লক্ষ্মীপুরে অপরাধের ঘটনায় জব্দকৃত হাজারো যানবাহন নষ্ট হচ্ছে

সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মো. আবদুল মালেক, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুর: জেলার বিআরটিএ অফিসের সম্মুখে খোলা জায়গায় স্তূপ করে রাখা জব্দকৃত বিভিন্ন যানবাহন —ইত্তেফাক

লক্ষ্মীপুরে বছরের পর বছর খোলা জায়গায় পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় জব্দকৃত কয়েক হাজার মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এসব গাড়ি যথাযথভাবে সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। তবে পুলিশ বলছে, জব্দ এসব গাড়ির বেশিরভাগই চোরাই। সঠিক কাগজপত্র না থাকায় দেওয়া যাচ্ছে না এসব মোটরসাইকেল ও গাড়ি। এ ছাড়া মামলার জটিলতার কারণে আটক হওয়া যানবাহনগুলো নিলাম করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

সরেজমিনে লক্ষ্মীপুর বিআরটিএ অফিস ও পুলিশ লাইন্সে গিয়ে দেখা গেছে, হাজারো মোটরসাইকেলের স্তূপ। মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে প্রাইভেটকার ও সিএনজি চালিত অটোরিকশাও রয়েছে এখানে। স্তূপে রাখা গাড়িগুলোর মধ্যে বিভিন্ন নামি-দামী ব্র্যান্ডের গাড়িও রয়েছে। তবে রোদ-বৃষ্টি আর ধুলার আস্তরণে বোঝার উপায় নেই কোনোটা সচল আর কোনোটা অচল। সরকারি মালখানায় বছরের পর বছর অযত্নে পড়ে থাকায় কিছু গাড়ির কাঠামো ও চেসিস ছাড়া অবশিষ্ট কিছুই নেই।

জানা যায়, বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় জব্দ করা যানবাহন সরকারি মালখানায় পাঠায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। পরে আইনি জটিলতার কারণে অনেক মালিকই ছাড়িয়ে নিতে পারেন না তার গাড়ি। তাই দিন-দিন এভাবে জমে গাড়ির স্তূপ তৈরি হয়েছে। লক্ষ্মীপুরে সরকারি মালখানায় বিভিন্ন সময় জব্দ করা মোটরসাইকেলের সংখ্যা ২ হাজারের বেশি।

এদিকে সফিক উল্যা, মিলন ব্যাপারী ও আবদুল হাই নামে কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, বছরের পর বছর এসব জব্দ গাড়ি খোলা আকাশের নিচে রোদে-বৃষ্টি পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া গাড়ির বেশিরভাগ যন্ত্রাংশ ও ব্যাটারি খুলে নেওয়ারও অভিযোগ করেন তারা। দ্রুত এসব গাড়ির মামলা নিষ্পত্তি করে নিলামে দেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।

লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন বলেন, এভাবে সম্পদ অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করার পরও কেন এর সুরাহা হচ্ছে না, তা বুঝতে পারছি না। দ্রুত এসব মামলা নিষ্পত্তি করলেই সম্পদগুলো রক্ষা পাবে। সরকারও রাজস্ব পাবে।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন বলেন, যেসব গাড়ি রয়েছে তার মধ্যে বেশিরভাগই মামলার আলামত হিসেবে পড়ে রয়েছে। এ ছাড়া জব্দ এসব গাড়ির বেশিরভাগই চোরাই। সঠিক কাগজপত্র না থাকায় দেওয়া যাচ্ছে না এসব মোটরসাইকেল। তবে জব্দ এসব গাড়ির বিষয়ে অল্প সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।