কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে শহরে

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আজহার মাহমুদ

আমরা সকলেই জানি বায়ু দূষণে বিশ্বের সবচে’ খারাপ শহরের তিন নম্বরে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। ঢাকায় যে পরিমাণ জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে সে পরিমাণ গাড়ি, কলকারখানা, বিল্ডিংসহ সবকিছু বৃদ্ধি হচ্ছে। যার কারণে দিন দিন দূষণের মাত্রাও বৃদ্ধি হচ্ছে। শুধু বায়ু দূষণই নয়, সব ধরনের দূষণ ঢাকায় হচ্ছে। তবে এ সমস্যাটা এখন চট্টগ্রামেও দেখা দিচ্ছে। শ্যামল প্রকৃতির এক জেলা চট্টগ্রাম। এখানেও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে জনসংখ্যা। সে সঙ্গে দিন দিন দূষণের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। যেভাবে শব্দ দূষণ সেভাবে বায়ু দূষণ। দেশে নিয়ম হয়েছিলো সকল গাড়ি এবং কলকারখানায় যেন কালো ধোঁয়া বন্ধ করে দেয়। কিন্তু কে শুনে কার কথা। চট্টগ্রাম শহরে প্রায় সব গাড়িতেই দেখা মেলে কালো ধোঁয়া। আর গাড়ি থেকে এতো পরিমাণ ধোঁয়া বের হয়, যা কয়েক মিনিটের জন্য রাস্তাকেও অন্ধকার করে তোলে। আর সে সময় যারা নিঃশ্বাস নিচ্ছে তাদের হচ্ছে মারাত্মক সব রোগ।

গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ু দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সব থেকে বেশি পড়ে শিশুদের ওপর, তাদের বয়স ১০ থেকে ১২ বছরের নিচে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে বছরে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে শুধু বায়ু দূষণের কারণে বিশেষ করে শিশু এবং গর্ভবতী মায়েরা আছেন অনেক ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। এর প্রধান কারণ হিসেবে বাতাসে সিসার উপাদান বেশি থাকাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যে কারণে শিশুরা সহজেই হূদেরাগ এবং শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগে ভুগে থাকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বায়ুুতে ক্ষতিকর বস্তুকতার পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বেঁধে দেয়া সীমার দশগুণের বেশি। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন দূষিত বাতাসের মধ্যে থাকলে যেসব রোগ হতে পারে তার মধ্যে আছে হূদরোগ, কাশি, নিউমোনিয়াসহ ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদী রোগ, ফুসফুসের সংক্রমণ, ফুসফুসের ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টজনিত নানা রোগ, স্ট্রোক, চোখে ছানি পড়া, শিশু ও গর্ভবতী নারীদের সমস্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি প্রজন্ম যদি দীর্ঘসময় বায়ুু দূষণের মধ্যে কাটিয়ে দেয়, তার মারাত্মক প্রভাব পড়ে পরবর্তী প্রজন্মের ওপর। তাই এখনি বায়ু দূষণ থেকে রক্ষা করতে হবে জাতিকে। বায়ু দূষণমুক্ত দেশ গড়তে পারলে বাংলাদেশ অনেক উপকৃত হবে। দেশের মানুষের গড় আয়ুু বাড়বে, জলবায়ুু পরিবর্তন মোকাবিলা সহায়তা হবে, রোগ সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে, প্রতিবন্ধী সমস্যা কমে আসবে, অর্থনৈতিক সুবিধা বাড়বে।

বায়ুু দূষণের অন্যতম কারণ হচ্ছে যানজট। যানজটের মাধ্যমে শব্দ দূষণ, বায়ু দূষণ দুটোই বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরিকল্পিতভাবে শিল্পকারখানা গড়ে ওঠা, যেখানে-সেখানে ইটভাটা স্থ্াপন, শহরের মধ্যে নানা কারখানা স্থাপন তো বায়ুু দূষণের এক একটি কারণ। সেইসঙ্গে শহরের প্রচুর ধুলা এবং নির্মাণ কাজের বায়ুু দূষণ হচ্ছে।  ট্রাফিক জ্যামের কারণে গাড়িগুলো রাস্তায় অতিরিক্ত সময় ধরে চলছে, সেগুলো অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ করছে, এসবও বায়ুু দূষণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বায়ুু দূষণের কারণে পরিবেশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যাচ্ছে, সেই গরম ঠান্ডা করার জন্য মানুষ অতিরিক্ত এসি ব্যবহার করছে, আবার তাতে বায়ুু দূষণ আরো বাড়ছে।

এ দূষণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা। রাস্তায় পানি দিয়ে ধুলা নিয়ন্ত্রণ বা ময়লাগুলো পুড়িয়ে ফেলা, পরিকল্পিতভাবে কারখানাগুলোর ধোঁয়া কমিয়ে আনা এবং কারখানাগুলো শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়া, ট্রাফিক জ্যামের সমাধান, উন্নত জ্বালানি ব্যবহার করা, এয়ার কন্ডিশনার কম ব্যবহার করা। এসকল বিষয় নিয়ে সকলে যার যার অবস্থান থেকে সচেতন হলে বায়ু দূষণ অনেকটা কমে আসবে। এছাড়াও প্রচুর বনায়ন করা, কারণ গাছ বায়ুু দূষণ প্রতিরোধে জোরালো ভূমিকা রাখে। বাড়িঘর ও আবাসিক এলাকাগুলো পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা, যেখানে উদ্যান ও পুকুর থাকবে। নির্মাণ কাজগুলো নিয়ন্ত্রিতভাবে করা, যাতে সেটি দূষণের কারণ না হয়। এসব কাজ আমাদের নিজেদের। আমরা চাইলেই এসকল বিষয় মাথায় রেখে কাজ করতে পরি। কিন্তু আমরা করি না। কারণ আমরা আমাদেরকেই ভালোবাসি না। অন্তত নিজেকে ভালোবাসলেও নিজের পরিবেশ ভালো রাখতে চাইবো। আমি আমার স্থান থেকে আমার ঘর, এলাকা দূষণমুক্ত রাখার চেষ্টা করলেই হবে। দেখা যাবে এভাবে একদিন দেশটাও হবে দূষণমুক্ত।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ওমরগনি এমইএস কলেজ, চট্টগ্রাম।