ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬
২৪ °সে


এইচএসসি পরীক্ষা প্রস্তুতি

এইচএসসি পরীক্ষা প্রস্তুতি

অলোক কুমার মিস্ত্রী

প্রভাষক

জীববিজ্ঞান বিভাগ

সরকারি বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ, পিরোজপুর।

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, আজ তোমাদের জীববিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্রের ১ম ও ২য় অধ্যায়ের প্রাণীর বিভিন্নতা, শ্রেণিবিন্যাস ও প্রাণীর পরিচিতি-বিষয়ের ওপর সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর উপস্থাপন করবো, যা ২০২০ সালের এইচএসসি সকল বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সৃজনশীল প্রশ্ন ঃ

(ক) স্পনিং কী? ১

(খ) সকল কর্ডেট মেরুদণ্ডী নয় কেন? ২

(গ) চিত্র A ও B এর মধ্যে কোন প্রক্রিয়াটিতে উক্ত প্রাণীটি লম্বা দূরত্ব অতিক্রম করে? -ব্যাখ্যা কর। ৩

(ঘ) চিত্রে প্রদর্শিত প্রাণীটিকে বহুমাথাবিশিষ্ট রূপকথার দানব বলা হয় কেন?- বিশ্লেষণ কর। ৪

(ক) স্পনিং : নির্দিষ্ট প্রজনন ঋতুতে মাছের ডিম পাড়াকে স্পনিং বলে। মা মাছ নির্দিষ্ট সময়ে পানিতে ডিম ছাড়ে। পুরুষ মাছ তার উপর শুক্রাণু (Sperm) ছড়িয়ে দেয়।

(খ) উত্তর : কর্ডেট প্রাণীদের তিনটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- ১. স্থিতিস্থাপক নটোকর্ড

২. পৃষ্ঠীয় ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু

৩. গলবিলীয় ফুলকারন্ধ্র। এসকল বৈশিষ্টাবলী সকল কর্ডেটদের জীবনের যেকোনো দশায় কিংবা আজীবন দেখা যায়। Chordata পর্বের দুটি উপপর্ব- Urochordata Cephalochordata এর সদস্যদের ক্ষেত্রে কর্ডাটার বৈশিষ্ট্য আজীবন পাওয়া যায়। Vertebrata উপপর্বের ক্ষেত্রে ভ্রুণাবস্থায় নটোকর্ড থাকলেও পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় তা কশেরুকা নির্মিত মেরুদণ্ডে প্রতিস্থাপিত হয়ে থাকে। আর এ কারণেই এদের মেরুদণ্ডী (Vertebrate) বলে। তাছাড়াও স্নায়ুরজ্জুটি মস্তিষ্ক ও সুষুষ্মাকাণ্ড দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়ে থাকে এবং ফুলকারন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়। ফুলকার পরিবর্তে ফুসফুসের আবির্ভাব ঘটে।

এ কারণেই সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীই কর্ডেট। তবে সকল কর্ডেট মেরুদণ্ডী নয়।

(গ) উত্তর : চিত্র A ও B এর মধ্যে হাইড্রা যথাক্রমে চিত্র A অর্থাত্ হামাগুড়ি (Looping) প্রক্রিয়াটির মাধ্যমে লম্বা দূরত্ব অতিক্রম করে থাকে। নিম্নে হামাগুড়ি (Looping) প্রক্রিয়ার বর্ণনা দেয়া হলো-

লুপ (Loop) গঠনের মধ্য দিয়ে Hydra প্রথমে কর্ষিকার উপর সোজা হয়ে দাঁড়ায়। অতপরঃ গমন পথের দিকে দেহকে যতটা সম্ভব বাঁকিয়ে এবং কর্ষিকার দ্বারা চলনতলকে স্পর্শ করে। এ সময় কর্ষিকার গ্লুটিন্যান্ট নেমাটোসিস্ট এক প্রকার আঠালো রস ক্ষরণ করে চলনতল আঁঁকড়ে ধরতে সাহায্য করে। এক পর্যায়ে Hydra পেশি আবরণী কোষের সংকোচন দ্বারা পাদচাকতিকে টেনে কর্ষিকা বা মুখের কাছাকাছি নিয়ে আসে। এভাবে একটি লুপ(Loop) তৈরি করে। এরপর আবার কর্ষিকাগুলোকে তল হতে মুক্ত করে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। একই পদ্ধতি পুন:পুন: অনুসরণ করে Hydra অতি ধীর গতিতে হামাগুড়ি চলন সম্পন্ন করে লম্বা দূরত্ব অতিক্রম করে থাকে।

(ঘ) উত্তর : চিত্রে প্রদর্শিত প্রাণীটিকে বহুমাথাবিশিষ্ট রূপকথার দানব বলার কারণ, এই প্রাণীটি গ্রীক রূপকথার বহুমাথাবিশিষ্ট ড্রাগন নামক দৈত্যের মতো হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ইন্টারস্টিশিয়াল কোষের দ্বারা পুন:রুত্পত্তির মাধ্যমে পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম। বিজ্ঞানী আব্রাহাম ট্রেম্বলে ১৭৪৪ সালে Cnidarian এই প্রাণীটি শনাক্ত করেন। বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস এর নাম দেন Hydra। বিজ্ঞানী আব্রাহাম ট্রেম্বলে তার গবেষণাকালে এই প্রাণীটিকে লম্বালম্বিভাবে বিভক্ত করে দেখতে পান, সাত মস্তকবিশিষ্ট Hydra জন্ম হয়। Cnidaria পর্বের দ্বিস্তরী এই প্রাণীটিকে শাখান্বিত উদ্ভিদের মতো দেখায় বলে এদের প্রথমে Zoophyta বলা হত। পরবর্তীতে এদের দেহের গঠন বৈশিষ্ট্য, বহুরূপতা, অরীয় প্রতিসাম্যতা এবং কোষ-কলার মাত্রার বৈশিষ্ট্যের কারণে Cnidaria ভূক্ত প্রাণী বলে বিজ্ঞানীমহলে বিবেচিত হয়। এই প্রাণীটির রূপকথার দানবের মতো ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গ পুনরায় সৃষ্টি করার ক্ষমতা থাকায় এদের বহুমাথাবিশিষ্ট রূপকথার দানব বলা হয়ে থাকে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৪ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন