ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬
২৯ °সে


সিলেটে ‘শিলং তীর’ নাম পালটে এখন ‘ডিজিটাল নম্বর খেলা’!

জুয়ার কোটি কোটি টাকা পাঁচার হয়ে যাচ্ছে
সিলেটে ‘শিলং তীর’ নাম পালটে এখন ‘ডিজিটাল নম্বর খেলা’!

সিলেটের সীমান্ত এলাকা জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, দক্ষিণ সুরমা উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় ভারতীয় অবৈধ ‘শিলং তীর খেলা’ দীর্ঘদিন থেকে চলে আসছে। রমরমা এই জুয়া খেলার মাধ্যমে চিহ্নিত মহল হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। জুয়ার এই টাকা ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এই খেলায় অংশ নিয়ে অনেকেই সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। এমনকি নারীরাও সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে এ ভয়াবহ নেশায়। তবে জুয়ার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে তাদের চোখে ধুলো দিতে সম্প্রতি তারা এর নামকরণ করেছে ‘ডিজিটাল নম্বর খেলা’।

এদিকে ঢাকায় অবৈধ ক্যাসিনো বাণিজ্য এবং ঐসব স্থান থেকে কোটি কোটি টাকা ও মাদক উদ্ধারের এবং প্রভাবশালীরা ধরা পড়ার ঘটনায় সিলেটের জুয়ার আসরের আয়োজকরা আতঙ্ক রয়েছেন। সম্প্রতি সিলেট অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বেশ নড়েচড়ে বসেছেন। প্রতি রাতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে জুয়াড়ি, ছিনতাইকারী ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের ধরতে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এসএমপির এডিসি (মিডিয়া) জেদান আল মুসা গতকাল বিকালে ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা মাদক, জুয়া, ছিনতাই, অস্ত্রবাজ, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের বিষয়ে জিরো টলারেন্সে আছি। এসব অপকর্ম কোনোভাবেই চলতে দেওয়া হবে না, অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

সূত্র জুয়া খেলায় ধ্বংসের পথে পা বাড়িয়েছে রিকশা-পাথর-বালু শ্রমিক, প্রশাসনের কিছুসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষক, ব্যাংক কর্মকর্তাসহ বেকার যুবকরা। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২৫ থেকে ৩০ বছর পূর্বে ভারতীয় মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীরা শিলং খেলা আবিষ্কার করে। তারা এর নাম রাখে ‘তীর খেলা’ (শিলং তীর খেলা নামে বাংলাদেশে পরিচিত)। স্থানীয়ভাবে এর নাম দেওয়া হয় টুকা খেলা, নম্বর খেলা, বোটকা খেলা, ভাগ্য পরীক্ষা খেলা। তবে বর্তমানে এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডিজিটাল নম্বর খেলা’। খেলাটি অনুষ্ঠিত হয় ভারতের শিলং শহরের কোনো বাড়িতে। সেটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে এদেশের এজেন্টরা। খেলার নিয়ম হলো, ০ থেকে ৯৯ পর্যন্ত ১০০টি সংখ্যার মধ্যে একটি জনতার, বাকি ৯৯টি আয়োজকদের। ১টি সংখ্যা লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। যে নম্বরটি লটারিতে ওঠে সেটির বিপরীতে যে বা যারা টাকা বাজি ধরেন তারা প্রতি ১ টাকায় ৭০ টাকা করে পাবেন। এই তীর খেলা অনুষ্ঠিত হয় প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। বর্তমানে রাতেও এ খেলা শুরু হযেছে। সিলেটের স্থানীয় এজেন্টরা খেলার সিরিয়াল দিয়ে থাকেন। রবিবার ছাড়া সপ্তাহে ৬ দিন খেলা পরিচালিত হয়। ফলাফল ঘোষণা করা হয় প্রতিদিন বিকাল ৫টায়।

জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ওসি শ্যামল বণিক বলেন, আমি এ থানায় আসার পর জুয়া, তীর খেলা ও মাদক মুক্ত করা ঘোষণা দিয়েছি এবং প্রতিটি বাজার এলাকায় মাইকিং করে এগুলো বন্ধ করার জন্য সতর্ক করে দিয়েছি। তারপরও এসব বন্ধ হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে আমার টহল টিম “টিম জৈন্তাপুর” অভিযান শুরু করেছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন