ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬
২৯ °সে


বৈরী আবহাওয়া ও আমাদের দায়

বৈরী আবহাওয়া ও আমাদের দায়

মো. জাহিদ হোসেন

বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে মানুষ পেয়েছে অনিশ্চিত আদিম বর্বর সমাজের পরিবর্তে আধুনিক সভ্য সমাজ। মহাবিশ্ব আজ পরিণত হয়েছে গ্লোবাল ভিলেজে। বিজ্ঞানের সীমাহীন উত্কর্ষ সাধনের ফলে এই সমাজে সুনিশ্চিত হয়েছে আধুনিক আবাসস্থল, উন্নত যোগাযোগ ও খাদ্যের পর্যাপ্ত মজুতসহ যাবতীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের উপস্থিতি। সবকিছুর প্রাচুর্য সত্ত্বেও সতেজ নিঃশ্বাসের জন্য নেই বিশুদ্ধ অক্সিজেন। সুস্থভাবে বাঁচার জন্য নেই নির্ভেজাল খাদ্য। তাত্ক্ষণিক অর্থপ্রাপ্তির নেশায় মানুষ মগ্ন, নেই কোনো টেকসই পরিকল্পনা।

যাহোক, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এখন একটি মারাত্মক উদ্বেগের বিষয়। এই উষ্ণায়ন সৃষ্টি করে অনাবৃষ্টি এবং উত্তপ্ত করে পৃথিবী। সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসা খবর অনুসারে, গত কয়েকদিন আগে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বিহারে তীব্র দাবদাহে একই দিনে প্রায় ৪০ জনের বেশি মানুষ মারা যান। আমাদের দেশেও খরতাপে জীবন যায় যায় অবস্থা। বর্ষাকালের আষাঢ় মাস চললেও বৃষ্টি তার কার্পণ্য এবং সূর্য তার ঔদার্যে যেন বলীয়ান! ধানের দাম না পেলেও কৃষক আবারও এক বুক আশা নিয়ে আউশের চারা রোপণ করেছেন; কিন্তু অনাবৃষ্টির ফলে সেই মাঠও ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতানুসারে উষ্ণায়নের বৃদ্ধির ফলে একটা সময় মেরুঅঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নভূমিগুলো তলিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে বৃষ্টিপাতের অভাবে তীব্র খরা দেখা দিতে পারে। অবশ্য তার জন্য আমরা মানবজাতিই দায়ী। গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মূল কারণ হলো কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়া। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো কার্বন ডাই অক্সাইড বৃদ্ধির জন্য দায়ী যে কল-কারখানা বা শিল্পায়ন তা আমরা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করে যাচ্ছি। কিন্তু তা হ্রাস করার জন্য দরকার যে প্রাণবন্ধু বৃক্ষের তা আমরা নির্বিচারে নিধন করে যাচ্ছি!

সামাজিক বনায়ন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণসহ পরিবেশ সুরক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বাধিক গুরুত্বের কথা বলেন। এমনকি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় তিনি বিশ্বব্যাপী নন্দিত হয়েছেন। ‘চ্যাম্পিয়ন্স অবদ্যআর্থ’ পুরস্কার পেয়ে গৌরবান্বিত করেছেন আমাদের সোনার বাংলাকে। তবে উষ্ণায়ন নামক এই অভিশাপের জন্য উন্নত বিশ্ব অধিক দায়ী হলেও আমাদেরও দায় খুব কম নয়। লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে, যে-কোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড প্রাণবন্ধু বৃক্ষের গোড়ায় করাত লাগানো ছাড়া যেন অসম্পূর্ণ।প্রায় পৌনে দুই শতাব্দীর ঐতিহ্য বহনকারী এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত যশোর রোডের দুই সহস্রাধিক গাছও সড়ক সম্প্রসারণের বলির শিকার হতে বসেছিল। মায়ের জন্য জমিদার কালী পোদ্দারের এমন কীর্তি প্রতিটি সন্তানের দেখার জন্য হলেও এই গাছগুলোকে যুগ যুগ ধরে লালন করা উচিত। ব্যক্তিগত ক্ষেত্রেও মানুষ বৃক্ষের প্রতি নির্দয় আচরণ করতে দ্বিধাবোধ করে না। বৃদ্ধ বা মৃত বাবা অথবা পূর্বপুরুষের স্মৃতি বিজড়িত একটি গাছকেও তারা এক নিমিষেই উত্খাত করে দেয় হয়তো একটু নতুন মডেলের বাড়ির জন্য।

যে উন্নয়ন পরিবেশকে ধ্বংস করে, সে উন্নয়ন কাম্য হতে পারে না। কবি গুরু বলেন, ‘দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর’। সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের উন্নয়ন যজ্ঞ সারাবিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সেটিকে আরো কার্যোপযোগী করতে গাছপালা বা পরিবেশকে সংরক্ষণ করতে হবে। গাছ না কেটে বিকল্প উপায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ খুঁজতে হবে। ব্যাপকহারে বনায়ন করতে হবে। শুধু সরকারি নীতিমালা নয় বরং বৃক্ষ যেমন আমাদের প্রতি বন্ধুপ্রতীম তেমনই বৃক্ষের প্রতিও আমাদের প্রত্যেকের আন্তরিক হতে হবে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,

এম এস এস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৬ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন