ঢাকা বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
৩০ °সে


নারায়ণগঞ্জে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা

নারায়ণগঞ্জে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে  পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা

প্রতিদিন সকালে কর্মস্থলে যাবার সময় আমাদের প্রত্যাশা থাকে বাইরে বেরিয়ে আমরা একটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং স্বাস্থ্যসম্মত নগরী পাব। সেদিক দিয়ে আমাদের প্রত্যাশা বর্তমানে মোটামুটি পূরণ করে চলেছে সিটি করপোরেশনগুলো। প্রতিদিন তাদের কল্যাণেই আমরা মোটামুটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত, বাসযোগ্য নগরী পাচ্ছি। তবে যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আমরা পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত নগরী পাই সেসব পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের স্বাস্থ্যের কথা ভাবছেন না কেউ। স্বাস্থ্যসম্মত নগরী উপহার দিতে গিয়ে তারা নিজেরাই রয়েছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের দেওয়া তথ্যমতে, নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন নগরী উপহার দিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতায় কাজ করছে ৯১২ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী। এছাড়া ১২টি এনজিওর মাধ্যমে বাসা-বাড়ি থেকে ময়লা অপসারণ করছে আরো শতাধিক পরিচ্ছন্নতা কর্মী। এছাড়া ঈদের সময় কিংবা নগরীর ড্রেন পরিষ্কারের জন্য বা বিভিন্ন সময়ে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করে আরো কয়েকশ কর্মী। জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতায় এসব কর্মী ভোর থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে রাখা ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে ফেলে। তবে এক্ষেত্রে কর্মীদের অধিকাংশই কোনোরকম সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। হাতে গ্লাভস, পায়ে গাম বুট, মুখে মাস্ক ও নির্দিষ্ট পোশাক পরিধান না করেই এসব পরিচ্ছন্নতা কর্মী সংগ্রহ করছেন ময়লা-আবর্জনা। এসব ময়লা-আবর্জনার মধ্যে রয়েছে পচা শাকসবজি থেকে শুরু করে মৃত প্রাণী ও বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি, গরু, খাসির উচ্ছৃিষ্ট। আর এসব ময়লা- আবর্জনার মধ্যে রয়েছে মারাত্মক সব রোগের জীবাণু।

শহরের সরকারি দুই হাসপাতালের ময়লা অপসারণ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত নাজুক। মানবস্বাস্থ্যের জন্য অতীব ঝুঁকিপূর্ণ মেডিক্যাল বর্জ্য গ্লাভস, মুখোশ না পরেই একেবারে খোলামেলা অবস্থায় পরিষ্কার করছেন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। এসব মেডিক্যাল বর্জ্য নাসিকের ডাম্পিং এরিয়ায় নিয়ে ফেলছেন তারা। মেডিক্যাল বর্জ্যের ভেতর রয়েছে, ব্যবহূত সিরিঞ্জ, সূচ, ব্যান্ডেজ, গজ, ব্লাড ব্যাগ, স্যালাইন ব্যাগ ছাড়াও রক্ত, পূঁজযুক্ত তুলা, টিউমার, ওষুধ ও ওষুধের বোতলসহ বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য। এভাবে খোলা জায়গায় এসব বর্জ্য অপসারণ করায় যক্ষ্মা, চর্মরোগসহ নানা সংক্রামক রোগের ঝুঁকিতে পড়ছেন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। পাশাপাশি ডিপথেরিয়া, হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি এবং এইডসের ঝুঁকিতেও পড়ছেন। এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেডিক্যাল অফিসার শেখ মোস্তফা আলী বলেন, বর্জ্য মানেই ঝুঁকিপূর্ণ। যদি কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা না নিয়ে বর্জ্য অপসারণ করা হয় তাহলে রোগাক্রান্ত হওয়ার শতকরা ১০০ ভাগ আশঙ্কা রয়েছে। এত মারাত্মক ঝুঁকিতে থেকেও এ বিষয়ে একেবারেই অজ্ঞ পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। বিশেষ করে সিটি করপোরেশনের হরিজন সম্প্রদায়ের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা এ বিষয়টিকে পাত্তাই দিতে চান না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী বলেন, ‘এ কাজ বহু বছর ধরে করি। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত খালি হাত, পায়ে এবং মুখোশ না পরেই কাজ করি। আমাদের কিছু হয় না। আমাদের এসব পরার প্রয়োজন নেই।’ এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন হিরণ বলেন, ‘আমরা তাদেরকে গ্লাভস, মুখোশ, জুতা এমনকি রেইন কোটও দিয়ে দেই। কিন্তু তারা এসব ব্যবহার না করে বাইরে বিক্রি করে দেয়।’ তিনি আরো বলেন, তাদের মধ্যে যাতে সচেতনতা তৈরি হয় এ জন্য বারবার তাদেরকে স্থাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন ঝুঁকির কথা বুঝিয়ে বলি। এমনকি তাদের বেতন আটকে দেই। তারপরও তারা এগুলো ব্যবহার করেন না। তবে কেউ কেউ এখন এগুলো ব্যবহার করতে শুরু করেছেন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন