ঢাকা রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬
২৯ °সে


আত্মহত্যা রোধে আমাদের দায়বদ্ধতা!

আত্মহত্যা রোধে আমাদের দায়বদ্ধতা!

আমজাদ হোসাইন হূদয়

বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে আত্মহত্যা যেন নিত্যনৈমেত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় সব শ্রেণি-পেশা আর বয়সের মানুষই ঝুঁকছে এই আত্মহত্যার দিকে! জীবনের প্রতি মায়া কি একেবারেই হারিয়ে ফেলেছে, একুশ শতকের অগ্রগামী মানুষেরা? যারা নেতৃত্ব দেবে দেশকে, যারা এগিয়ে নিয়ে যাবে তার আশপাশের মানুষগুলোকে, অথচ তারাই নিমজ্জিত অন্ধকারে! কোন দিকে চলতে শুরু করেছি আমরা, এই অজানা পথের শেষ কি নেই? আমরা কি পারি না এই পথ থেকে তাদের বিরত রাখতে?

বাংলাদেশে আত্মহত্যা খুবই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষকরা মনে করছেন, ‘২০২০ সালের মধ্যে এই প্রবণতা ১৫ থেকে ২০ গুণ বাড়বে। আমাদের দেশে প্রতিদিন প্রায় গড়ে ২৪ জন আত্মহত্যা করে এবং বছরে ১০ হাজার বা তারও বেশি আত্মহত্যা করে। কেউ কেউ মনে করছেন, আত্মহত্যার হার অঞ্চলভেদে কম-বেশি হয়। অঞ্চলের হিসাব করলে ঝিনাইদহ এই তালিকায় সবচেয়ে ওপরে থাকে। ঝিনাইদহ প্রতি বছর গড়ে ৩০০-এর বেশি আত্মহত্যা করে এবং ২ হাজারেরও বেশি আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এছাড়াও শহরের চেয়ে গ্রামে আত্মহত্যা প্রবণতা ১৭ গুণ বেশি।’

আত্মহত্যা মানে নিজেকে নিজে ধ্বংস করা, নিজ আত্মাকে চরম কষ্ট ও যন্ত্রণা দেওয়া। আসুন, নিজ হাতে নিজেকে ধ্বংস না করে সমাধানের পথ খুঁজি। প্রথমে আত্মহত্যার পেছনের কারণগুলো খুঁজে বের করা উচিত। আমরা এর পেছনের কারণ খুঁজলে দেখতে পাব—কোনো কিছু নিয়ে চরম হতাশা, চাকরি না পাওয়া, স্বামী বা স্ত্রীর প্রতারণা, যৌতুক সমস্যা, পারিবারিক অশান্তি, মানসিক অশান্তি, বখাটেদের উত্পাত, প্রেমে ছ্যাঁকা খাওয়া ইত্যাদি কারণ খুঁজে পাই। কিন্তু এইসব থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র পথ আত্মহত্যা নয়।

পৃথিবীতে প্রত্যেক সমস্যারই সমাধান আছে, তেমনি আত্মহত্যা না করে এইসব সমস্যা থেকে বাঁচারও সমাধান আছে। আত্মহত্যা থেকে বাঁচাতে এই রাষ্ট্রকে, এই সমাজকে প্রদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা যদি একটা বেকার যুবককে তার বেকারত্বের জন্য পীড়া না দিয়ে তাকে যদি সান্ত্বনা দিই, তার পাশে থাকি এবং তাকে অন্য একটা পথ খুঁজে দিই, তাহলে ভিন্ন কিছু হতো। বিভিন্ন দেশে হতাশা থেকে বাঁচার জন্য শিক্ষার্থীদের, যুবক-যুবতিদের জন্য সেমিনারের আয়োজন করা হয়। তাদের বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখানো হয়। আমাদের দেশেও তা করা উচিত। অন্যায় কুসংস্কারের কারণে কেউ যাতে আত্মহত্যা না করে, সেজন্য আমাদের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা উচিত। পাশাপাশি নির্যাতিতদের পাশে থেকে তাদের সান্ত্বনা এবং বোঝানো উচিত, দুনিয়াটা তাদের জন্য শেষ নয়, অনেক কিছু বাকি আছে। নৈতিক শিক্ষার ওপর সেমিনার করা উচিত। আত্মহত্যা মহাপাপ এবং তার শাস্তি জাহান্নাম অর্থাত্ নিজেকে ধ্বংস করার পর আবার আখেরাতে শাস্তি—সে সম্পর্কে তাদের উপলব্ধি করানো উচিত। আমরা যদি এইভাবে সমস্যার সমাধান খুঁজি এবং সমাজ ও রাষ্ট্র পাশে থাকে, তাহলে আত্মহত্যা রোধ করা সম্ভব হবে। পৃথিবীটা অনেক সুন্দর। সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য আমাদের সে পথগুলোকে খুঁজে বের করা উচিত শুধু শুধু নিজেকে ধ্বংস করা মোটেও উচিত নয়। আর আমাদের সমাজ ও দেশকে আত্মহত্যা রোধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন