ঢাকা সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬
২৪ °সে

মশা নিয়ন্ত্রণে মাছ চাষ!

মশা নিয়ন্ত্রণে মাছ চাষ!

নূশরাত বিথী

আমরা ফাইলেরিয়া, ম্যালেরিয়া, এনকেফ্যালাইটিস ইত্যাদি রোগে ভুগি। এই রোগগুলোর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কারণ মশা। মশার কামড়ের জন্য ডেঙ্গু, মেলেরিয়াসহ নানা ধরনের রোগ হয়ে থাকে। এই দেশে ম্যালেরিয়াসহ আক্রান্তের ৯৮ ভাগই হচ্ছে পাহাড়ি অঞ্চলে। রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি সবচেয়ে বেশি ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়াও সারা দেশে কম বেশি এসব রোগের প্রকোপ রয়েছে। বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে মশা নিধন যখন প্রশ্নের মুখে, তখন মোটামুটি স্থায়ীভাবে মশা নিধন করার জন্য কিছু প্রজাতির মাছ চাষের কথা চিন্তা করা যায়। যেসব অঞ্চলে মশার উপদ্রব বেশি সেখানে মাছ চাষের মাধ্যমে লাভবান ও মশার নিধন সম্ভব। মশার চারটি দশা ডিম, শূককীট, মুককীট ও পূর্ণাঙ্গ মশা। বিভিন্ন মাছ বিভিন্ন পরিবেশে মশার এই চারটি দশারই শত্রু। ডিম, শূককীট, মুককীট ও পূর্ণাঙ্গ মশাকে মাছ খেয়ে তাদের বংশ বিস্তারে বিঘ্ন ঘটায়। ল্যাটা, কৈ, তেচোখা, খলসে প্রভৃতি মাছ মশার যম। এ ছাড়া সমস্ত মাংসাশী মাছই কমবেশি মশার বংশ বিস্তারে বাধার সৃষ্টি ঘটায়। প্রতিটি বাড়ির আশপাশ এবং সৃষ্ট পচা জলাশয়ে অথবা ড্রেনে বা পয়ঃনিষ্কাশন খালের পানিতে প্রাণীজ খাদ্য গ্রহণকারী কিছু মাছ যেমন ফলি, সাবার, জিওল, চাঁদা ইত্যাদি মাছ ছাড়তে পারি। আমাদের জলাশয়গুলো বিভিন্ন কারণে দূষিত হয়। মানুষের ব্যবহারের বা মাছ চাষের উপযোগী থাকে না। অনেক মাছ আছে যেগুলো জলের এই দূষণ থেকে জলকে মুক্ত করতে পারে। কলকারখানার বর্জ্য পদার্থের ফলে জল দূষণ হলে কিছু কিছু মাছ আছে যেগুলো ওই জলে বেঁচে থাকতে পারে ও জলকে দূষণ মুক্ত করে, যেমন তেলাপিয়া। শাকাহারী কিছু মাছ, যেমন গ্লাসকাপ এই সব জলাশয়ে খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় ও জলাশয়কে পানা মুক্ত করে। বিভিন্ন ধরনের পানা জলাশয়ে থাকার কারণে মশার উপদ্রব বাড়ে। সেক্ষেত্রে মাছ চাষিরা শাকহারী মাছ স্বল্পমূল্যে চাষ করে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি মশাও নিধন করতে পারে।

যদিও দেশি মাগুর নোংরা, ঘোলা জলেও স্বাচ্ছন্দ্যে বেঁচে থাকে ও বেড়ে উঠে। এদের চাষের ও ব্যবস্থাপনার জন্য ছোট জলাশয়ই (পাঁচ কাঠা থেকে এক বিঘার মধ্যে) বেশি উপযুক্ত। মাগুর মাছ চাষের জন্য জলের গভীরতাও খুব বেশি প্রয়োজন নেই। তাই পাহাড়ি অঞ্চলে যেখানে মশার উপদ্রব বেশি সেখানে অগভীর জলাশয়ে মাগুর মাছ চাষ করা যাবে। মশার বংশ বিস্তার রুখতে গাপ্পি মাছও ভূমিকা পালন করে লার্ভা অবস্থায় মশা নিধনের মাধ্যমে। নর্দমায় মশার লার্ভা এই মাছেরা খেয়ে নেয়। সারা বছর জমা জল থাকে এমন নর্দমা, জলায় গাপ্পি মাছ ছাড়া যায়।

মত্স্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গাপ্পি মাছ অনেকটা ছোট আকৃতির। কম অক্সিজেনযুক্ত ও অপেক্ষাকৃত দূষিত জলেও ওই মাছ বেঁচে থাকতে কোনো অসুবিধে হয় না। সাধারণভাবে ওই মাছের গড়আয়ু তিন-চার বছর। প্রতি ঘণ্টায় একটি মাছ ২০০ মশার লার্ভা খেয়ে ফেলতে পারে। মত্স্য দফতরের কয়েকজন কর্মী জানান, প্লাস্টিকের ড্রামে বিশেষ পদ্ধতিতে গাপ্পি মাছ চাষ করা যেতে পারে। আর্থিক খরচও বেশি নয়।

তাই আমাদের মনে রাখতে হবে, মশা শুধু মানুষের জন্যই না, গৃহপালিত বিভিন্ন পশুর জন্যও ক্ষতিকর। এভাবে স্বল্পমূল্যে মাছ চাষ করে মশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে মাছ চাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব। একি সঙ্গে মত্স্য বৈচিত্র্য রক্ষা হবে। তাই মশা নিধনে মাছ চাষের কথা বিবেচনায় আনতে হবে।

n লেখক : শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন