভ্যাস করে করে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন, কীভাবে খারাপ লাগা বা দুঃখের বিষয়াগুলোকে ভুলে যেতে হবে। ইয়েলের ৩১৭ বছরের ইতিহাসে তার ক্লাস ‘মনোবিদ্যা এবং সুখী জীবন’ হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয় কোর্স, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাভুক্তির রেকর্ড ভেঙ্গে ১২০০ শিক্ষার্থী নিজেদের নাম লিখিয়েছেন। তিনি বলেন, বিজ্ঞান প্রমাণ করে দিয়েছে যে, সুখী হতে হলে অব্যাহতভাবে চেষ্টা করে যেতে হবে। এটা সহজ কাজ নয়, সেজন্য সময় দরকার। তবে এটা করা সম্ভব। নিচে অধ্যাপক স্যান্তোসের সেরা পাঁচটি পরামর্শ তুলে ধরা হলো।

প্রাপ্তির একটি তালিকা করুন :শিক্ষার্থীদের এমন একটি তালিকা তৈরি করার জন্য বলে থাকেন স্যান্তোস, যেগুলোকে তারা নিজেদের জীবনে প্রাপ্তি বলে মনে করেন। এই তালিকা তৈরির কাজটি প্রতিদিন রাতে একবার হতে পারে বা অন্তত সপ্তাহে একবার করতে হবে। তিনি বলেন, এটা হয়াতো শুনতে বেশ সাধারণ লাগছে কিন্তু আমরা দেখেছি, যে শিক্ষার্থী এই চর্চাটি নিয়মিতভাবে করেন, তারা অন্যদের চেয়ে বেশি সুখী হয়ে থাকেন।

বেশি ঘুমান আর ভালো থাকুন :অধ্যাপক স্যান্তোস বলেন, এখানে চ্যালেঞ্জটা হলো, প্রতি রাতে অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমানো এবং সেটা হতে হবে সপ্তাহের সাতটি রাতেই। এই সাধারণ বিষয়টি অর্জন করা অনেকের কাছে অনেক কঠিন বলে মনে হয়। বেশি ঘুমানোর ফলে বিষণ্নতায় ভোগার সম্ভাবনা হ্রাস পায় এবং আপনার ভেতর ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করে।

ধ্যান :প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট ধ্যান করুন, সপ্তাহের প্রতিটি দিন। স্যান্তোস বলছেন, যখন তিনি শিক্ষার্থী ছিলেন, নিয়মিত ধ্যান তার ভেতর ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করতো। এখন তিনি একজন অধ্যাপক। তিনি শিক্ষার্থীদের বেশ কিছু গবেষণার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, কীভাবে ধ্যান এবং পুরো মনোযোগ টেনে নেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড আরো সুখী হতে সহায়তা করে।

পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আরো বেশি সময় কাটানো :স্যান্তোসের তথ্য মতে, সামপ্রতিক বেশ কিছু গবেষণায়া দেখা গেছে যে, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে চমত্কার সময় কাটানো গেলে সেটা মানুষকে প্রফুল্ল বা সুখী করে তোলে। যাদের আমরা পছন্দ করি, তেমন মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো- অথবা ‘ব্যক্তিগত ভালো সম্পর্ক ও সামাজিক যোগাযোগের’ ফলে মানুষের মধ্যে একটা আনন্দ এবং স্বস্তি তৈরি করে, যা আসলে তাদের ভালো থাকাকে আরো বাড়িয়ে তোলে।

সময় সম্পর্কে মানুষের ধারণার বিষয়টি সুখী হওয়া না হওয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে বলছেন স্যান্তোস। অনেক সময় আমরা সম্পদ বলতে বুঝি কতটা অর্থ আমরা উপার্জন করতে পারছি। কিন্তু গবেষণা বলছে, সম্পদ আসলে সময়ের সঙ্গে অনেক বেশি জড়িত যে, আমরা আসলে নিজেদের জন্য কতটা সময় পাচ্ছি।’

সামাজিক মাধ্যমে কম সময় আর বাস্তব যোগাযোগ বৃদ্ধি : অধ্যাপক স্যান্তোস বলেন, সামাজিক মাধ্যম অনেক সময় আমাদের মিথ্যা সুখের আবহ দিতে পারে কিন্তু তাতে ভেসে না যাওয়ার মতো সতর্ক থাকতে হবে। সামপ্রতিক গবেষণা বলছে যে, যেসব মানুষ ইন্সটাগ্রামের মতো সামাজিক মাধ্যম বেশি ব্যবহার করে, তারা ওইসব মানুষের চেয়ে কম সুখী হয়ে থাকে, যারা ওগুলো বেশি একটা ব্যবহার করে না।

সুতরাং আপনি যদি জীবনে সত্যিই সুখী হতে চান, তাহলে প্রাপ্তির হিসাব দিয়ে শুরু করুন, রাতে চমত্কার একটি ঘুম দিন, মনকে বিক্ষিপ্ত অবস্থা থেকে সরিয়ে মনোযোগী করুন, যেসব মানুষকে পছন্দ করেন, তাদের সঙ্গে বেশি সময়া কাটান আর সামাজিক মাধ্যম থেকে কিছুদিন বিরতি নিন। এসব পদ্ধতি যদি যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপকারে আসে, তাহলে আপনার জন্যও সেটি কাজে লাগতে পারে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন