ঢাকা বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
২৮ °সে


রক্তদান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

রক্তদান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

নাবিল হাসান

বাংলাদেশের স্বাধীনতার উন্মেষকেন্দ্র নামে অভিহিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে একটি রক্তিম ইতিহাস। মূলত ভাষা আন্দোলনের অব্যবহিত আগ থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ সৃষ্টির পেছনে প্রতিটা ক্ষুদ্রায়তন থেকে শুরু করে সশস্ত্র আন্দোলনেও রেখেছে সিংহভাগ ভূমিকা আর সেই ভূমিকার জন্য খরচ করতে হয়েছে নদী নদী রক্ত। অবশেষে একাত্তরের অপারেশন সার্চলাইট, শিক্ষক হত্যা, বুদ্ধিজীবী হত্যা, ছাত্রছাত্রী হত্যা এমনকি কর্মচারী হত্যাসহ ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ পর্যন্ত রচিত-খচিত আর মিলিত হয়ে আছে একাধিক রক্তের নদী। একাত্তর থেকে শুরু করে আজকের উনিশেও কমেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রক্তদান। গত কয়েকদিন আগেও ডেঙ্গুর বেজায় মহামারীতে যখন সারাদেশ আশঙ্কাজনক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখনো ঢাকার প্রায় সব হাসপাতালেই রক্ত দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ হাজার জনের পরিবারটি। সারাদিন ক্লাস, টিউশন আর কিছু একটা খেয়ে যখন রাতে অবসাদগ্রস্ত শরীরটাকে এই একটু বিছিয়ে দেবে শক্ত কাঠের বক্ষে ঠিক তখনই হঠাত্ ফোনে কল এলো যে ঢাকা মেডিক্যালে যেতে হবে রক্ত দিতে, দিল বাছাদন ভোঁ দৌড়। এছাড়াও ঢাকা মেডিক্যালের ডাক্তারেরা মনে করেন, ঢাকা মেডিক্যালের ৮০ শতাংশ স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়ে থাকেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা জোনেই কলেজ-ভার্সিটি পড়ুয়ারাই বেশি রক্ত দিয়ে থাকে। এরাই জাতির সূর্যসন্তান। কোনো সংগঠনের নাম উল্লেখ করতে হলে বলতে হয়, ‘একের রক্ত অন্যের জীবন, রক্তই হোক আত্মার বাঁধন’—অসাধারণ এই স্লোগান সামনে রেখে বাঁধনের যাত্রা শুরু ১৯৯৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি)। স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের এই সংগঠনটি মূলত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের হাতেই গড়ে উঠেছে এবং এর কাজের পরিসর ক্রমেই বাড়ছে। অসম্ভব প্রাণশক্তি নিয়ে মুমূর্ষু ব্যক্তির জন্য রক্তের প্রয়োজনে নিরলস খেটে যাচ্ছেন বাঁধনের কর্মীরা। ঢাবিতে বর্তমানে বাঁধনের ১৯টি ইউনিট রয়েছে। সারা দেশে মোট ১১৩ ইউনিট ও আটটি জোন রয়েছে। প্রতি ইউনিটে ১৭ জনের সমন্বয়ে একটি করে কমিটি রয়েছে। দেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এর শাখা আছে। প্রতিষ্ঠানটির ৩৯ জেলায় ৫৬টি প্রতিষ্ঠানে শাখা রয়েছে। রক্তদানের এই ধারাবাহিতায় আজীবন যৌক্তিক আন্দোলন আর মুমূর্ষু ব্যক্তির পাশে সমপরিমাণ রক্ত দিয়ে যাবে আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। একাত্তরে রক্ত দিয়ে যেমন স্বাধীন বাংলাদেশ পেলাম, তেমনি উনিশে রক্ত দিয়ে না হয় সম্মানি পদক পেলাম। সেই পদক দেওয়া শুরু হোক রক্ত দানের মূর্ত প্রতীক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রক্তদাতা প্রত্যেকটা শিক্ষার্থীর হাত দিয়েই। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিরজীবী হোক।

n লেখক :শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৬ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন