ঢাকা সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬
২৪ °সে

বাংলা বানানের নিয়ম-কানুন ‘ষ-ত্ব’ বিধানের নিয়ম-২

বাংলা বানানের নিয়ম-কানুন ‘ষ-ত্ব’ বিধানের নিয়ম-২

সুপ্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, আমরা বাঙালি । বাংলা আমাদের মাতৃভাষা, প্রাণের ভাষা। প্রত্যেক ভাষারই বানানের কিছু নিয়ম আছে। বাংলা ভাষার বানানেরও বিশেষ কিছু নিয়ম রয়েছে। এই নিয়ম সময় বদলের সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা আধুনিক করা হয়। তাই তো আমাদের নিয়মিত চর্চা করা প্রয়োজন। তাহলে এসো গত সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় আজকে আমরা ‘ষ-ত্ব’ বিধানের আরও কিছু নিয়ম জেনে নিই।

১। যদি দুটি পদের মধ্যে প্রথম পদের শেষে ই,উ, ঋ ও থাকে এবং দ্বিতীয় পদের আদিতে দন্ত ‘স’ থাকে এবং সেই দুটি পদ সমাসে মিলিত হয়,তাহলে দ্বিতীয় পদের আদ্য ‘স’ মূর্ধণ্য ‘ষ’ হয়ে যায়। যেমন: যুধি+স্থির=যুধিষ্ঠির , গো+স্থ=গোষ্ঠ, সু+সম্?=সুষম, বি+সম্?=বিষম ইত্যাদি।

২। ষ-ত্ব বিধি অনুযায়ী সন্ধিতে বিসর্গযুক্ত ই-কারের উ- কারের পর ক,খ,প,ফ, বর্ণসমূহের যে কোনটি থাকলে দন্ত ‘স’ না হয়ে মূর্ধণ্য ‘ষ’ হয়। যেমন : আবিঃ+কার = আবিষ্কার, এরূপ নিষ্পফল,নিষ্কন্টক,নিষ্পেষণ,আয়ুষ্কাল,নিষ্কৃতি ইত্যাদি।

৩। সম্ভাষণসূচক শব্দে পুরুষ সম্ভোধনে অর্থাত্ এ কারের পর মূর্ধণ্য ‘ষ’ হয়। যেমন: স্নেহাস্পদেষু, স্নেহভাজনেষু, প্রীতিভাজনেষু, প্রিয়বরেষু, কল্যাণীয়েষু

(কিন্তু কল্যাণীয়াসু- কারণ দন্ত্য স এর আগে আ আছে)।

৪। ষ-ত্ব বিধানের নিয়মে তত্সম শব্দে ঠ এর পূর্বে মূর্ধণ্য ষ’ হয়। যেমন : নিষ্ঠা, বিষ্ঠা, প্রতিষ্ঠা, সুষ্ঠু, নিষ্ঠুর, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ, অতিষ্ঠ, পাপিষ্ঠা, কনিষ্ঠ, শ্রেষ্ঠ ইত্যাদি।

৫। প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী ‘ ঈ, ঊ, ঋ এবং এদের কার চিহ্নযুক্ত সকল শব্দই তত্সম। ঈষ, ঊষা, ঋষি, ভীষণ,বিভীষণ,বিভীষিকা, মনীষী, ভূষণ, দূষিত, দূষণ, দূষণীয় ইত্যাদি।

৬। কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ষ’ হয়। যেমন: ঔষধ, ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, মানুষ, ষড়যন্ত্র ইত্যাদি।

বন্ধুরা, এবার আমরা কোন্? কোন্? ক্ষেত্রে মূর্ধণ্য ‘ষ’ ব্যবহার করা যায় না , সে সম্পর্কে জেনে নেই।

১। সংস্কৃত সাত্’ প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ‘ষ’ হয় না। যেমন : অগ্নিসাত্, ধূলিসাত্, ভূমিসাত্ ইত্যাদি।

২। অ: বা আ: থাকলে তারপরে ক, খ, প, ফ ছাড়া ‘ত’ থাকলেও স হয় । যেমন: মন:+তাপ = মনস্তাপ,শির:+ত্রাণ= শিরস্ত্রাণ ইত্যাদি।

৩। ষ-ত্ব বিধানের নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দে আ- কারের পর ‘ষ’ না হয়ে স হয় । যেমন- মাননিয়াসু, স্নেহাস্পদাসু,পূজনিয়াসু, সুচরিতাসু, সপ্রিয়াসু ইত্যাদি।

৪। কিছু শব্দে স্বাভাবিকভাবেই মূর্ধণ্য ‘ষ’ না হয়ে তালব্য’শ’ হয়। যেমন: আদর্শ, নিদর্শন,দর্শন, পরামর্শ,পার্শ্ব, সুদর্শন,বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি।

৫। কিছু শব্দে ষ-ত্ব বিধানের ব্যতিক্রম রয়েছে। এ সব বানানে মূর্ধণ্য’ষ’ না হয়ে দন্তস্য’স’ হয়। যেমন : পরিস্থিতি, বিসর্গ, বৈসাদৃশ্য, স্মৃতি, বিস্মৃতি ইত্যাদি।

(সূত্র: ভাষা শিক্ষা ও ব্যাকরণ-মাহবুবুল আলম,মাধ্যমিক বাংলা নির্মিতি ও ব্যাকরণ-অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী ও অধ্যাপক ড.সফিউদ্দিন আহমেদ।)

তুলনীয় অর্থে : আভাস ( ইঙ্গিত ), কশা ( চাবুক ), বর্শা ( সড়কি/বল্লম ),বিশ (কুড়ি ), শর ( তীর/তৃণবিশেষ), সুভাস ( দিপ্তী ), শোল ( মাছবিশেষ )।

( বাংলাদেশের ভাষা-পরিকল্পনা পর্যালোচনা ও প্রস্তাব- জাহাঙ্গীর আলম জাহিদ )

আরও জানতে চোখ রাখুন দৈনিক ইত্তেফাক-এর অনুশীলন পাতায় ও ফেইসবুক পেইজের “ বাংলা বানানের নিয়ম-কানুন” গ্রুপে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন