বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে কাজে লাগান

প্রকাশ : ২৭ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মো. রাশেদ আহমেদ

একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক তথা সার্বিক উন্নয়নে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বলতে গেলে কোনো দেশের আয়ের সিংহভাগ আসে বিনিয়োগ থেকে। বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও, সেই জায়গায় আমরা খানিকটা পিছিয়ে। যা সার্বিক উন্নয়নের পথে বড় অন্তরায়। তবে আশার আলো হচ্ছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়তে শুরু করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ৩৬১ কোটি ৩৩ লাখ মার্কিন ডলার, যা ২০১৭ সালে ছিল ২১৫ কোটি ডলার। অর্থনীতিবিদদের মতে, চলতি বছরে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। যা বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে ইতিবাচক দিক।

গণতান্ত্রিক রাজনীতি স্থিতিশীলতা ও সস্তা শ্রম বাংলাদেশে এখন বিনিয়োগের উপযুক্ত স্থান। তারপরও বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার কারণে আজো সার্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি কাঙ্ক্ষিত পর্যায় পৌঁছায়নি। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমস্যাগুলো হলো—সীমাহীন দুর্নীতি, অবকাঠামোগত অনুন্নয়ন, সুষ্ঠু নীতিমালার অভাব, স্বজনপ্রীতি, বিদেশিদের নিরাপত্তার অভাব, জঙ্গি হামলার শঙ্কা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, কর্পোরেট ট্যাক্সের হার বেশি ও ঘন ঘন বিনিয়োগ নীতির পরিবর্তন ইত্যাদি। এছাড়াও পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাব, শ্রমিক অসন্তোষ এবং যোগাযোগের মতো সমস্যাগুলো লেগেই আছে।

বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য ভারত, চীন, জাপান, ভিয়েতনামের মতো রাষ্ট্রগুলো মুখিয়ে আছে। কারণ এ দেশের মতো সস্তা শ্রম আর বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা অন্য কোথাও পাওয়া দুষ্কর। এসব বিনিয়োগ সম্ভাবনাময় দেশগুলো কাজে লাগানোর জন্য উপরোক্ত সমস্যাগুলো সমাধান করা জরুরি। সেই সঙ্গে বিনিয়োগ নীতি সহজলভ্য করা উচিত, যাতে প্রবাসী থেকে শুরু করে সকল স্তরের লোক বিনিয়োগ করতে পারে। আর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আমদানি-রপ্তানি, ভারী যন্ত্রপাতি ক্রয়সহ যে রকম শুল্কসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয় ঠিক তেমনি দেশি বিনিয়োগকারীদের এ ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করা উচিত।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্ভাবনা সম্পর্কে IMF প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—এ দেশটি অচিরেই দক্ষিণ এশিয়ার উত্পাদন কেন্দ্রে পরিণত হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্য পাশ্চাত্য অনেক দেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে প্রবল আগ্রহী।

আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান BMI গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশ হয়ে ওঠবে বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি। BMI রিসার্চ মনে করছে ২০২৫ সালের মধ্যে এই দশটি দেশ সম্মিলিতভাবে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ৪ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন অর্থাত্ চার লাখ তিন হাজার ডলার যোগ করবে। যা বিনিময়কারীদের সুযোগ এনে দিবে। উল্লিখিত অর্থ জাপানের বর্তমান অর্থনীতির সমান। এছাড়াও sustainable development goal (SDg) বাস্তবায়নে ২০৩০ সালে বিদেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে প্রায় ৯০০ কোটি ডলার।

বিনিয়োগ শুধুমাত্র অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে তা নয়, উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যাপক অবদান রাখে। বর্তমান বাংলাদেশে যে হারে বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে কাজে লাগিয়ে অনেকটা বেকারত্বকে লাঘব টানা যেতে পারে। এ দেশ যে বিনিয়োগের উপযুক্ত স্থান, সেকথা বিশ্বের বুকে গৌরবের সঙ্গে তুলে ধরতে হবে। যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। এছাড়া সৌদি আরবের ন্যায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজন করা যেতে পারে। তাতে বিশ্বের বড় বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসা যাক, একটি দেশের বিনিয়োগ মূলত নির্ভর করে রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর। সেটা বর্তমানে তুলনামূলক ভালো। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে রাজপথ কখন যে উত্তাল হয় সেটা বলা কঠিন। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের বিদেশি বিনিয়োগের কথা মাথায় রেখে রাজপথে কর্মসূচি পালন করা উচিত। যাতে কোনো বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত না হয়।

সুতরাং আগামী দিনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিসহ সার্বিক উন্নয়নে অপার বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর বিকল্প নেই। একইসঙ্গে বিনিয়োগ প্রতিবন্ধকতা দূর করে সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া