ঢাকা শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬
২৭ °সে


উদ্বেগ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

উদ্বেগ থেকে মুক্তি  পাওয়ার উপায়

উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, চাপ—এগুলো জীবনের অংশ নয়; এগুলোর কারণ আপনার জীবনশৈলী, কাজ, পরিবার বা পরিস্থিতি নয়। এগুলো আসে আপনার নিজের শারীরতন্ত্রকে পরিচালনা করার অক্ষমতা থেকে। আপনার শারীরতন্ত্রটি কীভাবে চলছে বা কীভাবে কাজ করে, সেই জ্ঞানের অভাব থেকেই এগুলো ঘটে। যেভাবে এই যন্ত্রকে ব্যবহার করা উচিত, সেভাবে ব্যবহার করতে না পারার ফলে এগুলো ঘটে। তাহলে করণীয় কী?

করণীয় কিছুই না। উদ্বেগ হলো একটি যন্ত্রে ঘর্ষণের মতন। ঘর্ষণ সৃষ্টি হয় কলকবজাগুলোর মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ নড়াচড়া না থাকার ফলে বা তাদের মধ্যে যথেষ্ট তৈলাক্তকরণ না থাকার ফলে, যথেষ্ট মসৃণতা না থাকার ফলে। ঘর্ষণ যত কম হবে, কার্যক্ষমতা তত বেশি হবে।

উদ্বেগ বা চাপকে কীভাবে সামলে রাখবেন, এই প্রচেষ্টা করার কোনো প্রয়োজন নেই। এটা বুঝতে হবে জিনিসটাকে সৃষ্টি হওয়া থেকে কীভাবে আটকাতে হয়। কারণ উদ্বেগ আপনার নিজের সৃষ্টি। যোগের সরল পদ্ধতিগুলো যদি শুরু করেন, আপনি দেখবেন যে এই গোটা শারীরতন্ত্র সাবলীলভাবে কাজ করতে শুরু করেছে। চাপ বলে কিছু হয় না। সব কাজের ভিত্তি হলো প্রশান্তি। আপনার কার্যকারিতা তখনই সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকবে, যখন আপনি সম্পূর্ণরূপে সাবলীল হবেন, যখন আপনার অন্তরে সম্পূর্ণরূপে সহজবোধ আসবে। অনায়াসে, সাবলীলভাবে কাজ করতে সক্ষম হয়ে উঠলে উদ্বেগ বা চাপ বলে কিছুই থাকে না।

লোকে কেবলই শারীরিক বা মানসিক ব্যায়ামের জন্য যোগ অভ্যাস করে। এটি শারীরিক নয়, মানসিকও নয়; এটি জীবনের মূলের সঙ্গে অন্তরঙ্গভাবে জড়িত। আপনার সম্পূর্ণ সত্তা যদি যোগে স্থাপিত না হয়, যদি যোগ আপনার মধ্যে প্রেরিত না হয়ে থাকে, যদি যোগকে কেবল একগুচ্ছ নির্দেশ হিসেবে আপনাকে শেখানো হয়ে থাকে, কিন্তু যদি আপনাকে যোগে দীক্ষিত না করা হয়ে থাকে—যদি এমনটি হয়, তার মানে আপনি যোগকে একটি গাড়ির মতন ব্যবহার করছেন, যেখানে কিনা আদতে যোগ একটি এরোপ্লেন। ধরুন আমি আপনাকে একটা এরোপ্লেন দিলাম, কিন্তু আপনি জানেন না সেটা কী, আপনি কেবলই গাড়ি চালাতে জানেন। আপনি এরোপ্লেনটিকে রাস্তা দিয়ে চালাতে গিয়ে দেখলেন এর দুটি বিদঘুটে ডানা রয়েছে, যা কিনা বাড়িঘর আর ল্যাম্পপোস্টগুলোতে ধাক্কা খাচ্ছে। তো আপনি ডানাগুলোকে ভেঙে গাড়ির মতন রাস্তা দিয়ে চালাতে আরম্ভ করলেন এবং আপনি খুব আনন্দিতও হলেন। ঠিক সেভাবেই আপনার কোমরের ব্যথা ঠিক হয়ে গেলে, আপনার থাইরয়েড ভালো হয়ে গেলে আপনি আনন্দিত হয়ে যান। কিন্তু যে মানুষটি জানে এরোপ্লেন কীভাবে চালাতে হয়, সে তো এটির এমন ডানাকাটা দুর্দশা দেখে কাঁদবেই!

বর্তমান সময়ে যোগ যেভাবে প্রচলিত হয়ে রয়েছে, তা আমার কাছে অত্যন্ত দুঃখজনক লাগে। যোগ আপনার উদ্বেগ বা চাপের সমাধান নয়। আপনার উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো প্রয়োজনই নেই। যোগের কাজ হলো উদ্বেগের গোটা ধারণাটিকেই নির্মূল করে দেওয়া। আপনার মধ্যে উদ্বেগ আর তৈরিই হবে না!

n সৌজন্যে :ঈশা ফাউন্ডেশন

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন