ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২১ °সে


রহস্যময় জীবনের টানে লালন মেলায় ভক্তের ঢল

আসিফুর রহমান সাগর ও সোহেল হাবিব কুমারখালী (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা
রহস্যময় জীবনের টানে লালন মেলায় ভক্তের ঢল
বাউল সাধকদের পদচারণায় মুখর কুষ্টিয়ার লালন আখড়া ছেঁউড়িয়া। গানে গানে লালন সাঁইকে স্মরণ করছেন বাউল শিল্পীরা —ইত্তেফাক

সাধকদের কাছে লালনের গান শুধু সুরে বসানো শব্দমালা নয়। তাদের কাছে লালনের গানের বাণী হচ্ছে জীবন-জিজ্ঞাসার অন্বেষণ। আখড়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার সারা রাত জেগে সাধুরা রত ছিলেন সেই অন্বেষণে। আর যারা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন সূর্য ওঠার আগে তারাও উঠে আসর সাজাতে ব্যস্ত। স্থানে স্থানে সাধকরা জটলা করে দোতারা ও মন্দিরা বাজিয়ে গানের সুরে যেমন নিজেরা মজে যান, তেমনি লালনের বাণী, সুরের রেশ মাতোয়ারা করে তুলছে ভিড় করে থাকা শ্রোতাদের। ধর্ম, কূল, জাত বিভেদের বালাই নেই এখানে। সব মানুষ এক মহামিলনে যুক্ত হয়েছেন শুধু সেই মহান সাধকের বাণীকে অবলম্বণ করে।

ছেঁউড়িয়ায় সাধু ভক্ত-অনুসারীদের সম্মিলন যেন মহামিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। পাঁচ দিনব্যাপী লালন স্মরণোত্সবের দ্বিতীয় দিনে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়ির বাউল আঙিনা কানায় কানায় ভরে ওঠে। ফকির লালনের মূল মাজারের সামনে মরা কালী নদীর তীরে স্থায়ী লালন মঞ্চে রাতভর চলছে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় লালন সংগীত। জনপ্রিয় শিল্পীদের গানে মূলমঞ্চও জমে উঠেছে।

ছেঁউড়িয়ায় সারাদেশের মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখে অবাক টাঙ্গাইল থেকে আসা কলেজ ছাত্রী জিন্নাত নাসরিন। তিনি বললেন, লালনের গান ভালো লাগে, তার স্মরণ অনুষ্ঠানে আসার ইচ্ছা ছিল অনেক দিন থেকে, এবার চলে এসেছি বন্ধুরা মিলে। কিন্তু সবাই কি আমার মতোই বেড়াতে আসছেন? প্রশ্ন করে উত্তরও দিলেন নিজেই। বললেন, লালনের গান আর তার রহস্যময়তার টানে আসছেন ভক্তরা। লালনের আখড়াকে কেন্দ্র করে মৃত্যুর পরেও লালনের প্রতি মানুষের আগ্রহ যেন দিন দিন বাড়ছে। সবাই নানাভাবে অন্বেষণ করে চলেছেন এই মরমি পুরুষকে। তার রচনার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা প্রায় সব বাঙালিরই।

লালন উন্মুক্ত মঞ্চ :ছেঁউড়িয়ায় লালনের মূল মাজার আঙিনার বাইরে মরা কালীগঙ্গা নদীর তীরে লালন উন্মুক্ত মঞ্চ। এখানে লালন একাডেমির আয়োজনে উত্সব উপলক্ষ্যে তিনদিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা ও লালন সংগীতানুষ্ঠান। সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে লালন উত্সব। উত্সবের দ্বিতীয় দিনে গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম পর্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। লালন একাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম. তানভির আরাফাত, কুমারখালী পৌরসভার মেয়র মো. শামছুজ্জামান অরুণ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. সেলিম তোহা, জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদের সভাপতি আলম আরা জুঁই, লালন একাডেমির সদস্য মো. সেলিম হকসহ আরো অনেকে। দ্বিতীয় পর্বে রাতভর স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের গুণি শিল্পীদের পরিবেশনায় লালন সংগীত। অন্যদের মধ্যে গান পরিবেশন করেন কাঙালিনী সুফিয়া, ফরিদ বাউল, সমির বাউল, রিজিয়া, জলিসহ অন্যরা।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন