ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২০, ১০ মাঘ ১৪২৭
২২ °সে

বরফ গলা পানিতে জমজমাট ব্যবসা!

বরফ গলা পানিতে জমজমাট ব্যবসা!

বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে গলছে পৃথিবীর মেরু অঞ্চলের বরফ। মেরু অঞ্চলের সেই বরফ গলা নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবেশবিদরা। কিন্তু তারই মাঝে বরফ গলা পানিকে কেন্দ্র করে কানাডার পূর্ব উপকূলে গড়ে উঠেছে ব্যবসা। এমনই এক বরফ সংগ্রাহক কানাডার এডওয়ার্ড কিন। হিমশৈলের খোঁজে প্রতিদিন তিনি পাড়ি জমান উত্তর আটলান্টিকে। গ্রিনল্যান্ডের হিমবাহ গলা বরফের টুকরোই তার উদ্দেশ্য। সেই বরফের টুকরোগুলো সংগ্রহ করে স্থানীয় কোম্পানিতে বিক্রি করেন বরফ গলা পানি। কখনো সেই পানি মিশিয়ে তৈরি করা হয় মদ, আবার কখনো তৈরি করা হয় প্রসাধন সামগ্রী। গত ২০ বছর ধরে এভাবেই বরফ সংগ্রহ করে আসছেন এডওয়ার্ড কিন। প্রতিদিন সকালে তিন সহযোগীকে নিয়ে নৌকায় চেপে ‘সাদা সোনা’ অর্থাত্ হিমশৈলের খোঁজে পাড়ি দেন ক্যাপ্টেন কিন। উপগ্রহ মানচিত্র ব্যবহার করে ২৪ কিলোমিটার পাড়ি দিতে হয় সেন্ট জনসের বাসিন্দা কিনকে। সেখানে পৌঁছেই তিনি দুরবিনে চোখ রেখে খুঁজতে থাকেন সবুজ পানি। নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূল বরাবর কয়েক মিটার লম্বা হিমশৈল খুঁজে পেলেই অর্ধেক কাজ শেষ। এরপর সেগুলোকে সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন নৌকায় করে।

পরিবেশবিদেরা জানিয়েছেন, বাকি বিশ্বের তুলনায় উত্তর মেরুতে তিন গুণ দ্রুতহারে বরফ গলছে। উত্তর মেরু সংলগ্ন অঞ্চলের এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়েই ফুলেফেঁপে উঠেছে কিনের ব্যবসা। কিন্তু কাজটা বেশ কঠিন। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দিনের মধ্যেই ফিরতে হয় কিনদের। বোনাভিস্তা উপসাগর ধরেই চলতে থাকে বরফের সন্ধান। কখনো কখনো বরফ ভাঙতে ব্যবহার করেন রাইফেলও। একের পর এক গুলিতে বরফ আলগা করার প্রয়াস চলতে থাকে। তবে রোজই যে এই পদ্ধতি কার্যকর হয়, তা নয়।

এই বরফ গলা পানির বাজারদর বোতল পিছু ১২ ডলার। পশ্চিম এশিয়ার ধনী ব্যক্তিদের কাছেই সরবরাহ করা হয় এই পানি। বরফ গলা পানি বিক্রয়কারী সংস্থার কর্মী এলিজাবেথ গ্লিসন জানিয়েছেন, হিমশৈলের গলা পানি পৃথিবীর সবচেয়ে বিশুদ্ধ পানি। সে কারণেই এর চাহিদা অনেক বেশি। তাছাড়া ওক আইল্যান্ডে বেরি ও বরফ গলা পানি থেকে তৈরি করা হয় মদও। যে মদ বোতল পিছু ১০ থেকে ৯০ কানাডীয় ডলারে বিক্রি করা হয়। -আনন্দবাজার

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন