ঢাকা সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬
২৮ °সে


মানিকগঞ্জের চার জয়িতার গল্প

মানিকগঞ্জের চার  জয়িতার গল্প

শহিদুল ইসলাম সুজন, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় চারজন জয়িতা নির্বাচিত হয়েছেন। এরা হলেন শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী শিল্পী রানী সূত্রধর, সফল জননী হিসেবে নারী রুবি আক্তার, দারিদ্র্যকে মুছে ফেলে সচ্ছল হওয়ায় ক্ষেত্রে ছখিনা বেগম ও নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করা মাহবুবা ইসলাম।

দৌলতপুর উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নের গাজীছাইল গ্রামের নিমাই চন্দ্র সূত্রধরের মেয়ে শিল্পী রানী সূত্রধর বলেন, ‘আমার জন্ম অতিদরিদ্র পরিবারে। যেখানে শুধু দারিদ্র্যই নয়, অশিক্ষার প্রাচীর দ্বারা ঘেরা পরিবারটি। আমার পিতার নিজস্ব কোনো জমি ছিল না, অন্যের বসতভিটায় ঘর তুলে থাকি। আমি লেখাপড়ার পাশাপাশি বাড়িতে হাঁস, মুরগি ও ছাগল পালন শুরু করি। অষ্টম শ্রেণি পাস করার পর টিউশনি করি। এভাবেই এসএসসিতে জিপিএ ৩.৬৩ ও এইচএসসিতে জিপিএ ৪.২৮ পাই। পরে মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ থেকে বিবিএস এবং এমবিএস (ব্যবস্থাপনা বিভাগ) পাস করি। আমি বর্তমানে মানিকগঞ্জ হোলি চাইল্ড স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি টিউশনি করে আমার দরিদ্র বাবাকে সংসার চালাতে সাহায্য করি এবং ছোট ভাইয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাই। পাশাপাশি গ্রামের বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সচেতনতায় কাজ করি।’

উপজেলার চকমিরপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের মো. লুত্ফর রহমানের মেয়ে রুবি আক্তার বলেন, ‘আমার জন্ম অতিদরিদ্র পরিবারে। দারিদ্র্যদের কারণে স্কুলে পাঠায়নি পরিবার। একদিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা আমাদের বাড়িতে এসে মা-বাবাকে বুঝান এবং বলেন স্কুলে বিনাবেতনে ভর্তি ও বই দেওয়া হয়। পরে আমাকে স্কুলে ভর্তি করে দেয় পরিবার। অষ্টম শ্রেণি পাস করার পর বাড়িতে হাঁস-মুরগি পালন করি এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়াই। এসএসসি শেষে যুব উন্নয়ন অফিস থেকে সেলাই, কম্পিউটার ও গবাদি পশু পালনের প্রশিক্ষণ নেই। আমি বর্তমানে দৌলতপুর সরকারি মতিলাল ডিগ্রি কলেজে ডিগ্রি ফাইনাল ইয়ারে পড়ছি।’

উপজেলার চকমিরপুর ইউনিয়নের চরমাস্তুল গ্রামের মো. সুরুজ মন্ডলের স্ত্রী ছখিনা বেগম বলেন, ‘আমি আমার বাবার প্রথম কন্যা সন্তান। বাবা একজন প্রতিবন্ধী ও হতদরিদ্র মানুষ, দারিদ্র্য কি জিনিস তা আমি ছোট থেকেই বুঝি। আমাদের সম্বল বলতে ছিল থাকার একটি ছোট ছনের ঘর। বাবা ১২ বছর বয়সেই গ্রামবাসীর সহযোগিতায় আমাকে বিয়ে দেন। স্বামী একজন ভ্যানচালক, তার রোজগারের সামান্য টাকা দিয়েই সংসার চলত। বর্তমানে দুই বিঘা জমি, চারটি গরু ও পাকা একটি ঘর করেছি। আমার তিন ছেলে ও এক মেয়ে লেখাপড়া করছে। বর্তমানে আমি সচ্ছলভাবে চলছি।’

উপজেলার চকমিরপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের মো. আব্দুল রহমানের মেয়ে মাহবুবা ইসলাম বলেন, ‘বাবার মৃত্যুর পর মা ভাইকে ঢাকায় কাজে পাঠিয়ে দেয়। ভাইয়ের রোজগারের পাঠানো সামান্য টাকা এবং মায়ের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ধান ছাঁটাই করে পাওয়া টাকায় আমার পড়ার খরচ চলতো। এভাবে আমি গত ২০১১ সালে এসএসসি পাস করি এবং পাশাপাশি প্রাইভেট পড়াই। গত ২০১৩ সালে এইচএসসি পাস করি। একই বছর বেকার একটি ছেলের সাথে আমার বিয়ে হয়। আমার একটি কন্যা সন্তান আছে, কন্যা সন্তানের কারণে শ্বশুর-শাশুড়ি আমাকে দেখতে পারে না। এখন আমি ভাড়া বাড়িতে থাকি। যুব উন্নয়ন অফিসে সেলাই কাজ শিখেছি, স্বামী কসমেটিকসের্ দোকান দিয়েছে।’ নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করা মাহবুবা ইসলাম সকলের দোয়া চেয়েছেন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন