ঢাকা মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
২৯ °সে

মালাকালের মানুষের মুখে মুখে ‘বাঙলাবন্ধু’

মালাকালের মানুষের মুখে মুখে ‘বাঙলাবন্ধু’

মালাকাল এক বিধস্ত নগরী। ২০১৩ সালে এখানে ঘটে যায় ভয়াবহ এক তাণ্ডব। বিরোধী পক্ষ এখানে চালায় হত্যাযজ্ঞ। পুড়িয়ে দেয় নগরীর বাড়িঘর, মসজিদ-চার্চ, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নষ্ট করে দেওয়া হয় নগরীর সব যোগাযোগ ব্যবস্থা। মাইলকে মাইলজুড়ে এখনো অক্ষত তাণ্ডবের ক্ষত।

নগরীর মানুষরা পায় না খাদ্য, পায় না চিকিত্সা। অনাহারে থাকা এই মানুষ ম্যালেরিয়া, ডায়েরিয়া, কালাজ্বর, রক্তশূন্যতা, পুষ্টিহীনতাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিত্সাসেবার জন্য তারা ছুটে যায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে। সবহারা অসহায় এই মানুষদের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিজেদের ক্যাম্পে নিজ উদ্যোগে তৈরি করেছে একটি লেভেল-২ হাসপাতাল। মালাকালের মানুষ এখানে নিয়মিত চিকিত্সা নিচ্ছে। চিকিত্সাসেবা পেয়ে মালাকালের মানুষ বাংলাদেশিদের ডাকে ‘বাঙলাবন্ধু’ বলে। যেকোনো বাঙালি দেখলেই ছুটে আসে তারা। পরম আন্তরিকতায় কাছে এসে বলে ‘বাঙলাবন্ধু’ কেমন আছো?

গতকাল শনিবার মালাকালে নৌবাহিনীর হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আসেন স্থানীয় ১৫-১৬ জন মানুষ। তাদের মধ্যে কথা হয় ফাগান আদুক লোয়াল, বোনা উইলিয়াম গোয়াং, আব্দুল্লাহ আখন অলডিং, আবান ওটাও গোয়াং এর সঙ্গে। ফাগান বলেন, তার পরিবারের সব সদস্যদের চিকিত্সা তিনি এখান থেকে নেন। তিনি মনে করেন, আন্তরিকতার সঙ্গে নৌবাহিনীর সদস্যরা চিকিত্সা দিয়ে থাকেন। চিকিত্সাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি সব ওষুধ বিনামূল্যে দিয়ে দেন।

বোনা উইলিয়ম গোয়াং বলেন, আমাদের এখানে কোনো হাসপাতাল নেই। তাই কোনো অসুখ হলে শত শত কিলোমিটার দূরে গিয়ে চিকিত্সা নেওয়াটা আমাদের কাছে কল্পনাতীত ছিল। এখানে নৌবাহিনীর হাসপাতাল গড়ে ওঠার পর আমরাই প্রথম চিকিত্সাসেবা নিতে যাই। এর আগে আমরা চিকিত্সা নিতে পারতাম না। তাই আমরা মনে করি নৌবাহিনীর হাসপাতাল আমাদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার এক নিয়ামক। আব্দুল্লাহ আখন অলডিং বলেন, নৌবাহিনীর এই হাসপাতাল গড়ে ওঠার আগে আমরা গাছের ছাল পাতা দিয়ে চিকিত্সা নিতাম। তাতে কারো অসুখ সারতো, আবার কেউ মারা যেত। তবে বেশির ভাগই মারা যেত।

চিকিত্সা নিতে আসা আরেক রোগী বলেন, আমাদের এখানে ম্যালেরিয়া হলে সেটা গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ত। এই হাসপাতাল আমাদের সেই ভয়াবহতা থেকে বাঁচিয়েছে।

লেভেল-২ হাসপাতালের চিকিত্সক সার্জন লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ফয়সাল বলেন, এখানে তিনি এবং সার্জন লেফটেন্যান্ট কমান্ডার দিপঙ্ক পালাক্রমে চিকিত্সা দেন। তিনি বলেন, এখানে বেশিরভাগ মানুষই ম্যালেরিয়া, রক্তশূন্যতা আর পুষ্টিহীনতায় আক্রান্ত হন। আমাদের এখানে সপ্তাহে এক থেকে দেড়শ রোগী চিকিত্সা নিতে আসেন। তারা চিকিত্সা সেবা পেয়ে খুশি, সে কারণে তারা মাঝে মধ্যে ক্ষেতের তরমুজ বা অন্য কোনো ফল নিয়ে আসে আমাদের জন্য। তবে আমরা তাদের সেসব ফলমূল নেই না। তাদেরকে ওই ফলমূল বেশি করে খাবার পরামর্শ দেই।

সার্জন লেফটেন্যান্ট কমান্ডার দিপঙ্কর বলেন, এই অঞ্চলের মানুষ যেসব এলাকায় বসবাস করে সেখানে সাপ ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বেশি। সে কারণে সাপে কাটা ও পোকামাকড়ের কামড়ে আক্রান্ত রোগী প্রতি সপ্তাহে এক-দুইজন আসেন। আমরা তাদের এক থেকে দুই দিন হাসপাতালে রেখে চিকিত্সা দেই।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০২ জুন, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন