ঢাকা রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
৩২ °সে


পেনশন সমর্পণকারীর পরিবার

পেনশন সমর্পণকারীর  পরিবার

পেনশনভোগী মারা গেলে তাঁর স্ত্রী পেনশনসহ স্বামীর সকল প্রাপ্য আজীবন পাবেন—এটাই নিয়ম। কিন্তু একজন পেনশন সমর্পণকারীর মৃত্যু হলে এতদিন তাঁর স্ত্রী কিছুই পেতেন না। এখন কিছু কিছু পান। কিন্তু না-পাওয়ার পাল্ল­াটাই ভারী। যেমন:

১) ২০১৭ সাল থেকে তিনি মাসিক চিকিত্সাভাতা এবং বছরে দুটি উত্সবভাতা পাচ্ছেন। কিন্তু কোনো সরকারি প্রজ্ঞাপন বা পরিপত্রের নির্দেশ ছাড়াই কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান (যেমন অগ্রণী ব্যাংক) বিধবার বয়স অনুযায়ী তাঁর উত্সব ও চিকিত্সা ভাতা কম পরিশোধ করছে। অন্যদিকে পরিপত্রে উলে­খ নাই অজুহাতে তাঁদের উত্সবভাতায় বার্ষিক ৫% হারে ইনক্রিমেন্ট দিচ্ছে না।

২) সরকার ১৪২৪ বঙ্গাব্দ থেকে পেনশন সমর্পণকারীদের নববর্ষভাতা দিচ্ছে। মৃতদের পরিবার (বিধবা স্ত্রী/ বিপত্নীক স্বামী)-কে তা দেওয়া হচ্ছে না। বলা হচ্ছে সংশি­ষ্ট পরিপত্রে তাদের কথা উলে­খ নাই। এ সংক্রান্ত পরিপত্রটি চিকিত্সা ও উত্সব ভাতা দেওয়া সংক্রান্ত পরিপত্রের আগে জারি করা বিধায় তা বলার অবকাশ ছিল না। চিকিত্সা ও উত্সব ভাতা দেওয়া হলে এটি না দেওয়ার কারণ থাকতে পারে না।

৩) সর্বশেষ বঞ্চনার ঘটনা পেনশনে পুনঃস্থাপনকে কেন্দ্র করে। অবসর গ্রহণের ১৫ বছর পর একজন পেনশন সমর্পণকারী আবার পেনশন পাচ্ছেন। কিন্তু এর মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকলে তাঁর বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী পেনশন পাবেন কি না তা উলে­খ না থাকায় তাঁরা পেনশন বঞ্চিত। যদিও পেনশন তাদেরই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এতদসংক্রান্ত ৮-১০-২০১৮ তারিখে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে যে, আদেশটি ১-৭-২০১৭ তারিখ থেকে কার্যকর হবে। অগ্রণী ব্যাংকের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ১-৭-১৭ তারিখ থেকেই যোগ্যতা অর্জন করে ব্যাংকের পরিপত্র জারি হতে বিলম্ব হওয়ায় ৯ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে আবেদন করে তার পরদিনই মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে পেনশন দেওয়া হয়নি। অন্য এক কর্মকর্তা পেনশনে পুনঃস্থাপনের পর মৃত্যুবরণ করায় তাঁর স্ত্রীকে বলা হয়েছে যে, যেহেতু পরিপত্রে বলা হয় নাই সেহেতু তিনি পেনশন তো পাবেনই না, অন্য বিধবাদের মতো তিনি চিকিত্সা ও উত্সব ভাতাও পাবেন না। নিয়মানুযায়ী একজন পেনশনারের মৃত্যু হলে সঙ্গে সঙ্গে তার বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী মৃতের প্রাপ্য পেনশন এবং সকল ভাতা পাওয়ার কথা। এ ব্যাপারে সংশি­ষ্ট সকল সরকারি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ওয়াহিদুল ইসলাম আখন্দ

৫৭০/১- বি, সেনপাড়া-পর্বতা, ঢাকা ১২১৬

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন