ঢাকা শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
২৬ °সে

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রত্যাশা

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রত্যাশা

ক্রিকেট নিয়ে আমাদের উন্মাদনার শেষ নেই। সেই উন্মাদনা আর ভালোবাসার পরিমাপ করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। আর সেটা যদি হয় বিশ্বকাপের মতো আসরকে ঘিরে তাহলে সেখানে বাড়তি কিছু থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আপামর ক্রিকেটপ্রেমীদের সঙ্গে যে নামটি আরো গুরুত্বসহকারে উচ্চারণ করতে হয় তিনি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্রিকেটের প্রতি তাঁর ভালোবাসা প্রবাদপ্রতিম। অসংখ্যবার তিনি স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখেছেন এবং বাংলাদেশের জয় উদযাপন করেছেন। এবার বিশ্বকাপের সময়েও একদিন খেলা দেখবেন বলে মিটিংয়ের সময় কমিয়ে ক্রিকেটের প্রতি তাঁঁর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখিয়েছেন। যে দেশে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তাঁর অসম্ভব ব্যস্ততার ভিড়েও ক্রিকেট নিয়ে ভাবেন, ক্রিকেট ভালোবাসেন সেই দেশের ষোল কোটি জনসাধারণ কতটা ক্রিকেটপাগল সেটা আর বলে দেওয়ার অবকাশ রাখে না। আর সে কারণেই যেকোনো টুর্নামেন্ট ঘিরেই আমাদের থাকে প্রত্যাশার এক বিরাট চাপ। বিশ্বকাপে এসে সেটি আরো বিরাট আকার ধারণ করে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের এবারের যাত্রা শেষ হয়ে গেলেও তাই বার বার ঘুরে-ফিরে প্রসঙ্গটি চলে আসছে। প্রশ্ন উঠছে, এই বিশ্বকাপে আমাদের প্রাপ্তি কি, আক্ষেপগুলো কি কি আর সম্ভাবনাই বা কি।

এবার বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আমাদের প্রত্যাশা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল মূলত টাইগার বাহিনীর বিগত সময়ের সাফল্য দেখে। বিশেষত বিশ্বকাপের আগে আমরা প্রথম বারের মতো যেকোনো ধরনের ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতেছি যা আমাদের অর্জনের খাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কোনো ম্যাচ না হেরেই দাপটের সঙ্গে জয় ছিনিয়ে আনার সেই সাফল্যই আমাদের স্বপ্ন দেখিয়েছিল বিশ্বকাপে আমরা ভালো কিছু করব। ক্রিকেট যদিও একটি অনিশ্চিত খেলা যার প্রতিটি বলে বলেই থাকে রহস্য তারপরও টাইগার ফ্যানেরা আশা করেছিল আমরা নিশ্চয়ই ভালো কিছু করব। আমাদের সেই আশাকে আরো বেশি আশা জাগানিয়া করেছিল বিশ্বকাপে আমাদের প্রথম ম্যাচ। আমরা দাপটের সঙ্গেই ধরাশায়ী করেছিলাম বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় ১৯৭৫ সালে যখন প্রথম বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আয়োজন করা হয়েছিল তখন বাংলাদেশ আইসিসির সদস্যই ছিল না ফলে প্রথম আসরে নামা হয়নি টাইগার বাহিনীর। এমনকি সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৯ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত পরবর্তী পাঁচটি বিশ্বকাপেও অংশ নিতে পারেনি।

১৯৯৭ সালে আমরা যখন আইসিসি চ্যাম্পিয়নশিপে জয়ী হলাম তখনই এ যোগ্যতা অর্জন করলাম এবং পরবর্তী আসর অর্থাত্ ১৯৯৯ সালে আমাদের বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু হলো। ১৯৯৯, ২০০৩ এবং ২০১১ এই তিন বিশ্বকাপে আমরা গ্রুপ পর্বের বাধাই পেরোতে পারিনি। কিন্তু আমরা কখনো হতাশ হইনি কেননা আমরা ক্রমাগতভাবে ভালো করেছি যার ফলশ্রুতিতে ২০০৭ সালে টাইগার বাহিনী খেলেছে সুপার এইট পর্ব এবং ২০১৫ সালে খেলেছে কোয়ার্টার ফাইনাল। বিশ্বকাপে সেটাই ছিল আমাদের বড়ো অর্জন। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে আমরা তুলনামূলকভাবে অন্য যেকোনো বিশ্বকাপের চেয়ে ভালো করেছি যার পরিসংখ্যান আমাদের হাতেই আছে। আমরা এবারের বিশ্বকাপে অনেকগুলো রেকর্ডের অধিকারী হয়েছি এবং ভেঙেছি অনেক পুরোনো রেকর্ড। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের এর আগের সর্বোচ্চ রান ছিল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২২ আর এবারের আসরে আমরা অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেই রেকর্ড পেরিয়ে পৌঁছে গিয়েছি ৩৩৩ রানে। এমনকি রান তাড়া করে বিশ্বকাপে জেতার রেকর্ডটিও এখন আমাদের। ওয়েস্টইন্ডিজের বিপক্ষে আমরা ৩২১ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করে ৭ উইকেটে জয় লাভ করেছি যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে। এই বিশ্বকাপে আমরা যতটা অর্জন করেছি বিগত সব বিশ্বকাপ মিলিয়েও বাংলাদেশ দলের সেই পরিমাণ অর্জন নেই। অনেকেই তামিম, মুশফিক, সৌম্য কিংবা মাশরাফিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন আবার অনেকেই ওসব পাশ কাটিয়ে তাদের বিগত দিনের সাফল্য টেনে এনেছেন। তামিম এই বিশ্বকাপে অন্যবারের তুলনায় নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি বলেই আমাদের আরো বেশি আক্ষেপের আগুনে পুড়তে হয়েছে। দলের মূল ভরসা ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি যদি আরো ভালো করতেন তাহলে আমরা নিশ্চয়ই প্রত্যাশাকে উঁচু করতে পারতাম। বিশ্বকাপে আমাদের অর্জনের পাশাপাশি আক্ষেপের জায়গাও অনেক। ক্যাচ মিস, ব্যাটিংএ ধারাবাহিকতা না থাকা, পারস্পরিক বোঝাপড়ায় ত্রুটি আর ফিল্ডিংয়ে আরো বেশি মনোযোগী হওয়াটা যেকোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অত্যন্ত জরুরি। আমরা আশা করব এই বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোর ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে আমাদের টিম সেটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে সেখান থেকে নিজেদের ভুলগুলো চিহ্নিত করে উন্নতি করবে পাশাপাশি যে সব বিষয়ে তারা ভালো করেছিল সেগুলো যেন ধারাবাহিকভাবে ধরে রাখতে পারে তার চেষ্টা করবে। যেহেতু আমরা অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় নিজেদের আরো এগিয়ে নিতে পেরেছি তাই আমাদের সম্ভাবনা আছে এবং আমরা যদি আরো একটু চেষ্টা করি তবে নিশ্চয়ই ভালো কিছু হবে। এমনকি টাইগারদের পারফরমেন্স দেখে বিশ্ব ক্রিকেটের রথি মহারথিরাও সেই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। আর টাইগার ফ্যানদের কাছে অনুরোধ থাকবে আসুন আমরা দলের পাশে থাকি, আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক “হারি জিতি বাংলাদেশ”

n লেখক :শিক্ষার্থী, আইবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
৩০ মে, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন