ঢাকা শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬
২৮ °সে


রূপগঞ্জে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে গৃহ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

রূপগঞ্জে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে গৃহ  নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) : আশ্রয়ণ প্রকল্পে নির্মিত একটি ঘর —ইত্তেফাক

নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে ১২৬টি গৃহনির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি জমিতেও গৃহনির্মাণ করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানিয়েছেন প্রকল্পের উপকারভোগীরা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ প্রকল্পে যার ১ থেকে ১০ শতাংশ জমি আছে—ঘর নেই, তাঁর নিজ জমিতে গৃহনির্মাণে একটি ঘরের জন্য ভ্যাট ও ট্যাক্স ছাড়া ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের দেওয়া তালিকা যাচাই-বাছাই করে উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা থেকে গৃহহীনদের নির্বাচিত করা হয়। এ তালিকা নির্বাচন করার ক্ষেত্রেও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থের লেনদেনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে গৃহহীনদের পুনর্বাসিত করার জন্য এ প্রকল্প সরকার হাতে নেয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সভাপতি, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে সদস্য করে কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামানকে সভাপতি করে ক্রয় কমিটি গঠন করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মুড়াপাড়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের বিধবা শাহিনা আক্তারের ঘরের জানালার রড লাগানো হয়নি। রূপগঞ্জ ইউনিয়নের বাগবের গ্রামের বিধবা আকলিমার ঘরের খুঁটি নড়বড়ে। এছাড়া অধিকাংশ ঘরে নিম্নমানের কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। কোনো কোনো ঘরের চারদিকে আগাছা ভর্তি। নির্জন স্থানে সরকারি জমিতেও ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বসতঘর আছে এমন ব্যক্তিকে অর্থের বিনিময়ে এ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সামান্য ঝড়েই ঘরের লোকজনকে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবেদ আলী সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উপযুক্ত ঠিকাদার না পাওয়ায় তাঁর গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঘর নির্মাণের লোকজন আনা হয়েছে। যথানিয়মেই তিনি মালামাল ক্রয় করেছেন। তবে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অবাস্তব। ক্রয় কমিটির সদস্য সচিব তত্কালীন রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বর্তমান মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঐ সময় বেশকিছু ঘর পরিদর্শন করা হয়েছিল। তখন নির্মাণকাজ শেষ না করা ১৩টি ঘরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়। তবে মালামাল ক্রয়ের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন না।

নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম বলেন, আমার আমলে এ প্রকল্পের ঘর নির্মাণকাজ করা হয়নি। তবে অভিযোগ পেলে সুুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন