ঢাকা মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬
২৮ °সে


আগাম হুঁশিয়ারিকে পাত্তা দেননি জর্জ বুশ

নাইন-ইলেভেন হামলার ১৮ বছর
আগাম হুঁশিয়ারিকে পাত্তা দেননি জর্জ বুশ

২০০১ সালে গ্রীষ্মে অর্থাত্ ১১ সেপ্টেম্বরের আগে যুক্তরাষ্ট্রে বড়ো ধরনের সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি নিয়ে বারবার হুঁশিয়ার করা হলেও তত্কালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের সরকারকে পাত্তা দেয়নি। দীর্ঘদিন পর বিবিসির হিদালগোর কাছে সেই তথ্য প্রকাশ করেছেন সাবেক ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি হার্ট। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সিনেটর গ্যারি হার্ট বলেন, এসব হুঁশিয়ারিকে অবজ্ঞা করেছিল তত্কালীন সরকার। খবর বিবিসির

গ্যারি হার্ট বলেন, আমি বা অন্যরা ঠিক জানতে পারিনি যে কোথা থেকে এই হামলা হতে পারে। কিন্তু আমরা প্রায় নিশ্চিত ছিলাম যে খুব শিগগিরই হামলা হচ্ছে। নাইন-ইলেভেন হামলার মাত্র ৮ মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ঝুঁকির ওপর তদন্ত রিপোর্ট চূড়ান্ত করা হয়। দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে ব্যাপক তদন্তের পর রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয়। তত্কালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন সরকারি কমিশন গঠন করেছিলেন। এর যৌথ নেতৃত্বে ছিলেন সিনেটর গ্যারি হার্ট এবং রিপাবলিকান দলের ওয়ারেন রাডম্যান। কমিশন ২০টি দেশের একশ’র মত লোকের কাছ থেকে সাক্ষ্য প্রমাণ জোগাড় করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে এত বড় তদন্ত পর্যালোচনা কখনো হয়নি।

গ্যারি হার্ট বলেন, কমিশনের ১১ সদস্য তাদের তদন্তের বিশ্লেষণ করে মতামত দিয়েছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র বিপদের মুখে। এমন ঝুঁকি রয়েছে যার পরিণতিতে বিপুল সংখ্যক মার্কিন নাগরিক মারা যেত পারেন। কিন্তু ঐ হুঁশিয়ারিকে সরকার কতটা গুরুত্ব দিয়েছিল এমন প্রশ্নের জবাবে গ্যারি হার্ট বলেন, এমনকি সংবাদ মাধ্যমও তদন্ত রিপোর্টকে গুরুত্ব দেয়নি। ২০০১ সালে জানুয়ারিতে যখন ঐ কমিশন তাদের রিপোর্ট চূড়ান্ত করে প্রকাশ করে তখন হোয়াইট হাউজে নতুন সরকার। মাত্র ১১ দিন আগে রিপাবলিকান জর্জ ডাব্লিউ বুশ নতুন প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেন। কমিশন সিদ্ধান্তই নিয়েছিল নতুন প্রেসিডেন্ট যিনি হবেন, তার হাতে তারা রিপোর্ট ও সুপারিশ তুলে দেবে। কিন্তু গ্যারি হার্ট বলেন, প্রেসিডেন্ট বুশ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট রিচার্ড চেনি আমাদের সঙ্গে সাক্ষাতে রাজি হননি। তবে কমিশন নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ড, পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল ও প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা উপদেষ্টা কনডোলিসা রাইসের সঙ্গে দেখা করে। তিনি জানান, দুই মন্ত্রী তাদের কথা গুরুত্বসহকারে শুনলেও কোনো ব্যবস্থা নেননি। এমনকি বিমান ব্যবহার নিয়ে সতর্ক করা হলেও সরকার আমলে নেয়নি।

কী বলেছিলেন সিআইএ প্রধান

মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএর ভেতরে সন্দেহ দানা বাঁধছিল। ২০০১ সালে সিআইএর প্রধান জর্জ টেনেট নাইন-ইলেভেন হামলার ১৪ বছর পর মার্কিন টিভি চ্যানেল সিবিএসকে এক সাক্ষাত্কারে বলেন, গ্রীষ্মে তাদের কাছে তথ্য প্রমাণ আসে যে আল-কায়েদা আমেরিকায় বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে। সিআইএর যে ইউনিট আল-কায়েদার ওপর নজরদারি করতো তার প্রধান রিচ পিন্ট ঐ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

বিশ্বাস করেনি হোয়াইট হাউজ

বুশ প্রশাসনের যুক্তি ছিল কখন, কোথায় এবং কিভাবে হামলা হবে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য কমিশনের রিপোর্টে ছিল না এবং এ ধরনের নানা হুঁশিয়ারি হোয়াইট হাউজে প্রতিদিনই আসে। সরকারের এই যুক্তি সম্পর্কে গ্যারি হার্ট বলেন, সুনির্দিষ্ট করে বলার উপায় তখন ছিল না। উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর কয়েকজন ‘কট্টর ইসলামপন্থি’ যাত্রী বিমান অপহরণ করে নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে গিয়ে আছড়ে পড়েছিল। ঐ হামলার ৫০ মিনিট না যেতেই আরেকটি বিমান বিধ্বস্ত হয় ওয়াশিংটনে পেন্টাগনের সদর দপ্তরের ওপর। অপহূত চতুর্থ বিমানটি বিধ্বস্ত হয় ওয়াশিংটনের কাছে একটি মাঠের ভেতর। নজিরবিহীন ঐ সন্ত্রাসী হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন