ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৭
১৫ °সে

সমাবর্তন আমাদের কী শিক্ষা দেয়!

সমাবর্তন আমাদের কী শিক্ষা দেয়!

মো. শহীদুল ইসলাম

দেশের বেশ কয়েকটি শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন হয়ে গেল গত কিছুদিনে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তন হয়ে গেল ৯ ডিসেম্বর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গ্র্যাজুয়েটদের গাউন পরিহিত ছবিতে পরিপূর্ণ। আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর জন্য দিনটি বেশ স্মরণীয়। গত চার বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত এই ডিগ্রি প্রদানের দিনটি সব শিক্ষার্থীর কাছে বেশ গুরুত্ব বহন করে। সবাই চান দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে। তাই তো ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তুলে রাখেন। অনেকে বাবা-মাকে সমাবর্তন উপলক্ষ্যে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন এবং তাদেরও গাউন পরিয়ে তাদের সঙ্গে ছবি তোলেন। আসলে সন্তানের শিক্ষা সমাপনী বাবা-মাকে স্মরণ করে রাখার জন্যই এই আয়োজন। অনেকে বিভিন্ন রকম মজার মজার ক্যাপশন দিয়ে ছবি আপলোড দেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আনুষ্ঠানিকভাবে ডিগ্রি সনদ প্রাপ্তির মাধ্যমে শেষ হয় শিক্ষার আনুষ্ঠানিকতা। এরপর সব শিক্ষার্থীই আস্তে আস্তে কর্মক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়েন।

কিন্তু সমাবর্তন মানে কি শুধুই ছবি তুলে স্মৃতি রেখে দেওয়া? নাকি এটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে? একজন শিক্ষার্থী যখন ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হয়, তখন থেকে শুরু করে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করার আগ পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময়ে অনেক লোকের সম্পৃক্ততা লক্ষ্য করা যায়। প্রথমত পরিবার সবার আগে, তারপর শিক্ষক এবং সমাজের বিভিন্ন লোকের সাহায্য-সহযোগিতার মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থীর কাছে কাঙ্ক্ষিত দিনটি আসে। একজন শিক্ষার্থীর নিজের যেমন পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকে, ঠিক তেমনিভাবে দায়বদ্ধতা থাকে সমাজের প্রতি, দায়বদ্ধতা থাকে রাষ্ট্রের প্রতি। সম্ভবত এই বিষয়গুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনে করিয়ে দেওয়াও সমাবর্তনের অন্যতম একটি উদ্দেশ্য। কারণ এই দিনের পর শিক্ষার্থীরা আস্তে আস্তে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেন। সুতরাং শেষবারের মতো তাদের নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্যকে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যই এত আয়োজন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, নোবেলজয়ী বা বিশ্বের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যাদের দ্বারা হয়েছে এমন ব্যক্তিকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়। দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতিও সেখানে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

আজকে যারা গ্র্যাজুয়েট, আগামীতে তারাই দেশের প্রতিটি সেক্টরে নেতৃত্ব দেবেন। প্রত্যেক অফিসের বড়ো বড়ো চেয়ার তাদের দখলেই যাবে। দেশের সরকারি বড়ো বড়ো পদে তারাই সমাসীন হবেন। সুতরাং এসব মানুষের গুরুত্ব অনেক। আমরা যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি, আমরা তো সরকারি টাকায়, অর্থাত্ জনগণের টাকায় পড়ি। সুতরাং জনগণের প্রতি আমাদের অনেক দায়িত্ব।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয় দেশের কৃষকের টাকায়, দিনমজুরের টাকায়, দেশের প্রত্যেক জনগণের টাকায়। একজন শিক্ষার্থীর নিজের পরিবারের প্রতি যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি দায়িত্ব রয়েছে সমাজে বসবাসকারী প্রত্যেক মানুষের প্রতি। সুতরাং তারা যদি দেশসেবার অঙ্গীকার গ্রহণ করেন, তাহলেই তো দেশ পরিবর্তন হয়ে যেত। সম্ভবত এসব দায়িত্ব-কর্তব্যকে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যই এই সমাবর্তনের আয়োজন।

সুতরাং, এই বিশেষ দিনে একটা অঙ্গীকার হোক, আমরা দেশকে ভালোবেসে দেশের সেবায় নিজেকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আত্মনিয়োগ করব, তাহলেই হয়তো দায়বদ্ধতা থেকে মুক্ত হতে পারব!

n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৪ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন