ঢাকা শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
১৮ °সে

চটের ব্যাগ অবহেলিত

চটের ব্যাগ অবহেলিত

স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু উদ্ভিদের প্রাণ আছে আবিষ্কার করার আগ পর্যন্ত সকলেই উদ্ভিদকে প্রাণহীন মনে করত। ঠিক তেমনি এই আমাদের প্রিয় ভূমি মাটিরও প্রাণ রয়েছে। সেই মাটির শ্বাস-প্রশ্বাসের পথগুলো আমরা একে একে বন্ধ করে দিচ্ছি। নদী-নালায় পলিথিন ও প্ল­াস্টিক পণ্যে জমাট বেঁধে রয়েছে। যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই মাটির পানি শোষণের পথ রুদ্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ৮০ দশকের শুরুর দিকে বাজারে পলিথিন বাজারজাত শুরু হলো। তখন আমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। তিন-চারটা বই বৃষ্টির সময় পলিথিন ব্যাগে ভরে অনায়াসেই স্কুলে যাতায়াত করা যেত। দোকানদার ফানটা, কোকাকোলা, পেপসি, সেভেন আপ কাচের বোতলের দাম ১০ টাকা অতিরিক্ত রেখে দিত, ফেরত দিলে আবার ফিরিয়ে দিত। এখন পানীয় দ্রব্যগুলো সব প্লাস্টিকের বোতলে বিক্রি করা হচ্ছে। এই প্লাস্টিক পণ্য ও পলিথিন কত ভয়ংকরভাবে যে আমাদের পরিবেশকে দূষিত করে মাটির শ্বাস বন্ধ করে দিচ্ছে, তা আমরা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।

সরকার ২০০২ সালে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। মাঝেমধ্যে পলিথিন রাখার দায়ে ব্যবসায়ীদের ওপর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। কিন্তু শিকড় উপড়ে না ফেললে তো কিছু কাজ হবে না। পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করতে হলে প্রথমে কাঁচামালগুলোর আমদানি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে এবং যেখানে পলিথিন উত্পাদন করা হয় সেসব স্থান সমূলে উত্পাটন করতে হবে। শহরের নালাগুলোতে কেন পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না তার একমাত্র কারণ প্লাস্টিক পণ্য-পলিথিন স্তরে স্তরে জমে গেছে। নালার পানিগুলো মিশেছে নদীতে, নদীগুলোর অবস্থা সেইরকম—প্লাস্টিকের স্তর জমে অনাব্য হয়ে পড়ছে। গ্রামে পলিথিনের ব্যাপক ব্যবহারে জমির উর্বরতা হারিয়ে যাচ্ছে। কেন চটের ব্যাগ উত্পাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়। ৭০ দশকে যখন পলিথিন ছিল না, তখন কি মানুষ বাজার করেনি? তাই চটের ব্যাগ আবার চালু হোক, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হোক। পানীয় দ্রব্য কাচের বোতলে হলে পরিবেশ-বান্ধব হবে।

শ্রীধর দত্ত, মেলঘর, পটিয়া, চট্টগ্রাম

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন