ঢাকা সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬
২৪ °সে

সাতকানিয়ায় নারী শ্রমিকরা মজুরি বৈষম্যের শিকার!

সাতকানিয়ায় নারী শ্রমিকরা  মজুরি বৈষম্যের শিকার!
সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম): সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের গারাংগিয়া হাতিয়ারকুল বিলে বোরো ক্ষেতে আগাছা নিড়ানির কাজে ব্যস্ত নারী শ্রমিকরা —ইত্তেফাক

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় নারী শ্রমিকরা বেতন বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পুরুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে সন্ধ্যায় পারিশ্রমিক পান পুরুষ শ্রমিকের অর্ধেক বা দুই তৃতীয়াংশ। দিনে ১০-১১ ঘণ্টা পরিশ্রম করে বাড়ি ফিরতে হয় ২৫০-৩০০ টাকা মজুরি নিয়ে। অথচ তারাই করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত ধান ক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার, বীজতলা থেকে ধানের চারা উত্তোলন, রাজমিস্ত্রির জোগালি, নির্মিতব্য দালানে ইট, বালু, সিমেন্ট, খোয়া উত্তোলনের কাজ।

একদিকে পারিশ্রমিক কম, অপরদিকে পুরুষ শ্রমিক ও মালিক পক্ষের নানা ধরনের কটূক্তি শুনতে হয় তাদের। তারপরও এলাকার অনেক নারী শ্রমিক সংসারের অভাব-অনটন দূর করতে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন নিরন্তর। এতকিছুর পরও মজুরি পাওয়ার ক্ষেত্রে মজুরি কমছে বৈ বাড়ছে না।

গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে নারী শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায় মজুরি বৈষম্যের অনেক তথ্য। উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের গারাংগিয়া এলাকার মৃত শমসুল ইসলামের স্ত্রী নজিমা খাতুন (৫৫)। স্বামীর মৃত্যুর পর ১ ছেলে ও মেয়ের সব দায়-দায়িত্ব পড়ে তার উপর। শ্রমিকের কাজ করে এখন তার সংসার চলে।

উপজেলার গারাংগিয়া হাতিয়ারকুল বিলে বোরো ক্ষেতে আগাছা নিড়ানির কাজে নিয়োজিত শ্রমিক জাকেরা খাতুন, জাহানারা, ফরিদা, কুলসুমা আরো কয়েকজন জানান বেতন বৈষম্যসহ নানা প্রতিকূলতার কথা। তারা বলেন, সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত কাজ করে বেতন পান ২৫০-৩০০ টাকা। অথচ ওই একই সময় কাজ করে পুরুষ শ্রমিকরা বেতন পান ৫০০-৬০০ টাকা। নারী শ্রমিক জাকেরা জানান, আমরা কাজে আসি সকাল ৭টায় আর পুরুষরা আসে ৮টায়। অপর দিকে, সকলে বাড়ি ফিরি বিকাল ৬টায়। এক ঘণ্টা বেশি কাজ করি তারপরও আমাদের বেতন বাড়ে না। সারাদিন শ্রমিকের কাজ করে আবার সংসারের কাজও করতে হয়।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন