ঢাকা বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
১৮ °সে


কৃষিপণ্য রপ্তানি নিয়ে ভাবতে হবে

কৃষিপণ্য রপ্তানি নিয়ে ভাবতে হবে

কৃষি উত্পাদনে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নত কৃষি যখন আমাদের স্বপ্ন দেখায়, তখন তার পেছনেও থেকে যায় কিছু হতাশা। একটা সময় কৃষিপণ্যের মধ্যে চিংড়ি মাছ, সবজির মতো কৃষিপণ্য রপ্তানি হলেও দিনকে দিন তা কমে এসেছে। ফলের ক্ষেত্রেও আমরা রপ্তানিতে এখনো বড়ো সফলতার মুখ দেখছি না। কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ার পরও কৃষি অর্থনীতিতে আমাদের গতিশীলতা অনেক কম।

রপ্তানিযোগ্য পণ্যের মধ্যে যেগুলো রয়েছে তার বেশিরভাগই হচ্ছে প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য। সবজি, মাছ ও ফলের রপ্তানি নিয়ে ভাবা প্রয়োজন। সাধারণত ফসলে অধিক রাসায়নিক সার, বিষ, হরমোন প্রয়োগের ফলে কতগুলো ক্ষতিকর উপাদান ফসলে থেকে যাচ্ছে, তা পরীক্ষার জন্য দ্রুত ল্যাবে পাঠিয়ে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। চিংড়ি মাছের ক্ষেত্রে, আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল, আলু, পেঁয়াজ, গরুর প্রক্রিয়াজাত দুধ ও বিভিন্ন ধরনের সবজি আন্তর্জাতিক বাজারে ঠিকভাবে তুলে ধরা গেলে দেশের মূল প্রবৃদ্ধিতেও রপ্তানি আরো বেশি ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারে।

দুগ্ধ উত্পাদনে বাংলাদেশ এত বেশি উন্নত হওয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য মাত্রায় দুধ রপ্তানি করা যাচ্ছে না। মাছ উত্পাদনে বাংলাদেশ সপ্তম হলেও রপ্তানির ক্ষেত্রে তেমন সফলতা এখনো নেই। আলু যখন বেশি উত্পন্ন হয়, কাঁঠাল বা অন্য কৃষিপণ্য বেশি উত্পাদিত হলে তা বিভিন্ন কারণে নষ্ট হয়ে যায়। শীতের দিনে টমেটোর হাল দেখে কষ্ট হয়।

কৃষিপণ্যের উত্পাদন বাড়াতে যেমন কাজ করতে হবে, তেমনি বিষমুক্ত ও দূষণমুক্ত ফল উত্পাদন নিশ্চিত করতে হবে। তার সঙ্গে রপ্তানি পণ্যের জন্য আলাদা উত্পাদন স্থান বা জোনও নির্ধারণ করে দেওয়া যেতে পারে এবং সেখানে সব ফসল যাতে বিষমুক্তভাবে উত্পাদন করা হয় তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

কৃষিপ্রধান যে দেশ, সে দেশকে কৃষি রপ্তানির দেশ হিসেবেও দেখা যেতে পারে যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী রপ্তানি বাড়ানো যায়। এজন্য প্রয়োজন কৃষিজপণ্যের উত্পাদনে স্বচ্ছতা। আশা করি কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এ ব্যাপারগুলোতে ভূমিকা রাখবে।

সাঈদ চৌধুরী, শ্রীপুর, গাজীপুর

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১১ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন