ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
১৯ °সে


অদম্য উন্নয়নযাত্রায় আমাদের স্বপ্ন

অদম্য উন্নয়নযাত্রায়  আমাদের স্বপ্ন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও বলিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সহায়তায় স্বল্পোন্নত দেশের অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় সকল মানদণ্ড পূরণ করে ২০১৫ সালে নিম্ন-মধ্য আয়ের চৌকাঠ পেরিয়ে দশকব্যাপী ৭ শতাংশ গড় জিডিপি অর্জন সম্ভবপর হয়েছে। সাফল্যের এই ধারায় উজ্জীবিত হয়ে বর্তমান সরকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ লালিত স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নের জন্য একটি কর্মসূচি হাতে নিতে যাচ্ছে, স্বপ্নের সেই দেশ হবে দারিদ্র্যমুক্ত, যেখানে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়পরায়ণতা বিরাজ করবে এবং সকলের জন্য অংশগ্রাহী সমৃদ্ধি নিশ্চিত হবে। মূলত রূপকল্প ২০২১-এর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর দেখানো স্বপ্নের উন্নয়ন পথে জাতিকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই সরকার ‘রূপকল্প ২০৪১’ গ্রহণ করেছে।

প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১-এর ভিত্তিমূলে রয়েছে দুটি প্রধান অভীষ্ট (ক) ২০৪১-এর মধ্যেই বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত দেশ, যেখানে বর্তমান মূল্যে মাথাপিছু আয় হবে ১২ হাজার ৫০০ ডলারেরও অধিক এবং যা হবে ডিজিটাল বিশ্বের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ; এবং (খ) সোনার বাংলায় দারিদ্র্য হবে সুদূর অতীতের কোনো বিষয়। দারিদ্র্য নির্মূল করার পাশাপাশি পরিবেশের সুরক্ষা, উদ্ভাবনী জ্ঞান অর্থনীতির বিকাশ ও উত্পাদিকা শক্তি বৃদ্ধি করে, এমন একটি দ্রুত অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই পরিবর্তন তথা রূপান্তর সাধন সম্ভব।

কোনো দীর্ঘ অভিযাত্রার প্রথম কাজ হলো একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ এবং এর জন্য প্রয়োজন সার্বক্ষণিকভাবে যুক্ত থাকার অবিচল সিদ্ধান্ত, এবং সেই সঙ্গে প্রয়োজন এর অগ্রধারাকে অবাধ করতে দূরদর্শী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ। এই জন্যই প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১-এর মতো একটি পথচিত্র অঙ্কন জরুরি হয়ে পড়ে।

প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১-এর মূল লক্ষ্য অংশগ্রহণমূলক সমৃদ্ধি, যা শাসনব্যবস্থার কার্যকর প্রতিষ্ঠানাদি দ্বারা পরিচালিত হবে অন্যান্যের মধ্যে এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—একটি যথাযথভাবে কার্যকর বিচারব্যবস্থা, গণমুখী জনপ্রশাসন, দক্ষ ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং সুষ্ঠু অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা। রূপকল্প ২০৪১-এর দ্বিতীয় ভিত্তি গণতন্ত্রায়ন। বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে প্রয়োজন একটি পুরোপুরি বহুত্ববাদী গণতন্ত্র। এর লক্ষ্যমাত্রা এমন একটি বহুত্ববাদী গণতন্ত্র, যেখানে সকল নীতি ও কৌশলে প্রতিফলিত হবে গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা। বিকেন্দ্রীকরণ হলো এর তৃতীয় স্তম্ভ। তৃণমূল পর্যায়ে প্রশাসনিক, আর্থিক (রাজস্বসহ) ও রাজনৈতিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকৃত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষে সামনে এগিয়ে যাওয়া এবং ২০৪১-এর মধ্যে উন্নত দেশের মর্যাদা অর্জন সম্ভব নয়। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বিনির্মাণ হলো চতুর্থ স্তম্ভ। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্য হলো রূপান্তরশীল অর্থনীতির সঙ্গে এদের সংগতি বিধান এবং যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৌশলগত সম্পর্ক, সম্পদ উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন পদ্ধতি।

প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১-এর জন্য সবচেয়ে বড়ো আর্থিক নীতি চ্যালেঞ্জ হবে কর জিপিপির অনুপাত জিপিপির ১৭ শতাংশে উন্নীত করা। অবকাঠামো ও অন্যান্য সরকারি সেবায় সরকারি বিনিয়োগের বর্ধিত চাহিদা মেটানোর জন্য রাজস্ব বৃদ্ধি প্রয়োজন। এই লক্ষ্যে কর ভিত্তি সম্প্রসারণের কৌশল অবলম্বনসহ বাণিজ্যিক করের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে কৌশলগত অবস্থান বদলে প্রত্যক্ষ কর (আয়কর ও করপোরেট কর) এবং মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) ওপর জোর দিতে হবে। আরেকটি বিষয়ে সমধিক গুরুত্ব দিতে হবে, সেটি হলো সরকারি ব্যয় যাতে আরো দরিদ্রমুখী, জেন্ডার-সংবেদনশীল ও পরিবেশবান্ধব হয়।

রপ্তানি বহুমুখীকরণের জন্য বাণিজ্য ব্যবস্থা : যেহেতু এটি প্রত্যাশিত যে, শিল্প খাত হবে উচ্চ জিডিপি প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি, তাই আমাদের শিল্প খাত ও রপ্তানিকে অধিকতর বহুমুখী করতে শিল্প ও বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করতে হবে। রপ্তানি বহুমুখীকরণকে দুটি সমস্যা মোকাবিলা করতে হয় :ক) বাণিজ্য অবকাঠামো-সংশ্লিষ্ট সমস্যা, এবং খ) বাণিজ্যনীতি ও প্রণোদনা ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট সমস্যা। বাণিজ্য অবকাঠামোর দুর্বলতা (বন্দর, পরিবহন অবকাঠামো, শুল্ক প্রশাসন) সুবিদিত এবং তা সকল রপ্তানিতে প্রভাব ফেলে। শুল্কায়ন পদ্ধতির অদক্ষতা এবং অবকাঠামো সেবা সংশ্লিষ্ট প্রতিযোগীদের মধ্যে উচ্চ আদান-প্রদান ব্যয় হেতু রপ্তানি প্রতিযোগদক্ষতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়।

দারিদ্র্যশূন্য দেশ : প্রবৃদ্ধিকে হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দারিদ্র্য নিরসনমূলক। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সঙ্গে সংগতি রেখে দারিদ্র্য নিরসনের রূপকল্প এই যে, ২০৩০ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্য নির্মূল হবে এবং ২০৪১ এর মধ্যে মাঝারি দারিদ্র্য ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে (৫ শতাংশ বা এর নিম্নে)। ২০৪১ সালের মধ্যে দেশের কর্মসন্ধানী সব নাগরিকের জন্য কাজ থেকে আয়ের ভিত্তিতে জীবনযাপনের ন্যূনতম মান নিশ্চিত করা হবে এবং বয়োবৃদ্ধি হেতু বা দৈহিক অসামর্থ্যের কারণে শ্রমবাজারে অংশগ্রহণে অসমর্থ, এমন অরক্ষিত জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক সুরক্ষা সহায়তার ব্যবস্থা থাকবে। বেকারত্ব অতীতের বিষয় বলে গণ্য হবে।

চাউলের উত্পাদন ১৯৭০-এর দশকের ১০ মিলিয়ন মেট্রিক টন (এমএমটি) থেকে প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়ে তা ২০১৮-তে উন্নীত হয় ৩৭ মিলিয়ন মেট্রিক টনে। এর সঙ্গে আলু, ভুট্টা, গম, সবজি, ফলমূলের মতো ধানবহির্ভূত শস্য, মাছ ও পোলট্রি পণ্যের উত্পাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পায়।

অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আমাদের কৃষিতে এক মৌলিক রূপান্তর ঘটে চলেছে, যা ২০৪০-এর দশকেও অব্যাহত থাকবে। আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে খাদ্য চাহিদার কাঠামোয় পরিবর্তন সূচিত হয়েছে, মানুষ উন্নত পুষ্টিমানসম্পন্ন খাবারের দিকে ঝুঁকছে। উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বহুমুখী খাদ্য গ্রহণ করছে, মাথাপিছু চাউলের ব্যবহার কমছে এবং শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, ভোজ্য তেল ছাড়াও মাংস, মাছ, ডিম ও দুধের মতো পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যগ্রহণের হার বেড়ে চলেছে, বিশেষ করে শহরাঞ্চলের জনগোষ্ঠীর মধ্যে। মত্স্য, প্রাণিসম্পদ ও উদ্যানশস্যের মতো অ-শস্য কৃষির প্রবৃদ্ধি শস্য-কৃষির প্রবৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রাণিসম্পদ ও মত্স্যসম্পদ বর্তমানে কৃষির সবচাইতে দ্রুত বিকাশমান অঙ্গ, চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই দুই অঙ্গের বিকাশের বর্তমান ধারা অব্যাহত রাখা হবে বা তা আরো দ্রুতগামী করা হবে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব : চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের (শিল্প বিপ্লব ০.৪) মধ্যে আমরা আছি। ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার বৈশ্বিক প্রবাহের সবকিছুতেই রূপান্তর ঘটাচ্ছে, পরিবর্তনের ছোঁয়া সর্বত্র, পণ্য, সেবা, অর্থ এবং মানুষ এবং এই রূপান্তর এখনো প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। আরএমজি খাতের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে ধারণা হয় যে, অদূর ভবিষ্যতেই প্রযুক্তিঘন উল্লম্ফনময় উদ্ভাবনার মাধ্যমে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন সংঘটিত হবে; তবে পরিবর্তনের ধারার সঙ্গে যুক্ত হতে আরো কয়েক বছর লাগবে। এই পরিবর্তন, বিশেষ করে অটোমেশন, এতে যন্ত্র-তাড়িত শ্রমিক হটানোর যে ঝুঁকি রয়েছে, তা আরো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা দরকার, এর ফলে শ্রম-ব্যয় সুবিধা ব্যাহত হবে, অথচ বাংলাদেশ এতকাল যাবত্ একান্তভাবে এই সুবিধা ভোগের ওপর টিকে আছে। আমাদের দেশের একটি উল্লেখযোগ্য জনমিতিক বৈশিষ্ট্য হলো যুব শ্রমশক্তির দ্রুত উত্থান। একটি দেশে যুব শ্রমশক্তির প্রবৃদ্ধিকে জনমিতিক লভ্যাংশের জন্য সম্ভাবনার ইঙ্গিতবহ বিবেচনা করা হয়, যা হতে পারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে একটি ইতিবাচক উপাদান।

এলডিসি অবস্থান থেকে উত্তরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ : আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে এলডিসি অবস্থান থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধান বাজারগুলোতে এ সময় আনুকূল্যে ধসের কারণে আমাদের রপ্তানির ওপর বেশ চাপ পড়বে। প্রাথমিক বিশেষণ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৭-এ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ভারত ও চীনের বাজারে আনুকূল্যহীনতার ফলে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি বার্ষিক ১১ শতাংশ হারে হ্রাস পেতে পারে, যার পরিমাণ প্রায় ৬ বিলিয়ন ইউএস ডলার। এছাড়াও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বেশ কিছু ছাড় ২০২৪-এর পরে আর পাওয়া যাবে না। সুতরাং দেশকে এই বিপুল পরিমাণ ক্ষতি সামলে ওঠার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

নারীদের কর্মসংস্থান : একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের জন্য নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে প্রবৃদ্ধিও বেগবান হবে। বিশ্বব্যাংকের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, নারী শ্রমশক্তি অংশগ্রহণের হার বর্তমান ৩৩ শতাংশ হতে ৪৫ শতাংশ এ উন্নীত করা হলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি উন্নীত হবে অতিরিক্ত শতাংশ পয়েন্টে। নারীদের অধিক হারে শ্রমশক্তিতে নিয়ে আসার জন্য সমন্বিতভাবে বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিদ্যুত্ উত্পাদন : উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখার জন্য প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১ বিদ্যুত্ সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যাপক সম্প্রসারণ নিশ্চিতকরণসহ এর দক্ষতা উন্নয়ন, বেসরকারি অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও জ্বালানি উত্স বহুমুখীকরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই ফলে, বিদ্যুত্ সরবরাহ বৃদ্ধিতে বিস্ময়কর অগ্রগতি হয়, যা ২০১০ ও ২০১৮ সালের মাঝে বার্ষিক গড় ১৩.৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পায়। বিদ্যুত্সংযোগের বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে আশা করা যায় যে, এটি ২০২১ সালের মধ্যে সংযোগ ১০০ শতাংশ এ গিয়ে পৌঁছবে।

একটি উদ্ভাবনমুখী অর্থনীতির বিনির্মাণ : বিগত দুই দশকেরও অধিককাল যাবত্ সস্তা শ্রমের সুযোগ গ্রহণ করে প্রবৃদ্ধির চাকা সামনে এগিয়ে নেওয়া হয়, এখন সময় এসেছে বাংলাদেশের জন্য, যখন তাকে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও ডিজিটাল সুবিধাবলি ব্যবহার করে ২০৩০-এর মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের মর্যাদায় আসীন হতে এবং ২০৪১-এর মধ্যে উন্নত অর্থনীতির মর্যাদায় উপনীত হতে উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনকে ত্বরান্বিত করতে হবে।

ডিজিটাল সুবিধাবলি ও উদ্ভাবন : ডিজিটাল বাংলাদেশ মূলত সরকারের ‘রূপকল্প-২০২১ ও রূপকল্প-২০৪১’-এরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ উদ্যোগের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে : ১. একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য তৈরি মানবসম্পদ উন্নয়ন; ২. সবচেয়ে অর্থবহ উপায়ে নাগরিকদের মধ্যে সংযোগ প্রতিষ্ঠা; ৩. জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং ৪. ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বেসরকারি খাত ও বাজার ব্যবস্থা অধিকতর উত্পাদনশীল ও প্রতিযোগিতাক্ষম রূপে গড়ে তোলা। কৃষি থেকে ম্যানুফ্যাকচারিং থেকে স্বাস্থ্য পরিচর্যার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস ও থ্রি-ডি মেটাল প্রিন্টিংয়ের মতো প্রযুক্তি।

নগরায়ণ ব্যবস্থাপনা : নগরায়ণ ও উন্নয়ন ইতিবাচকভাবে ও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে পারস্পরিক-সর্ম্পকযুক্ত। বাংলাদেশের ২০৩০ অর্থবছরের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ অর্থবছরের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনের অভিযাত্রায় তাই নগরায়ণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আগামী দিনগুলোয় হাত ধরাধরি করে এগিয়ে যাবে। নগর খাতে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১-এর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য হলো :১. এমন একটি অর্থনীতি যেখানে জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশের বসবাস নগর অঞ্চলে; ২. এমন একটি নাগরিক ভৌত পরিবেশ গড়ে তোলা যেখানে বাস্তুতন্ত্র, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও নগরবাসীর চাহিদার মধ্যে যথাযথ ভারসাম্য বজায় থাকবে; ৩. একটি সমাজকাঠামো বিনির্মাণ যেখানে নিরঙ্কুশ দারিদ্র্য সংঘটিত হবে না এবং কোনো বস্তিও থাকবে না; ৪. একটি নগর সেবাশিল্প যা মানসম্মত নগর অবকাঠামোসহ চাহিদা অনুযায়ী উন্নত মানের নাগরিক সেবা প্রদান করবে; এবং ৫. একটি নগর প্রশাসনকাঠামো, যা নগরবাসীর দ্বারা নির্বাচিত, নাগরিকদের চাহিদা মেটাতে তত্পর এবং যা নগর উন্নয়ন কর, জাতীয় সরকার থেকে প্রাপ্ত সম্ভাব্য মঞ্জুরি, সেবা থেকে প্রাপ্ত ব্যয় পুনর্ভরণ ও দায়িত্বশীল ঋণ গ্রহণের সুষ্ঠু ও টেকসই সংমিশ্রণে সৃষ্ট তহবিল দ্বারা স্ব-অর্থায়নে পরিচালিত হবে।

অব্যাহত অগ্রযাত্রা : প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-এর আওতায় যে অসামান্য অগ্রগতি হয়েছে, তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের সাক্ষ্যবাহী। দেশ এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১-এর আওতায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নলালিত দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমে উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই প্রেরণাদায়ী উন্নয়ন পথে বাংলাদেশকে সঠিকভাবে চালিত করতে প্রয়োজনীয় কৌশল, নীতি ও কর্মসূচি প্রতিফলিত হবে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১ দলিলটিতে। প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-এর অভিজ্ঞতা ইতিমধ্যেই এটি প্রমাণ করেছে যে, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, শক্তিশালী কৌশল ও সপ্রতিজ্ঞ প্রচেষ্টা কীভাবে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অব্যাহত, বলিষ্ঠ ও অবিচল নীতি-নেতৃত্বে আমরা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১-এর সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পরিকল্পিত উন্নয়নের পথে দেশের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে সমর্থ হব।

n লেখক :অর্থনীতিবিদ ও সদস্য (সিনিয়র সচিব),

বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১২ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন