ঢাকা সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬
২৪ °সে

‘আমার মায়ের বেতন চাই’

প্রেসক্লাবের সামনে নন-এমপিও শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি
‘আমার মায়ের বেতন চাই’
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন গতকাল রাস্তা অবরোধ করে অবস্থান নেয় —ইত্তেফাক

সিদরাতুল মুনতাহা জিম। রাজবাড়ীর পাংশার সেনগ্রাম পাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মোমেনা খাতুনের মেয়ে। এমপিওভুক্তির দাবিতে তিনি সঙ্গে নিয়ে এসেছেন তার শিশু কন্যাকে। শিশুটির হাতের প্ল্যাকার্ডে লেখা ‘আমার মায়ের বেতন চাই’। মুনতাহা বলে, ‘আম্মু চাকরি করে কিন্তু বেতন পায় না। আমাদের ভাইবোনের পড়াশুনা ও খাওয়ায় কষ্ট হচ্ছে। আম্মুর মাদ্রাসার চাকরিতে বেতন নেই। সবাই বেতন চায়, কিন্তু কেউ দেয় না। আমিও আম্মুর বেতন চাই।’

মোমেনা খাতুন বলেন, ‘১৮ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। প্রতিষ্ঠানটি এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। এর আগে আন্দোলনের অংশ হিসেবে ঢাকায় এসে প্রতিশ্রুতি নিয়ে ঘরে ফিরেছিলাম। আশা করেছিলাম, এবার বুঝি সংসারের চাকা ঘুরবে। খেয়ে পড়ে ভালো থাকব। কিন্তু কিছুই হলো না। ’

এমপিওভুক্তির দাবিতে রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়েছেন দেশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা। সড়কে পলিথিন ও কাগজ বিছিয়ে কেউ বসে, কেউবা শুয়ে আছেন। কিছু সময় পর পর দাবি আদায়ে নানা শ্লোগান দিচ্ছেন। গতকাল শুক্রবার তৃতীয় দিনের মতো রাস্তায় আছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। শিক্ষক নেতারা জানান, তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ না করে যাবেন না। গতকাল জুমার দিন তারা রাস্তায়ই নামাজ আদায় করেন।

রাজিমা বেগম নামে এক শিক্ষক জানান, এভাবে আর কতদিন চাকরি করব। বিনা বেতনে চাকরি করেছি ১০ বছরের বেশি। আশা নিয়ে আছি, এই বুঝি দাবি পূরণ হবে। মাস শেষে বেতন পাব। সন্তানদের ভালো খাওয়াতে পারবো। ভালো পোশাক দিতে পারব। কিন্তু আমাদের কপালে বোধ হয় আর সুখ নেই।

নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. বিনয় ভূষণ রায় বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে আবারও রাজপথে নেমেছি। নির্ধারিত কর্মসূচি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের উদ্দেশে আমাদের পথযাত্রা পুলিশ আটকে দিলে আমরা প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়েছি। এখানেই রাত কাটাচ্ছি কয়েক হাজার শিক্ষক-কর্মচারী।

গত বুধবার থেকে এমপিওর দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা। ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে আবেদন করে আসছি। প্রধানমন্ত্রী এর আগে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। কিন্তু এরপর দেড় বছর অতিক্রম হয়েছে, এখনো দাবি পূরণ হচ্ছে না। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা বাড়ি ফিরব না।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস পেয়ে অনশন ভেঙে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন এই শিক্ষকরা। সেবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনেই অনশন করেছিলেন তারা।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন