ঢাকা শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২২ °সে


স্বাস্থ্য

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ জরুরি

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ জরুরি

আমরা যখন কোনো খাবার খাই তখন আমাদের শরীর সেই খাদ্যের শর্করাকে ভেঙে গ্লুকোজে রূপান্তরিত করে। অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নামক যে হরমোন নিঃসৃত হয়, সেটা আমাদের শরীরের কোষগুলোকে গ্লুকোজ গ্রহণ করতে সাহায্য করে। এই গ্লুকোজ শরীরের জ্বালানি বা শক্তি হিসেবে কাজ করে। শরীরে যখন ইনসুলিন তৈরি হতে পারে না অথবা এটা ঠিকমতো কাজ না করে তখনই ডায়াবেটিস হয় এবং এর ফলে রক্তের মধ্যে গ্লুকোজ/চিনি জমা হতে শুরু করে।

ডায়াবেটিস বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। তবে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যেতে পারে:টাইপ-১ এবং টাইপ-২। টাইপ-১ (Insulin Dependent Diabetes, Juvenile Diabetes) ডায়াবেটিস সাধারণত ছোটো বয়সেই দেখা দেয় এবং প্রত্যেকদিন ইনসুলিন নেওয়া ছাড়া এর কোনো চিকিত্সা নেই অর্থাত্ ইনসুলিন নিয়েই বেঁচে থাকতে হবে। গবেষণায় দেখা যায় টাইপ-১ ডায়াবেটিসের লক্ষণ শৈশব থেকেই দেখা দিতে পারে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটা আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে। সাধারণত ডায়াবেটিস বলতে আমরা যা বুঝি তা বয়স ৪০ বছরের দিকে হয়ে থাকে এবং বংশপরম্পরায় চলতে পারে। আর এটাই টাইপ-২ (Insulin Non Dependent Diabetes, Adult Onset Diabetes) ডায়াবেটিস।

টাইপ-১ ডায়াবেটিসে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন উত্পাদন বন্ধ হয়ে যায়। তখন রক্তের প্রবাহে গ্লুকোজ জমা হতে শুরু করে। বিজ্ঞানীদের আজও অজানা কী কারণে এ রকম হয়। তবে তারা বিশ্বাস করেন যে এর পেছনে জিনগত কারণ থাকতে পারে অথবা অগ্ন্যাশয়ে ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কারণে ইনসুলিন উত্পাদনকারী কোষগুলো নষ্ট হয়ে গেলেও এমন হতে পারে। আর টাইপ-২ ডায়াবেটিসে যারা আক্রান্ত তাদের অগ্ন্যাশয়ে যথেষ্ট ইনসুলিন উত্পন্ন হয় না অথবা এই হরমোনটি ঠিকমতো কাজ করে না। সন্তানসম্ভবা হলেও অনেক নারীর ডায়াবেটিস হতে পারে। তাদের দেহ থেকে যখন নিজের এবং সন্তানের জন্যে প্রয়োজনীয় ইনসুলিন যথেষ্ট পরিমাণে তৈরি হতে না পারে, তখনই তাদের ডায়াবেটিস হতে পারে। এক গবেষণায় দেখা গেছে ৬ থেকে ১৬ শতাংশ গর্ভবতী নারীর ডায়াবেটিস হতে পারে। ডায়েট, শরীরচর্চা অথবা ইনসুলিন নেওয়ার মাধ্যমে তাদের শরীরে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা গেলে তাদের টাইপ-২ ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।

ক্লান্তি বোধ করা ডায়াবেটিসের একটি বড়ো উপসর্গ। সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে :খুব তৃষ্ণা পাওয়া, বারবার ক্ষুধা লাগা, স্বাভাবিকের চাইতেও ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া (বিশেষ করে রাতেরবেলায়), কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া, প্রদাহজনিত রোগে বারবার আক্রান্ত হওয়া, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া, শরীরের কোথাও কেটে গেলে সেটা শুকাতে দেরি হওয়া ইত্যাদি। রক্তে স্বাভাবিক গ্লুকোজের পরিমাণ ৫.৫ থেকে ৬.০ mmol/L (খালিপেটে) এবং ৭.৭ mmol/L (ভরাপেটে) কিন্তু যখন এই গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায় তখনই আমরা ডায়াবেটিস বলি।

ডায়াবেটিস এখন আর কোনো ছোটোখাটো অসুখ নয়। এ রোগের ব্যাপারে জনগণকে আরো সচেতন করার জন্য আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। এ বিষয়ক কর্মশালা, মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ, জনগণকে ডায়াবেটিস সম্পর্কে জানানো এবং সর্বোপরি সবার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার; আমাদেরকেও এক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। সকলে মিলে সচেতন হয়ে এগিয়ে এলেই আমরা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সুস্থ, স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাব, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

n লেখক : চিকিত্সক, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৬ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন