ঢাকা বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
১৯ °সে


আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র ধারণাটি বুঝিয়ে লিখো

আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র ধারণাটি বুঝিয়ে লিখো

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

মো. আতিকুল ইসলাম (জাহিদ)

সহকারি শিক্ষক

রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, রাজশাহী

পূর্ব বাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

পত্রিকায় ভারতের পাঁচ বিধান সভা নির্বাচনের বেসরকারী ফলাফল পড়ার পর জনাব ঈসমাইল সিকদারের এমন এক নির্বাচনের কথা মনে পড়ল যে নির্বাচনে তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে স্ব-শাসন ও আত্ম প্রতিষ্ঠার দাবি আদায় করতে চেয়েছিলেন। এ সুযোগটি তার ভূখণ্ডের ৩ কোটি ২২ লাখ জনগণের ছিল।

ক. কত সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস হিসেবে দেশব্যাপী পালিত হয়ে আসছে?

খ. আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র ধারণাটি বুঝিয়ে লিখো।

গ. উদ্দীপকের জনাব ঈসমাইল সিকদারের কোন ঐতিহাসিক ঘটনার কথা মনে পড়ে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. তুমি কি মনে করো, উক্ত ঐতিহাসিক ঘটনা স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আগমনী বার্তা বহন করে এনেছিল? তোমার উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

ক. উত্তর: ১৯৫৩ সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস হিসেবে দেশ ব্যাপী পালিত হয়ে আসছে।

খ. উত্তর: সামরিক শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্র নামে একটি ব্যবস্থা চালু করেন। এই ব্যবস্থায় পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে মোট ৮০ হাজার নির্বাচিত ইউনিয়ন কাউন্সিল সদস্য নিয়ে নিবার্চকমণ্ডলী গঠন হয়। তাদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিধান রাখা হয়। এ ছিল পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি। ১৯৬৫ সালে ৮০ হাজার মেম্বারের ভোটে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

গ. উত্তর: উদ্দীপকে জনাব ঈসমাইল সিকদারের যে ঐতিহাসিক ঘটনার কথা মনে পড়ে তা হলো অবিভক্ত পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের নির্বাচন। ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ইস্তফা দেন। ইয়াহিয়া খান উক্ত পদে আসীন হন। তিনি ২৮ মার্চ তারিখ এক ঘোষণায় পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। অবশেষে ১৯৬৯ সালের ৭ ডিসেম্বর সর্বপ্রথম “ একব্যক্তি এক ভোটের” ভিত্তিতে জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যেমন আওয়ামীলীগ , ন্যাপ, মুসলিমলীগ, পাকিস্তান পিপলস পার্টি সহ আরো অনেক রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহণ করে। আওয়ামীলীগ ৬ দফার পক্ষে নির্বাচনকে গণভোট হিসেবে অবহিত করে। নির্বাচনে ৫ কোটি ৬৪ লাখ ভোটারের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানে ছিল ৩ কোটি ২২ লাখ । ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৬৯ টি আসনের মধ্যে ১৬৭ টি আসন লাভ করে। ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ৩০০ টির মধ্যে ২৮৮ টি আসন আওয়ামীলীগ পায়। নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ যেহেতু, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে ভোটার ছিল ৩ লাখ ২২ হাজার এবং পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ স্ব-শাসন প্রতিষ্ঠা, আত্ম প্রতিষ্ঠার দাবী আদায়ের জন্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আওয়ামীলীগকে বিজয়ী করে যেহেতু জনাব ঈসমাইল হোসেনের অবিভক্ত পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের নির্বাচনের কথা মনে পড়ে।

ঘ. উত্তর: উদ্দীপকের ঐতিহাসিক ঘটনা হলো ১৯৭০ সালের নির্বাচন। স্বাধীন বাংলাদেশে আগমনী বার্তা বহন করে এনেছিল, আমি এই বক্তব্যের সাথে একমত।

১৯৭০ সালের অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে। ফলে ৬ দফা ও ১১ দফার প্রতি জনগণের আকুণ্ঠ সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়, বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিজয় ঘটে। এই নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে যে, ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসাবে পাকিস্তানের কোন বাস্তবভিত্তি নাই। ইহার মাধ্যমে পাকিস্তানের দুই অঞ্চলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের মধ্যে যে আকাশচুম্বী ব্যবধান ছিল তাহাই সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার ও স্বার্থান্বেষী মহলের জন্য এটি ছিল বিরাট পরাজয়। তারা বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিরোধীতা করে এবং ষড়যন্ত্র আঁঁটতে থাকে। পূর্ব বাংলার জনগণ পশ্চিম পাকিস্তানের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে অবস্থান গ্রহণ করে। নির্বাচনের ফলাফল এই চেতনাকে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করে। ভুট্টোর অনমনীয় মনোভাব, সংখ্যা গরিষ্ঠ দলের প্রতি অসহিষ্ণু, অশোভনীয় আচরণ ও বাচনভঙ্গি পাকিস্তানের ভাঙ্গনকে ত্বরান্বিত করে। এজন্য অনেকে ১৯৭০ সালের নির্বাচনকে পাকিস্তানের মৃত্যুর বার্তাবাহক বলে মনে করেন। ভাষা আন্দোলনের সৃষ্ট বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদী শক্তির বিজয় ঘটে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।

পরিশেষে বলা যায়, ১৯৭০ সালের নির্বাচন বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক অগ্রযাত্রাকে মুক্তিযুুদ্ধের চরিত্রদানে বিশাল ভূমিকা রাখে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের আগমনী বার্তা বহন করে। পরিণতিতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদ্বয় ঘটে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১১ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন