ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
২৭ °সে

হালদায় রেকর্ড ২৫৫৩৬ কেজি ডিম সংগ্রহ

হালদায় রেকর্ড ২৫৫৩৬ কেজি ডিম সংগ্রহ
চট্টগ্রাম : হালদা নদীতে ডিম ছাড়তে শুরু করেছে মা-মাছেরা। জেলেরা সেই ডিম সংগ্রহ করতে ব্যস্ত                —মোস্তাফিজুর রহমান

‘দূষণ রোধে সরকারের কঠোরতায় এক যুগে সর্বোচ্চ ডিম সংগ্রহ’

চট্টগ্রাম অফিস

দেশে কার্পজাতীয় মাছের একমাত্র প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে মা-মাছ। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে ছয় শতাধিক ডিম সংগ্রহকারী ডিম সংগ্রহ করতে শুরু করেন। এ সময় হালদা নদী ও তীরবর্তী এলাকায় উত্সবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গতকাল প্রায় ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম সংগ্রহ হয়েছে যা গত ১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ আহরণ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকেই মা-মাছেরা নমুনা ডিম ছাড়তে শুরু করে। তবে গতকাল সকাল থেকে পুরোদমে ডিম ছাড়া ও আহরণ শুরু হয়। চবি হালদা রিসার্চ ল্যাব, মত্স্য অধিদপ্তর ও উন্নয়ন সংস্থা আইডিএফের তিনটি টিম এবার মা-মাছের ডিম সংগ্রহের কর্মযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেছে। হালদা নদীর কাগতিয়ার আজিমের ঘাট, খলিফার ঘোনা, পশ্চিম গহিরা অঙ্কুরী ঘোনা, বিনাজুরী, সোনাইর মুখ, আবুরখীল, সত্তারঘাট, দক্ষিণ গহিরা, মোবারকখীল, মগদাই, মদুনাঘাট, উরকিচর এবং হাটহাজারী গড়দুয়ারা, নাপিতের ঘাট, সিপাহির ঘাট, আমতুয়া, মার্দাশা ইত্যাদি এলাকায় ডিম পাওয়া গেছে বেশি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা বিশেষজ্ঞ ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘আমাদের হিসাব অনুযায়ী ২৮০টি নৌকায় ৬১৫ জন ডিম সংগ্রহকারী এবার মাছের ডিম সংগ্রহ করেছেন। তারা এবার ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি মাছের ডিম সংগ্রহ করতে পেরেছেন। এই পরিমাণ গত ১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। হালদা নদীর দূষণ রোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে এবার রেকর্ড পরিমাণ ডিম সংগ্রহ হয়েছে।’ হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানিয়েছেন, ‘ডিম ছাড়ার পর মা-মাছগুলো খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ সময় যাতে কেউ মাছ শিকার করতে না পারে সেজন্য প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’

জানা গেছে, ২০১৯ সালে হালদা থেকে ৭ হাজার কেজি, ২০১৮ সালে ২২ হাজার ৬৮০ কেজি মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল। সচরাচর ৪০-৬০ কেজি ডিম থেকে এক কেজি রেণু হয়। এটি নির্ভর করে ডিম সংগ্রহকারীদের তত্পরতা, আবহাওয়া, পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ, তাপমাত্রা, অভিজ্ঞতা, পরিচর্যা ও পরিবেশের ওপর। ডিম সংগ্রহের পর থেকে শুরু হয় রেণু ফোটানোর কাজ। চার দিন পর রেণু উত্পাদনের পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ডিম সংগ্রহকারীরা এখন রেণু ফোটানোর কাজে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। উন্নত জাতের হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাছ চাষিদের কাছে হালদার পোনার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৪ জুন, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন